মানুষকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া ঠিক নয়. এই শাস্তি বড্ড বেশি কঠোর ও নিষ্ঠুর, যা মানবজাতি মানুষের বিরূদ্ধে ব্যবহার করতে পারে. এর ভিত্তিতে নিউ-ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর-দপ্তরে সাধারন সম্পাদক বান কি মুন বিশ্ব জনসমাজের কাছে আহ্বাণ জানিয়েছেন মৃত্যুদন্ড বরাবরের জন্য বাতিল করার জন্য.

মানুষের জীবন সর্বত্র সবচেয়ে মূল্যবান. জাতিসংঘের মানবাধিকার সম্পর্কিত ঘোষণায় এই কথা উল্লিখিত. সাধারন মতে, কেউ আদালতের রায় ছাড়া কাউকে মৃত্যুদন্ড দিতে পারে না. কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনী বিধানে মানুষের জীবন রক্ষার জন্য কোনো নীতি নেই. সেইজন্যেই রাশিয়ার আইনজীবি সংস্থার সভাপতি ইয়েভগেনি আরখিপভ মনে করেন যে এটা সভ্য সমাজের জন্য স্বাভাবিক শর্ত.

মানব সভ্যতার বিকাশ প্রমাণ করে যে আজ হোক বা কাল হোক সবচেয়ে চরমপন্থী দেশগুলিও মৃত্যুদন্ড দেওয়া বন্ধ করবে. সত্যি কথা বলতে কি মৃত্যুদন্ড মানবতাবাদের পরিপন্থী. যেহেতু মানবজাতি প্রগতির পথে চলেছে, আমার মনে হয়, যে কোনো একদিন মানব জাতি আর মৃত্যুদন্ড দেবে না.

আজকের দিনে পৃথিবীতে ১৫০টি দেশ হয় সাময়িকভাবে মৃত্যুদন্ড দেওয়া স্থগিত রেখেছে অথবা চূড়ান্তভাবে শাস্তিদানের তালিকা থেকে মৃত্যুদন্ড মুছে দিয়েছে. অন্যদিকে বহু দেশে বিভিন্ন অভিযোগে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়. যেমন ৩২টি দেশে মাদক দ্রব্য সম্পর্কিত অভিযোগে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়. কিছু দেশে গণহত্যার জন্য. কোথাও কোথাও সমকামীতা বা গুপ্তচর বৃত্তির জন্যও মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়. এবং এটা গণতন্ত্রের আদর্শ থেকে বহু দূরের উন্নয়নশীল দেশগুলিতেই যে হতে হবে সেটা আবশ্যকীয় নয়, মৃত্যুদন্ড আমেরিকায় নিয়মিত প্রয়োগ করা হয়. ১৯৭৬ সালে, যখন মৃত্যুদন্ড দানের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, তার পরে প্রায় ১৩০০ জন মানুষকে সেখানে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে.

তবে আইনজীবি ইয়েভগেনি আর্খিপভ বলছেন, যে মৃত্যুদন্ডের শাস্তি কোনোদিন কাউকে ভয় পাওয়াতে পারে না.

কার্যকরী ব্যবস্থা শাস্তিদানের নিষ্ঠুরতা নয়, দায়িত্ব পালন করার বাধ্যবাধকতা, যখন লোক বুঝতে পারে, যে যদি সে অপরাধ করে, তাহলে তাকে শাস্তি পেতে হবে. এটাই অপরাধীদের ব্যবহার ও তাদের অপরাধের সংখ্যার ক্ষেত্রে মুল বিষয়.

তাছাড়াও সবসময়েই বিচারের ভুল হওয়ার আশংকা থাকে. তবে অন্য যে কোনো রূপের সাজায় যদি অ্যাপীল করার সুযোগ থাকে, তো মৃত্যুদন্ড প্রত্যাহার করা যায় না – বলছেন সর্বরাশিয় মানবাধিকার সংস্থার বিশ্লেষক ইয়েভগেনি ইখলভ.

এমনকি সেই সব দেশে, যেমন অ্যাংলো-স্যাক্সন দেশগুলিতে, যেখানে বহুস্তরে অ্যাপীল করার সুযোগ আছে, সেখানেও বহু লোককে অভিযুক্ত করা হয় কোনো অপরাধে আর ২০-৩০ বছর পরে জানা যায় যে তারা নিরাপরাধ ছিল.

তবে সমাজ মৃত্যুদন্ডের নিষ্ঠুরতা সম্পর্কে সজ্ঞান থেকেও সাধারনতঃ পুরোপুরি তাকে খারিজ করতে চায় না. উদাহরন স্বরূপ ইউরোপে শুধু সুইজারল্যান্ড গণভোটের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড বাতিল করেছে. অন্য সব ইউরোপীয় দেশ আইনে এই ধারা রেখেছে, এবং শুধুমাত্র রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে মৃত্যুদন্ড রদ করা সম্ভব. তবে সময়ের সাথে সাথে লোকজন বেশি মানবিক হচ্ছে. যেমন ইংরেজদের মধ্যে জনমত সমীক্ষায় জানা গেছে, যে তারা এখন আর অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ডকে ন্যায্য বলে মনে করে না.