রাশিয়ার উত্তর ককেশাসের কাবারদিনা বালকারি প্রজাতন্ত্রের রাজধানী নালচিকের ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮তম ব্যাচের ব্যাচেলর ডিগ্রীর সমাপণী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো. এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ১৯৯৪ সালে. যদিও আজকের দিনে প্রজাতন্ত্রের সবকটি মসজিদের ইমামদেরকে উচ্চশিক্ষা প্রদান করতে পেরেছে.

ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর শারাফুদ্দিন হাজী চাচায়েভ বলেছেন, স্নাতক ডিগ্রীধারীদের মধ্যে আমাদের প্রজাতন্ত্রের ছাত্রছাত্রী ছাড়াও আদিগেই, আসেটিয়া ও অন্যান্য প্রজাতন্ত্রের অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন রয়েছে. যদি এভাবেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই অর্থাত্ প্রতিবছর ২০ জন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী অর্জন করে তাহলে আগামী ২০ বছরেও আমরা কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত লোকবল নিয়োগ প্রশ্নের সমাধান করতে পারব না. আজকে যাঁরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তাঁদের বয়স হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ বছর. আজ এ কাজে যুবকদের প্রয়োজন যাদের ভাল শিক্ষার মাধ্যমে তৈরী করা হবে এবং তাঁরা শুধুমাত্র নামাজ কি এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া ছাড়াও আধুনিক জীবনে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত থাকবে. ধর্মীয় প্রচারকদের যে কোন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তৈরী থাকতে হবে.

বর্তমানে নালচিকে শিক্ষা সংষ্কৃতি বিষয়ক ইসলামিক একটি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে. ৫ হেক্টর জমির ওপর এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হবে. আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে এর উদ্বোধন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে.

শারফুদ্দিন হাজী বলছেন, আমরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছি. বর্তমানে আমাদের যে অবকাঠামো রয়েছে সেখানে আমরা ক্যাম্পাস ভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রমে আমরা ৪৪ জনকে শিক্ষাদান করতে পারব. নতুন যে ভবনটি তৈরী করা হচ্ছে সেখানে আমাদের ১০ গুন বেশী জায়গা থাকবে. এছাড়া সেখানে শ্রেনীকক্ষ, ক্রিড়া হল, কেন্টিন ও ছাত্রদের হোস্টেলের ব্যবস্থা থাকবে. আমার মতে, এ ধরণের সুযোগ-সুবিধা রাশিয়ার একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও নেই.

পড়াশুনা, থাকা ও খাওয়া-দাওয়া সবকিছুই বিনামূল্যে প্রদান করা হবে. এছাড়া যারা পরীক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জন করবে তাঁদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে.

নতুন শিক্ষা বছরে আমরা ত্বাত্তিক অনুষদ খোলার পরিকল্পনা করছি. আজকে শুধুমাত্র কোরান বিজ্ঞান ও শারিআত বিষয়ক দুটি অনুষদ যথেষ্ট নয়.

অর্থাত্ আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা ধর্মীয় উচ্চশিক্ষা বিষয়ক ২টি ডিগ্রী লাভ করবে. এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সাথে ১২০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করতে পারবে.

১৯৮৭ সাল থেকে ইসলামিক শিক্ষার যে দিক নির্দেশনা রয়েছে সেই অনুযায়ী শারফুদ্দিন চাচায়েভ কাজ করছেন. ১৯৯৬ সালে তিনি ইসলামিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ছিলেন এবং আজ তিনি ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর.

শারফুদ্দিন চাচায়েভ বলেছেন, আমি শিক্ষক পরিষদের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ. এমন সময় ছিল যখন শিক্ষকরা পুরো ১ বছর কোন বেতন পান নি, তারপরও তাঁরা চাকুরী ছেড়ে দেন নি. মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের আশায় তাঁরা কাজ করেছেন. পবিত্র কোরানে আল্লাহতালা বলেছেন, কষ্টের পর আমি তোমাদের উপহারস্বরুর পরবর্তিতে কষ্ট সহজ করে দিব. ২০০৭ সালে ইসলামিক সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি অর্থ তহবিল গঠন করা হয়েছে. এটি আমাদের যথেষ্ট উপকারে এসেছে. ওই তহবিলে সাহায্য করছেন প্রজাতন্ত্রের আরসেন কানাকোভ যিনি অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে ইসলামিক কমপ্লেক্স তৈরীর কাজ তদারক করছেন.

 

রাশিয়ার মুসলিম উম্মার খবরঃ

 

গত ১৮ জুন রাশিয়ার হজ্জ মিশনের ১০ বছর পূর্তি পালিত হয়েছে. এই সংস্থাটি সৌদি সরকারে সাথে সম্মিলিত উদ্দ্যোগে মুসলমানদের হজ্জ পালন ও পর্যটন কোম্পানীর সাথে কাজ করে থাকে. রাশিয়ার হজ্জ মিশন যা হজ্জ পালন সংক্রান্ত নানা কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পাদন করা ও রাশিয়ার মুসলিম উম্মার মধ্যে সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধ তৈরী করতে সাহায্য করে.

