লন্ডনের প্রধান বিমানবন্দর হিথরো পরিবহনের চাপে প্রায় ভেঙে পড়তে চলেছে. অলিম্পিক শুরু হতে খুব কম সময়ই আর বাকী রয়েছে – তা হবে ২৭শে জুলাই থেকে ১২ই আগষ্ট অবধি, আর পরিবহন পরিষেবার লোকরা সাবধান করছে যে, যাত্রীরা, যারা এই বিমানবন্দরে আসছেন, তাদের এখানে পরিষেবা দেওয়া হয়েছে প্রবল কাজের চাপের জন্য খুবই ধীরে. তার ওপরে অলিম্পিকের দিন গুলিতে লোকের চাপ বাড়তে চলেছে কয়েক গুণ.

লন্ডনের অতিথিরা বর্তমানে খুবই অভিযোগ করছেন অনেক ঘন্টা ধরে লাইন দিয়ে থাকার জন্য, যা ট্যুরিস্টদের ক্লান্ত করে দিচ্ছে ও অলিম্পিকের আগে লন্ডনে প্রবেশের মুখেই সমস্ত রকমের সন্তোষ নষ্ট করে দিচ্ছে. সব চেয়ে উত্তেজনার দিন হিথরো বিমানবন্দরের জন্য হতে চলেছে ১৩ই আগষ্ট, যেদিন অতিথিরা অলিম্পিক শেষ হওয়ার উত্সবের পরে চলে যাবেন. প্রাথমিক হিসাবের পরে দেখা গিয়েছে সেই দিনে বিমানবন্দরে এক লক্ষ সাঁইত্রিশ হাজার আট শো লোককে পরিষেবা দিতে হবে ও পরীক্ষা করে দেখতে হবে ২ লক্ষের বেশী মালপত্র. এর চাপ এত বেশী হবে যে, প্রশাসন সন্দেহ করেছে যে, বিমানবন্দরের কর্মীরা হয়তো বিক্ষোভ দেখাবেন. তা স্বত্ত্বেও, হিথরো বিমানবন্দরের প্রশাসন তাদের আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন এই ভেবে যে, গ্রেট ব্রিটেনের প্রশাসন, বিমান পরিবহন কোম্পানী গুলি ও পেশাদার পদক্ষেপ নিয়ে তাঁরা অলিম্পিকের দিন গুলিতে চাপ সামলাতে পারবেন, এই কথা উল্লেখ করে হিথরো বিমানবন্দরের তথ্য ও জন সংযোগ বিষয়ের ডিরেক্টর সাইমন বফ বলেছেন:

“বিগত কয়েক মাস ধরে আমরা দেখেছি খুবই লম্বা সব লাইন, কারণ নভেম্বরে গ্রেট ব্রিটেনের প্রশাসন সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়ে দিয়েছে, কর্মী সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে, যারা আগে সেখানে কাজ করতেন. কিন্তু সরকার ঘোষণা করেছে যে, গরম কালে অভিবাসন ও শুল্ক দপ্তরের কর্মী সংখ্যা বাড়ানো হবে. আমরা তাই আশা করছি যে, এটা তাও লাইন কমাবে. যদি আমি সঠিক মনে করতে পারি, তবে গ্রেট ব্রিটেনের প্রশাসন ঘোষণা করেছে যে, অলিম্পিকের সময়ে হিথরো বিমানবন্দরে বাড়তি ৪৮০ জন কর্মী কাজ করবেন. তাছাড়া, হিথরো বিমানবন্দরের প্রশাসন দু কোটি পাউন্ডের বেশী (তিন কোটি তের লক্ষ ডলারের বেশী) খরচ করেছে বিমানবন্দরকে অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুত করতে গিয়ে. এই খরচের মধ্যে রয়েছে বাড়তি ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবক, যারা অতিথিদের স্বাগত জানাবেন, আর সাময়িক এক বন্দর বানানোর জন্য. অলিম্পিকের সময়ে অবশ্যই হিথরো বিমানবন্দরের জন্য সময় সহজ হবে না, তবুও আমরা আশা করছি যে, বিমান কোম্পানী, দেশের সরকার, এদের সকলের শক্তি এক করে আমরা এই কাজ করতে পারবো”.

ব্রিটেনের লোকদের ভুল হয়ে গিয়েছে যে, তাঁরা বেশী করে মনোযোগ দিয়েছেন অলিম্পিকের জন্য জায়গা তৈরী করার জন্য, পরিবহনের জন্য জায়গা তৈরীর কথা তারা ভুলেই ছিলেন, এই কথাই বলেছেন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা. পরিবহন সমস্যা সমাধান ছিল সোচী শীত অলিম্পিকের প্রস্তুতির জন্য একটি প্রাথমিক কাজ. এই কাজের জন্য খরচ হয়েছে এর জন্য বরাদ্দ করা বাজেটের প্রায় একের তৃতীয়াংশ, এই কথা উল্লেখ করে “অলিম্পিক গাজেতা” নামের সোচীতে প্রকাশিত সংবাদপত্রের প্রধান সম্পাদক ইগর সিজভ বলেছেন:

“সোচীতে শীত অলিম্পিকের প্রস্তুতির জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল শহরে শুধু খেলাধূলা করার উপযুক্ত জায়গা করলেই হবে না, বরং সম্পূর্ণ ভাবে আধুনিকীকরণ করা হবে এখানের সমস্ত ইঞ্জিনিয়ারিং পরিকাঠামোর, তার মধ্যে পরিবহনের পরিকাঠামোও. যদি সব মিলিয়ে খরচ সোচী অলিম্পিকের জন্য এখন প্রায় এক লক্ষ কোটি রুবল হয়েছে, তবে তার একের তৃতীয়াংশ খরচ করা হয়েছে গাড়ী চলার রাস্তা ও পরিবহনের জট ছাড়ানোর জন্য. এখানে এখন নতুন সব রাস্তা, সোচী শহরের কেন্দ্রকে এড়িয়ে যাওয়ার রাস্তা তৈরী হয়েছে. একই সঙ্গে শহরের প্রধান জায়গা গুলিতে ভীড় এড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে. এই সবই একটা ভিত্তি দিয়েছে মনে করার যে, অলিম্পিকের সময়ে বা তার পরে সোচীতে কোন পরিবহন সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেবে না”.

নির্মাণ পর্ব শেষ হয়ে আসছে সোচী শহরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর জায়গার – সব রকমের কাজের উপযুক্ত মাল পরিবহনের বন্দরের – কিছু আগে ট্রান্সস্ত্রোই সংস্থাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এই জন্য রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ. এর আগে জুন মাসে রাশিয়ার সোচী শহরে শীত অলিম্পিকের কাজ দেখতে এসে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির যোগাযোগ দপ্তরের প্রধান জান ক্লদ কিল্লি উল্লেখ করেছেন: “এই কাজের ফল খুবই অভিভূত করতে পারে যে কোন ক্ষেত্রেই. এটা যেমন নির্মাণ কাজ সম্বন্ধে বলা যেতে পারে, তেমনই পরিকল্পনা, স্থান নির্বাচন, পরিবহন ও যাতায়াতের হিসাবের বিষয়ে বলা যায়. আমরা আজ অনেক জায়গা দেখেছি, আর আমি যা করা হয়েছে তা দেখে এখনও অভিভূত”, বলেছেন কিল্লি.