বৃহস্পতিবার পাকিস্তানে সুপ্রীম কোর্ট নতুন প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশ্রফের কাছ থেকে রাষ্ট্রপতি জারদারির বিরূদ্ধে দুর্নীতি প্রসঙ্গে নতুন করে মামলা শুরু করার দাবী জানিয়েছে. যেমন বহু বিশ্লেষক পূর্বাভাস দিয়েছিল, যে প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ গিলানি পদত্যাগ করার পরে সংকট মিটবে না, তাই হতে চলেছে. এবং এখন পরিষ্কার, যে বন্দুক তাক করা হয়েছে মন্ত্রীসভা বা প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে নয়, রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে.

আসিফ আলি জারদারির দুর্নীতি বিষয়ে কেচ্ছা ৯০-এর দশক থেকেই চলছে, যখন তিনি তার স্ত্রী বেনজির ভুট্টোর মন্ত্রীসভায় বিভিন্ন মন্ত্রীর পদে আসীন ছিলেন. ২০০৭ সালে যখন পারভেজ মুশারফের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্রমশঃ দুর্বল হচ্ছিল তখন দুর্নীতি বিষয়ক বহু মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল. এর সুবাদে জারদারি সহ বহু সরকারী কর্মচারী ছাড় পেয়েছিল. কিন্তু ২০০৯ সালে সুপ্রীম কোর্ট আবার উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মচারীদের বিরূদ্ধে মামলা পুণরারম্ভ করার দাবী করে. প্রধানমন্ত্রী গিলানি শেষমুহুর্ত পর্যন্ত তদন্ত শুরু করার বিষয়ে প্রতিরোধ করেছিলেন, সেই কারণেই তাকে পদচ্যুত হতে হয়েছে.

গিলানির পদচ্যুতির পরে কিছুদিন মনে হয়েছিল, যে পাকিস্তানে রাজনৈতিক জীবনে উত্তেজনা হ্রাস পেয়েছে. কিন্তু স্বাভাবিক পরিস্থিতি বেশিদিন বজায় থাকলো না, সুপ্রীম কোর্ট আবার নাছোড়বান্দা হয়েছে রাষ্ট্রপতি জারদারির বিরূদ্ধে. ২৫শে জুলাইয়ের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের প্রসিকিউটরদের তদন্ত নতুন করে শুরু করার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে আদেশ দেওয়া হয়েছে.

অতএব পাকিস্তানে শুধু রাজনৈতিক সংকট গভীরতর হচ্ছে না, দীর্ঘমেয়াদী রূপ নিচ্ছে, বলছেন আমাদের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি.

 

এই সপ্তাহের শুরুতে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ লিখেছে, যে অর্থনৈতিক সমস্যা, রাজনৈতিক সংকট ও অভূতপূর্ব পরিমাপের দুর্নীতি দেশে এমন আকার নিয়েছে, যে লোকেদের শক্ত মুষ্টির শাসকের জন্য নস্টালজিয়া তৈরি হয়েছে ও ক্রমশঃই বেশিসংখ্যক পাকিস্তানবাসীরা চাইছে, যে মিলিটারি ক্ষমতায় আসুক. এটা বুঝতে পেরে বর্তমান সরকার উদ্যোগ নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে. কয়েকদিন আগে সেনেটর ফারহাতুল্লা খান বাবর পার্লামেন্টে এক খসড়া আইন পেশ করেছে, যা অনুযায়ী আই.এস.আই.এর অধীনস্থ গুপ্তচর বিভাগের উপর নিয়ন্ত্রণ সিভিল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে. পরে সে খসড়া প্রত্যাহার করে নেয় এই অজুহাত দেখিয়ে, যে এটা ছিল তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ, ক্ষমতাসীন পিপলস পার্টির নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করা হয়নি, তবে শলা-পরামর্শ করার পরে আবার ঐ প্রস্তাব পেশ করা হবে.

যাই হোক না কেন, রাষ্ট্রপতি জারদারির জমানায় সব জটিলতা ও সংকট সত্ত্বেও সেনাবাহিনীর নেতৃবৃন্দ কিন্তু ঘুনাক্ষরেও শাসন ক্ষমতা দখল করার কথা বলেনি. বরিস ভলখোনস্কির মতে বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক ও অসামরিক শক্তিদের মধ্যে দ্বন্দের ফায়দা তুলছে ‘তৃতীয় শক্তি’ – আইন শক্তি.

 

২০০৮ সালে পারভেজ মুশারফের পদত্যাগ বহুলাংশে সুপ্রীম কোর্টের সাথে গন্ডগোলের কারণে. আজ সুপ্রীম কোর্ট আবার তার ক্ষমতা প্রদর্শন করলো. শুধু গিলানির পদচ্যুতিই নয়, প্রধানমন্ত্রী আশ্রাফের কাছে দাবী ও রাষ্ট্রপতি জারদারির বিরূদ্ধে অভিযোগ. উপরোক্ত রাজনীতিজ্ঞরা ক্ষমতায় আছে সাময়িককালের জন্য, আশু নির্বাচনের পরে খুব সম্ভবত তারা আর ক্ষমতায় থাকবে না. সুপ্রীম কোর্ট আগামী বছরগুলিতে দেশে সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করছে.

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের অন্যতম অশান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তান সফর করা কালীন সুপ্রীম কোর্টের চীফ জাস্টিস ইফতিহার চৌধুরি বলেছেন, যে সুপ্রীম কোর্টই নজর রাখবে, যাতে পাকিস্তানে আইন সবার ওপরে থাকে ওসংবিধান পুরোপুরিভাবে পালন করা হয়. এটা অবশ্যই সর্বোচ্চ ক্ষমতার ঘোষণা নয়, কিন্তু তার খুব কাছাকাছি.