ক্রাসনাদার রাজ্যে জরুরী পরিস্থিতিমন্ত্রক বন্যার হাত থেকে পরিত্রানের সক্রিয় কাজ সম্পন্ন করেছে. ৭ই জুলাই রাতে তিনটি শহর – ক্রিমস্ক, গেলেনঝিক ও নোভোসিবিরস্ক ও আরও কিছু গঞ্জ অকস্মাত বন্যাপ্লাবিত হয়েছিল. বন্যায় মারা গেছে ১৭১ জন মানুষ, ২ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে. বিশেষজ্ঞেরা মনে করে, যে পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু বদল হওয়ার কারণে ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে.

এমন কথা বলা যায় না, যে এটা বিনা মেঘে বজ্রপাত. ক্রাসনাদার রাজ্যে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে আবহাওয়াবিদেরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে দিয়েছিল. কিন্তু এর পরিণতি কি হতে পারে, সেটা কেউ কল্পনা করতে পারেনি. মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ আবহাওয়া ও জলবায়ু ফ্যাকালটির বিশেষজ্ঞ পাভেল কনস্তানতিনভ বলছেন, যে এটা নজীরবিহীন, ককেশাসের পাদদেশে, সবচেয়ে শুকনো এলাকায়.

সাধারনতঃ বজ্রবিদ্যুত সহ প্রবল বৃষ্টিপাত হয় পূর্বাঞ্চলে - সোচি, তুয়াপসেতে. আর গেলেনঝিক ও অন্যান্য পশ্চিমাঞ্চলের এলাকাগুলি শুষ্ক থাকে. ২৪ ঘন্টার মধ্যে গেলেনঝিকে ৩০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে. জুলাই মাসের জন্য এটা ৬ মাসের বৃষ্টির মাত্রা. ভেবে দেখুন, যেন আপনি প্রত্যের বর্গ মিটারে ৩০টা ১০লিটার আয়তনের বালতি থেকে জল ঢালছেন.

জরুরী পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ক্রাসনাদার রাজ্যে ১১০০ জনকে শু্শ্রুষা দেওয়া হয়েছে, হাসপাতালে এখনো ২০০ জনেরও বেশি মানুষ চিকিত্সারত. ক্রিমস্ক শহর থেকে ৩ হাজারেরও বেশি লোককে স্থানান্তরিত করা হয়েছে. হাজার হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে. একতলা বাড়িগুলো ও বেসমেন্টগুলো এখনো জলপ্লাবিত. ট্রেন চলাচল, গ্যাস ও জল সরবরাহও ব্যাহত হয়েছিল. দুর্যোগের পরিণতি থেকে উদ্ধার পেতে ১০ হাজার উদ্ধারকার্য কর্মী ও শয়ে শয়ে গাড়ি দুর্গতস্থলে পাঠানো হয়েছে. তারা গেলেনঝিকে অসংখ্য স্বাস্থোদ্ধার কেন্দ্রে বিদ্যুত সরবরাহ পুণরূদ্ধার করেছে. দুর্যোগের পরিণতি অতিক্রম করা ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষয়পূরণ দেওয়ার খাতে ১৩,৩ কোটি ডলার বরাদ্ধ করা হয়েছে. দুর্গত এলাকায় নিহত ও আহত লোকেদের আত্মীয়দের মনস্তাত্ত্বিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে, বলে জানিয়েছেন আইনগত ও মনস্তাত্ত্বিক সাহায্যকেন্দ্রের প্রধান মিখাইল ভিনোগ্রাদভ.

দুর্গত সব এলাকায় কাজ করছে জরুরী পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়ের নিপুণ কর্মীরা. আমি জানি, যে ঐ মন্ত্রনালয়ের মনস্তত্ত্ববিদেরা কত নিপুণভাবে কাজ করতে পারে. তারা তাদের কাজ পালন করে নিখুঁতভাবে. কারও পরিবারে কেউ মারা গেছে – এটা বিয়োগান্তক ঘটনা, কারও বাড়ি জলে ভেসে গেছে – এটাও বিয়োগান্তক ঘটনা, তবে অন্য স্তরের. সবার জন্য একই সুপারিশ দেওয়া নিরর্থক, প্রত্যেকের জন্য দরকার ব্যক্তিগত সাহায্য.

দুর্ভাগ্যক্রমে ক্রাসনাদার রাজ্যে আবহাওয়াবিদদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রবল বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে. তবে জরুরী পরিস্থিতি মন্ত্রক বলছে, যে দুর্যোগের দ্বিতীয় ঢেউ আসার আশঙ্কা নেই. যদিও গত ১০০ বছরের মধ্যে এমন প্রবল বৃষ্টি হয়নি ঐ অঞ্চলে, পাভেল কনস্তানতিনভ বলছেন, যে সামনের কয়েক বছরে এরকম বন্যার পুণরাবৃত্তি হওয়া সম্ভব. তিনি বলছেন, যে জলবায়ুর পরিবর্তনের দরুনই এরকম ব্যাতিক্রমী প্রাকৃতিক সব দুর্যোগ ঘটছে এবং আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে এই সব চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য.