পশ্চিমী দুনিয়া বাশার আসাদকে অগ্নিসংবরন করার জন্য ১০ দিন সময় দিচ্ছে, অন্যথায় সিরিয়ার বিরূদ্ধে বাধানিষেধ জারী করা হবে. জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট বৃটেন, ফ্রান্স ও জার্মানীর পেশ করা প্রকল্পের খসড়ায় সে রকমই উল্লেখ করা হয়েছে. ঐ খসড়ায় সিরিয়ায় শাসক কর্তৃপক্ষ অগ্নিসংবরন না করলে পর্যবেক্ষকদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে. রাশিয়া দামাস্কাসের প্রতি চূড়ান্ত শর্ত আরোপ করার বিরূদ্ধে ও নিজস্ব খসড়াপত্র প্রস্তাব করেছে.

পশ্চিমী খসড়া জনবসতি কেন্দ্রগুলিতে সৈন্য মোতায়েন রাখা থেকে দামাস্কাসকে বিরত হওয়ার আহ্বাণ জানাচ্ছে. তাছাড়া শাসকরা ঐ সব এলাকায় ভারী সমরাস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে না. যদি ১০ দিনের মধ্যে দামাস্কাসের প্রশাসন এই সব শর্ত পালন না করে, তাহলে সিরিয়ার বিরূদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে. ঐ খসড়ায় বিরোধীপক্ষের কাছেও অবিলম্বে হিংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধ করার দাবী জানানো হয়েছে. খসড়ার একমুখী রূপের মস্কো বিরোধী. জাতিসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধির সহকারী আলেক্সান্দর পানকিন বলেছেন, যে বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর উপর কোনো বাধানিষেধ জারী করা সম্ভব নয়, কারণ তারা কাউকে পাত্তা দেয় না. বোঝাই যাচ্ছে, যে পশ্চিমী খসড়াপত্র সিরিয়ার শাসকদের বিরূদ্ধে উদ্দেশ্যকৃত. এই কথা ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলছেন রাজনীতি তত্ত্ববিদ আজার কুর্তভ.

উপরোক্ত খসড়া এই সাক্ষ্য দেয়, যে পশ্চিমী দুনিয়া বাশার আসাদকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করতে নাছোড়বান্দা. একপক্ষকে মদত দেওয়া হচ্ছে খোলাখুলিভাবে, অন্যপক্ষের মতামত অগ্রাহ্য করা হচ্ছে. বিদ্রোহীরা যে বিদেশী সাহায্য পাচ্ছে, তার প্রচুর প্রমাণ আছে. এবং ঐ সব বিদেশী শক্তি আদৌ সিরিয়ায় রক্তপাত থামানোর চেষ্টা করছে না. বরং উল্টে, তারা বিদ্রোহীদের অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে চলেছে জাতিসংঘকে এড়িয়ে.

পশ্চিমী খসড়াপত্র বুধবারে পেশ করা হয়েছে, আজ ঐ দলিল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা. এই বিষয়ে ভোট হবে ২০শে জুলাইয়ের আগে. তার পরের দিন সিরিয়ায় জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের থাকার মেয়াদ শেষ হবে. নিরাপত্তা পরিষদে আমেরিকার স্থায়ী প্রতিনিধি সুজান রাইস খোলাখুলি বলেছেন, যে সংঘর্ষরত পক্ষদের উপর চাপ প্রয়োগ না করলে পর্যবেক্ষকদের সিরিয়ায় থাকা বৃথা. তিনি বলেছেন – “কেবলমাত্র পর্যবেক্ষকদের মিশনের মেয়াদ বাড়িয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্যসাধন করতে সমর্থ হব না”.

রাশিয়া ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, যে উপরোক্ত খসড়া সমর্থন করবে না. সিরিয়ার জাতীয় পরিষদের প্রস্তাবেরও একই ভাগ্য হবে. ঐ পরিষদের নেতা আব্দেলবাসেদ সঈদ বুধবার জানিয়েছেন, যে মস্কোকে নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘের চার্টারের সপ্তম পরিচ্ছেদ পাশ করতে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে. ঐ পরিচ্ছেদ অনুসারে, আন্তর্জাতিক শান্তির পক্ষে হুমকি হতে পারে এমন দেশের শাসন ব্যবস্থার বিরূদ্ধে বলপ্রয়োগ করা যায়. রাজনীতিতত্ত্ববিদ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলছেন, যে রাশিয়া শুরু থেকেই এরকম পদক্ষেপের বিরূদ্ধমত ছিল.

বর্তমানে সিরিয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক খেলা চলছে. বিদ্রোহীদের সব উদ্যোগ পাশ্চাত্যের মদতে আসাদের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য. একমুহুর্তে সিরিয়ার শাসন ব্যাবস্থাকে উল্টে দেওয়া সম্ভব নয়. তাহলে বিশ্বব্যাপী তার রাজনৈতিক পরিণতি হতে পারে সাংঘাতিক. তাই টানাপোড়েনের নীতি বাছা হয়েছে. এর মুল উদ্যোক্তা সৌদী আরব ও কাতার, যারা নিকট প্রাচ্যে একমাত্র দেশে ধর্মনিরপেক্ষ শাসন ব্যবস্থা কোনোমতেই মেনে নিতে পারছে না.

রাশিয়া মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে নিজস্ব খসড়া পেশ করেছে, যেখানে সিরিয়ায় পর্যবেক্ষকদের থাকার মেয়াদ ৩ মাস বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে, তদুপরি দামাস্কাসের প্রতি কোনো হুমকি বা চরমশর্ত নেই.