দুর্ভিক্ষ পৃথিবীতে বসবাসরত অধিবাসীদের শঙ্কিত করছে না, তবে কম মূল্যের খাদ্য পাওয়া যাবে না. অর্থনৈতিক সহযোগীতা ও উন্নয়ন সংস্থা(ওইয়েসিডি) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) দুটির বিশেষজ্ঞরা এই ফলাফলে উপনীত হয়েছেন. তবে এই ভবিষ্যত জরিপকে আগামী ১০ বছর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে. এই সময়ের মধ্যে কি ঘটবে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা কোন পূর্বাভাস জানান নি.

এর আগে ১৮ শতকের শেষের দিকে ইংরেজ বিজ্ঞানী টমাস মাল্টুস জনসংখ্যা – বিষয়ক সূত্র উপস্থাপন করেছিলেন এবং তার নামানুসারে একে মাল্টুজিআন সূত্র বলা হয়ে থাকে. এই সূত্রের সাথে একমত হয়ে বলা যায় যে, জনসংখ্যা অধিকহারে বৃদ্ধি পেতে থাকলে খাদ্য দ্রব্যের মূল্যও মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পায় যা কিছুটা হলেও ধীরে ধীরে দুর্ভিক্ষের দিকে নিয়ে যায়. তবে কবে তা ঘটবে?. এফএও এর সহকর্মীদের সাথে ঐত্যমতের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সহযোগীতা ও উন্নয়ন সংস্থার বিশেষজ্ঞরা তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে ধীর গতিতে কৃষিজাতীয় পণ্য ও একই সাথে মাংস ও শষ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়া কথা উল্লেখ করেছেন. এর কারণ হচ্ছে, বিশ্বের বিশাল চাষযোগ্য উর্বর জমির পরিমান হ্রাস পাচ্ছে. এরই সাথে আবার এখন শোনা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে খড়া ও খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি. এদিকে কয়েকটি কৃষি পণ্যের মূল্য ইতিমধ্যে বেড়ে গেছে. যেমন ভূট্টার দাম শতকরা ৪০ ভাগ বেড়েছে. সত্যিই কি মাল্টুস ঠিক বলেছিলেন?. বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা এমনটি বলছেন. কেউই দ্বিমত প্রকাশ করবে না যে এবারের মৌসুম হচ্ছে উচ্চমূল্যের সময়, তবে তা মোটেই দুর্ভিক্ষ ছড়াবে না. রাশিয়ার একটি গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক আন্দ্রেই সিজোভ এমনটিই বলছিলেন. তিনি জানান, ‘’আমি অনেকটা আশাবাদী এবং মাল্টুসের পূর্বাভাসকে একদমই সমর্থন জানাচ্ছি না. তিনি বলেছিলেন খাদ্যদ্রব্যের চেয়ে পৃথিবীর জনসংখ্যা বেশী থাকবে. তবে পৃথিবীর মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য রয়েছে. স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, এ ধরণের পূর্বাভাস এ বছর বা গত ১ দশকেও প্রথম নয়. এমনকি রোম ক্লাবের মত স্বনামধৈন্য সংস্থাও ৫০ দশকের দিকে পৃথিবীতে খাদ্য সংকট নিয়ে অনেক কথা বলেছিল. ওই সব পূর্বাভাসের কোনটিই বাস্তবে রুপ পায় নি. আমি মনে করছি, কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার হলে আগামী ৫,১০,২০ অথবা ৩০ বছর পর এ প্রশ্নের সমাধান হবে’’.

আন্দ্রেই সিজোভের ভাষায়, কৃষিজাতীয় পণ্যের উচ্চমূল্য শুধুমাত্র কৃষকদের আয়ের পথই সুগম করছে না বরং একই সাথে কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটানো এবং এ খাতে বিনিয়োগ সৃষ্টিতে আগ্রহী করে তুলবে.

তবে রুশ বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমীর ব্রাগিন মনে করছেন যে, খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়তবা ভিন্ন চরিত্র বহন করতে পারে. তিনি জানিয়েছেন, ‘‘আমরা যখন দেখতে পাই খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে তাহলে সাধারণত তা হয়ে থাকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে. আমার কাছে এমন উদাহরণ রয়েছে যা আমি অনেকবার বলেছি. এর সাথে জড়িত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনা যা বিপ্লবের আবির্ভাব ঘটিয়েছে এবং সঙ্গত কারণেই খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছ. এখান থেকেই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং এমনকি বিপ্লব ও ক্ষমতার পরিবর্তন. অন্যদিকে যদি উন্নত দেশের কথা বলা হয় তাহলে এখানে খাদ্যদ্রব্য ভোক্তাদের বাজারের থলির খুব একটা সামান্য অংশই দখল করে, তাই সামগ্রিক অর্থে দেশের অর্থনীতিতে কোন বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে না. তবে, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির তা বিভিন্ন দিক দিয়ে প্রভাব রাখতে পারে. এখন পর্যন্ত আমি কোন প্রকার বিপর্যয়ের অপেক্ষা করছি না’’.

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন যা আরও আশাবাদ বাড়িয়ে তুলেছে. অন্তত সব শস্যক্ষেত্রের অর্ধেক পরিমান বর্তমানে ভাল অবস্থানে রয়েছে এবং শুধুমাত্র শতকরা ২২ ভাগ উত্পাদিত দানাশস্য মারা যেতে পারে. তাই মাল্টুজিআন সূত্রের কার্যকারীতার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে.