দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য নিয়ে মস্কোয় ৫ - ৭ জুলাই আন্তর্জাতিক সম্মেলন হচ্ছে . সংগঠক – মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলি সম্পর্কিত ইনস্টিটিউট, সেখানে সমবেত হয়েছে বিভিন্ন রুশী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা, রাশিয়ার, ভারতের, নেপালের, আমেরিকার ও ক্যানাডার বহু লেখক ও প্রকাশকেরা . ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিসের অধ্যাপক ওংকার কাউল বলছেন, যে এটা ১০ - তম সম্মেলন .

 

“এরকম সম্মেলন প্রথমবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালে, সেটাও মস্কোয় . পরবর্তী সম্মেলনগুলির আয়োজন করা হয়েছিল ভারতে . বিনা কারণে মস্কোকে প্রথম ও চলতি দশম জয়ন্তী সম্মেলনের আয়োজক হিসাবে বাছা হয়নি . রাশিয়ায় গভীরভাবে অনুধাবন করা হয় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি, সাহিত্য, অর্থনীতি ও সমাজের বিকাশ ” .

এই বক্তব্যের সাথে একমত জয়ন্তী সম্মেলনে সম্মানীয় অতিথি রাশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত অজয় মালহোত্রা .

রাষ্ট্রদূত অজয় মালহোত্রা বলছেন, যে রাশিয়ায় অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি ভারতীয় সাহিত্য রচনা অনুবাদ ও প্রকাশ করা হয় . গত কয়েক বছরে রুশী অনুবাদকরা ধ্রুপদী ভারতীয় সাহিত্যের অনুবাদ করেছেন . ড ক্টর তাতিয়ানা এলিজারকোভা বেদ ও উপনিষদের অনুবাদ করেছেন . ডক্টর ইয়েভগেনি চেলিশেভের তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয়েছে ‘ইন্টিগ্রেটেড হিসট্রি অফ ইন্ডিয়ান লিটারেচার’ . সম্প্রতি রুশী রাষ্ট্রীয় কলা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার ফ্যাকালটি খোলা হয়েছে .

আর মুখ্যত, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির ভাষা চর্চা করে মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলি সম্পর্কিত ইনস্টিটিউট . সেখানকার অধ্যক্ষ মিখাইল মেইয়ের বলছেন, যে এখন সেখানে হিন্দি, উর্দ্দু, তামিল ও বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয় .

মিখাইল মেইয়ের ব্যাখ্যা করে বলছেন – “ আমাদের ইনস্টিটিউটে ভারতীয় উপ - মহাদেশের বিভিন্ন ভাষার চর্চা বরাবর মুল অভিমুখ ছিল . যেহেতু ভারত রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক শরিক, তাই এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ” . তিনি বলছেন, যে তাদের ইনস্টিটিউট প্রস্তুত করছে বহুমুখী বিশেষজ্ঞদের, কারণ ভারতে ও অন্যান্য দক্ষিন এশীয় দেশের প্রতি রুশীদের আগ্রহ ক্রমশঃ বাড়ছে .

সম্মেলনে যোগদানকারী ডক্টর গুজেল স্ত্রেলকোভা আধুনিক ভারতীয় সাহিত্য নিয়ে চর্চা করেন ও এশীয় ও আফ্রিকার দেশগুলি সম্পর্কিত ইনস্টিটিউটে অধ্যাপনা করেন . তার দৌলতেই রুশী পাঠকরা গত দশকের হিন্দী সাহিত্যের সাথে পরিচিত হয়েছে . সেরকমই এক সাহিত্যিকা মৃদুলা গর্গ সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন . হাসিমুখে তিনি বলছেন – “ কোনোদিন ভাবিনি, যে মস্কোয় আমি মাতৃভাষায় কথা বলতে পারবো ” .

রুশী সাহিত্যের সাথে আমি পরিচিত হয়েছিলাম ৯ বছর বয়সে . সেই সময় থেকে দস্তয়েভস্কি, তলস্তোই, চেখভ আমার প্রিয় সাহিত্যিক . তাদের মধ্যে বরিস পাস্তেরনাক ও অন্যান্যরাও আছে . আমাদের দেশে ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে পাঠকরা আধুনিক রুশী সাহিত্যের প্রতিও আগ্রহ প্রকাশ করে .

দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইবন কানওয়ালের বহু রুশী প্রাচ্যতত্ত্বববিদের সাথে দীর্ঘকালের পরিচয় . সম্মেলন চলাকালীন তিনি তাদের উর্দু ভাষা ও সাহিত্যের উপর নতুন নতুন সব গবেষণামুলক কাজের সাথে পরিচিত হচ্ছেন . ইবন কানওয়াল উল্লেখ করছেন – “ আমি বহুকাল ধরে ‘ রেডিও রাশিয়া ’ সম্প্রচারিত অনুষ্ঠাণ শুনি ও সাইটে দেখি . এবং প্রত্যেকবার অনুভব করি, যে রাশিয়া দক্ষিণ এশিয়ার কত কাছে ” .

এটা চমত্কার, যে ‘ রেডিও রাশিয়া ’ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মুখ্য ভাষা উর্দুতে সম্প্রচার করে এবং সাইটও পরিষেবা করে . শুধু আমি নয়, ভারতে আমার পরিচিত বহু লোক এর মাধ্যমে রাশিয়ার পরিস্থিতি, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব ঘটনার সাথে পরিচিত হয় . তিনি বলছেন, যে মস্কোয় আয়োজিত সম্মেলন সাক্ষ্য দেয়, যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতি আগ্রহ ক্রমশঃ বাড়ছে .

সম্মেলন চলাকালে রাশিয়া ও ভারতের উচ্চ শিক্ষালয়ের প্রতিনিধিরা বিজ্ঞানীদের ও ছাত্রদের আদান - প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করছে .