রাশিয়ার ফেডারেল অধিবেশনের ফেডারেল পরিষদে সহকারি প্রধান ইলিয়াস উমাখানোভ ২০১০ সাল থেকে এ সংস্থার প্রধান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন. ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এক শুভেচ্ছা বানী পাঠিয়েছেন রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশের রাশিয়ার মুফতি পরিষদের পরিচালক রাভিল গাইনুদ্দিন. ইলিয়াস উমাখানোভের কাছে পাঠানো এক অভিনন্দন বানীতে রাভিল গাইনুদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রাশিয়ার ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে ও সৌদি সরকারের সাথে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার ক্ষেত্রে রাশিয়ার হজ্জ মিশন অসাধারণ কাজ করে চলছে.

 

হাফিজ তৈরীর বিশ্ব কেন্দ্রের জেনেরাল সেক্রেটারি আবদুল্লাহ বিন আলি বাসফারার কাছ থেকে এক কৃতজ্ঞতা চিঠি পেয়েছেন চেচনিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রান রামজান কাদিরোভ. ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, বিশ্বের অত্যন্ত ৭০টিরও অধিক হাফিজি স্কুল পরিদর্শনের সুযোগ তাঁর হয়েছে তবে চেচনিয়ার স্কুলগুলোর মত এ উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধা তিনি আর কোথাও দেখেন নি.

রাশিয়ার দুটি প্রধান ধর্মানুরাগীদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় মুসলিম আধ্যাত্মিক সেন্টারের অবদান উল্লেখ করে মুসলামান ও অর্থডক্স খ্রিষ্টীয়দের একে অপরের ভাই বলে অভিহিত করেছেন সর্বরাশিয়ার অর্থডক্স চার্চের প্রধান প্যাট্রিক ক্রিল. গত ১৫ জুন মস্কোর খ্রীষ্ট স্পাসেতেলিয়া চার্চে রাশিয়ার আধ্যাত্মিক মুসলিম পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে প্যাট্রিক ক্রিল বলেন, আপনারা কয়েকশ ধর্ম প্রচারকদের তৈরী করেছেন যাঁরা নিদের দেশকে ভালবাসেন এবং নিজেদের অর্থডক্স ধর্মের ভাইদের প্রতি সম্মান জানায়. বর্তমানে এই মানবিক গুনাবলই অর্থডক্স-ইসলাম সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে অবদান রাখছে. আমরা এ কাজের অবশ্যই মূল্যায়ন করছি. প্রতিনিধি দলের প্রধান তালগাত তাজুদ্দিন নিজের দেওয়া বক্তব্যে এই সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ করায় ও রাশিয়ার মুসমান- অর্থডক্স এর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ দেওয়ায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান.

রাশিয়ার সাইবেরিয়ার অন্যতম শহর ইরকুতস্কে গত ২৪ জুন থেকে ১ সপ্তাহ ব্যাপী আঞ্চলিক মুসলমান তরুণ শিক্ষা ক্যাম্প শুরু হয়েছে. সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এমন ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে. তাঁদেরকে নামাজ শিক্ষা বিষয়ের ওপর পাঠদান করা হবে. ইরকুতস্ক অঞ্চলে এই প্রথমবারের মত গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প আয়োজন করা হচ্ছে.

 

গত ৩ বছর ধরে জুন মাসের শুরুতে হালাল খাদ্যদ্রব্যের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে. এবারের প্রদর্শনী ছিল বিগত বছরগুলোর থেকে সবচেয়ে বড়. বিশ্বের ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা এখানে উপস্থিত ছিলেন. অন্তত ১০০টি প্রতিষ্ঠান প্রদর্শনীতে তাদের পণ্যদ্রব্য উপস্থাপন করে.

রাশিয়ায় তিউনেশিয়ার আল-বারাকা কোম্পানীর প্রধান লাসাদ আত তুরিক্কি বলেছেন,

আমাদের কোম্পানী ১৯৮৪ সাল থেকে রাশিয়ার বাজারে রয়েছে. আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, রুশিদের কাছে তিউনেশিয়ার পণ্যের বিজ্ঞাপন করা. এদের মধ্যে রয়েছে অলিবিয়ান তেল যা কিনা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা হয়. প্রদর্শনীতে আমরা তিউনেশিয়ার মিষ্টি জাতিয় ঐতিহ্যবাহী খাদ্য নিয়ে এসেছি. যা কিনা সবসময় রুশিরা বাজারে খুঁজে থাকেন. মস্কোতে আয়োজিত সব প্রদর্শনীতে আমরা অংশ নিয়ে থাকি. আমরা অনেক আগে থেকেই রাশিয়ার মুফতি পরিষদ ও ইসলামিক সংগঠনগুলোর সাথে কাজ করছি, তাঁরা আমাদের বন্ধু ও আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান. রাশিয়ায় মুসলমানরা সুনামের সাথে বসবাস করছে. তাঁরা এমন দেশে, এমন জমিতে বাস করছে যেখানে নানা ধর্ম ও সংস্কৃতির জন্ম হয়েছে. তাঁরা জানেন যে, মুসলমান মানেই শুধুমাত্র ধর্মভীরু হালাল খাদ্য ব্যবহার করাই নয়.

মস্কোতে অনুষ্ঠিত হালাল এক্সতো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন তিউনেশিয়ার লাসাদ আত তুরিক্কি.