আজ নরওয়েতে অ্যান্ড্রু ব্রেইউইক যে অসলোয় সরকারী ভবনের কাছে ও উটোইয়া দ্বীপে যুব-শিবিরে হত্যালীলা চালিয়েছিল, তার বর্ষপূর্তি হল. দুর্ঘটনার নৃশংসতা শুধু নরওয়েকে নয়, গোটা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল.

বর্তমানে ব্রেইউইক আদালতের রায় ঘোষণার অপেক্ষায় আছে. মামলার শুনানী চলাকালে আসামীপক্ষ তাকে পাগল সাব্যস্ত করার চেষ্টা করেছিল. সেক্ষেত্রে তাকে চিকিত্সাধীন থাকতে হবে, হয়তো সারাজীবন. স্বয়ং আততায়ী জোর দিয়ে বলছে, যে সে মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে সুস্থ. ৭৭ জন মানুষকে হত্যা করার জন্য ব্রেইউইক ক্ষমাপ্রার্থনা করেনি. যদি তাকে সুস্থ হিসাবে শাস্তিও দেওযা হয়, তবে কারাদন্ডের সর্ব্বোচ্চ মেয়াদ ২১ বছর. ব্রেইউইক নরওয়ের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকেদের বিরূদ্ধে হত্যাকান্ডের সবিস্তারে পরিকল্পনা করেছিল. গত কয়েক বছরে ইউরোপীয় দেশগুলি আগন্তুক বিদেশীদের হিংসাত্মক কার্যকলাপের মুখোমুখি হয়েছে. তবে এই ঘটনা রুশী বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির অন্তর্গত ইউরোপীয় নিরাপত্তা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ তাতিয়ানা পারখালিনার মতে, এত সহিষ্ণু দেশের নাগরিকের তরফ থেকে এরকম নৃশংসতা আশাতীত.

শুধুমাত্র আরব দুনিয়া থেকে নরওয়েতে আসা মুসলমানরা সেখানে মানিয়ে নিতে চায়নি ও পারেনি, ঐ দেশের অধিবাসীরাও ওদের মেনে নেয়নি. ব্রেইউইক যে হত্যালীলা ঘটিয়েছে, তা নারকীয় প্রতিবাদ.

ব্রেইউইকের অপরাধ অবশ্যই নরওয়ের জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে, বিশেষতঃ গুপ্তচর বিভাগের কার্যকলাপে. ব্রেইউইক আক্রমণ করার আগে বার দুয়েক ইন্টারনেটে হুমকি দিয়েছিল তার উগ্রপন্থী মতামত নিয়ে. অতঃপর গুপ্তচর বিভাগ মনোযোগ সহকারে সোস্যাল নেট-ওয়ার্কগুলো পর্যবেক্ষন করে. ঐ ঘটনা দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বদলে দিয়েছে. জাতীয় স্বার্থের রক্ষক দক্ষিণপন্থী পার্টিগুলি জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে, অন্যদিকে শাসকদল ‘লেবার পার্টি’র জনপ্রিয়তা ক্রমশঃ বাড়ছে.

ইউরোপীয় দেশগুলি বহু বছর আগে বৈচিত্রময় সংস্কৃতির বিকাশের কথা ঘোষণা করে বিদেশীদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করেছিল. এটা ছিল ইউরোপীয় সংঘ গঠনের স্বাভাবিক পরিণতি. তারা বিশ্ব পর্যায়ে উন্নীত হতে চেয়েছিল. কিন্তু লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হয়েছে. এখন ব্রেইউইকের করা অপরাধ, ফরাসী সরকারের মুসলমানদের বিরূদ্ধে জারী করা বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও সুইজারল্যান্ডে, যেখানে মুসলমানেরা জাতীয় পতাকা বদল করার দাবী জানাচ্ছে, কারণ লাল ক্রস নাকি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য অপমান – এই সবকিছুকে এক সারিতে গণ্য করা হচ্ছে. এই সবকিছু প্রমাণ করে, যে বিভিন্ন কৃষ্টি পাশাপাশি সহাবস্থান করতে পারে না. দুর্ভাগ্যবশতঃ ইউরোপ বর্তমানে বড্ড বেশি অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান নিয়ে ব্যস্ত, আর তাই সংখ্যালঘুদের সমস্যার মোকাবিলা করার ফুরসত নেই.