কাশ্মীরে কার্যরত ইসলামী গোষ্ঠী ‘জামাত-ই-ইসলামী’ কাশ্মীর সফর করতে যাওয়া পর্যটকদের বেশভুষা পরা সম্পর্কে বিশেষ ঘোষণা করেছে. ইসলামীদের মতে, বহু পর্যটক, বিশেষতঃ মহিলারা, যারা মিনি স্কার্ট বা ছোটো মাপের গাউন পরে, সেটা কাশ্মীরের মুসলমানদের বিরূদ্ধে আগ্রাসন. এই প্রসঙ্গে ‘জামাত’ পর্যটন দপ্তরের কাছে এই আবেদন জানিয়েছে, যাতে পর্যটকদের সুপারিশ করা হয় স্থানীয় আইন ও ঐতিহ্য বজায় রাখার জন্য.

এটা শুধুমাত্র ইসলামীদের একার উদ্যোগ নয়. তথাকথিত মধ্যপন্থী ২৬টি রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় দল নিয়ে গঠিত সংস্থা ‘হুরিয়াতের কনফারেন্স’ও তাদের আবেদন সমর্থন করেছে. আমাদের বোঝা দরকার, যে কাশ্মীর এমন এক সমাজ, যেখানে ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ সবার উপরে. “আমরা পর্যটকদের কাছ থেকে মুসলিম পোষাক পরার দাবী জানাচ্ছি না, কিন্তু তাদের ভদ্র পোষাক-আষাক পরতে হবে” – বলেছেন হুরিয়াতের নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুখ.

যে প্রচার প্রক্রিয়াকে মিনি স্কার্টের বিরূদ্ধে লড়াই বলে অভিহিত করা হচ্ছে, তা যেমন ভারতে, তেমনই বিদেশে নঞর্থক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে. পর্যটক এজেন্সীগুলো জোর দিচ্ছে, যে বহুবছর দুর্দশায় পড়ে থাকার পরে গত বছর থেকে কাশ্মীরে সবেমাত্র পর্যটন শিল্পের পুণরুজ্জীবন ঘটছে. ২০১১ সালে সেখানে প্রায় ১৩ লক্ষ পর্যটক গেছিল, মুলতঃ ভারতীয়রা. এই সব ঘোষণাবলীর পরে ট্যুর এজেন্সীগুলো ভয় পাচ্ছে, যে পর্যটকদের সংখ্যা ব্যাপকহারে কমে যেতে পারে, যা গোটা পর্যটন শিল্পের জন্যই নেতিবাচক পরিণতি বহন করে আনবে. আর পশ্চিমী পর্যবেক্ষকরা এই বলে সতর্ক করে দিচ্ছে, যে যদি মিনিস্কার্টের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়, তবে কাশ্মীর দ্বিতীয় সৌদী আরবে পরিণত হতে পারে. বিষয়টি সত্যিই খুব সুক্ষ. রুশী স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলছেন, যে এক্ষেত্রে কয়েকটি সমস্যা রয়েছে.голос

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে দ্বন্দ – আর্থিক মুনাফার জন্য ঐতিহ্য বর্জন করা উচিত কিনা. আর পর্যটকদের দ্বিধা হবে অন্যরকম – বিদেশ ভ্রমণকালে তারা সেই দেশ সম্মন্ধে নতুন কিছু জানতে চায়, নাকি নিজেদের শো-অফ করতে চায়.

দুর্ভাগ্যবশতঃ, রুশীরা সমেত বহু বিদেশী পর্যটকই দ্বিতীয় উত্তরটাই বেছে নিচ্ছে. অন্য দেশ সফরের সময় তারা কখনো কখনো সেই দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্মন্ধে কোনোকিছুই জানবার চেষ্টাও করে না. এখানে যুক্তি পরিষ্কার – আমি পয়সা দিচ্ছি, তার বিনিময়ে তোমরা আমার সব শখ-আল্হাদ মেটাতে বাধ্য. আর আমার কোনো দায়বদ্ধতা নেই. এটা শুধুমাত্র পোষাকের ক্ষেত্রেই নয়. মদ্যপান করার কথাতো উল্লেখ না করাই ভালো, এর কারণে বহুবার ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট হয়েছে.

জামাত-ই-ইসলামীর ঘোষণা শুধুমাত্র তাদের নেতাদের ইচ্ছাই প্রতিফলিত করে না, কাশ্মীর ও ভারতের অন্যান্য বহু এলাকার অধিবাসীদের ইচ্ছাও প্রতিফলিত করে. সমুদ্র বেলাভুমির সীমানার বাইরে খোলামেলা পোষাক-পরিচ্ছদ পরে ঘোরাঘুরি করার মানে হচ্ছে – অন্ততঃপক্ষে নিজের প্রতি স্থানীয় অধিবাসীদের বাড়তি মনোযোগ আকর্ষণ করা, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিপজ্জনক রূপ নেয়. তাই পর্যটকদের নির্দিষ্ট ড্রেস-কোডের ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া প্রয়োজন.

কাশ্মীরের এই কাহিনীর আরও একটা দিক আছে. আধুনিক বিশ্বে ইসলামী গোষ্ঠীগুলির তরফ থেকে, বিশেষতঃ যাদের চরমপন্থী বলে দুর্নাম আছে, তাদের যে কোনো উদ্যোগকে উড়িয়ে দেওয়া হয়. আর তাই এমনকি পর্যটকদের প্রতি যুক্তিযুক্ত দাবী, যে স্থানীয় ঐতিহ্য মেনে চলা, সেটাও অসন্তোষের সৃস্টি করে. বিশেষতঃ যখন আর্থিক মুনাফার প্রশ্ন থাকে.