১লা জুলাই থেকে ইউরোপীয় সঙ্ঘের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে খনিজ তেল রপ্তানীর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ইরানের নেতৃত্বকে মোটেও ইয়ার্কি করার মতো উদ্বিগ্ন করে নি. ইরানের মজলিসের (পার্লামেন্ট) আন্তর্জাতিক নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটিতে খরমুজ বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে এক আইনের খসড়া তৈরী করা হয়েছে, যার ফলে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় সহমত হওয়া দেশ গুলির জন্য অন্য এই এলাকার দেশ থেকে যাওয়া আসা করা খনিজ তেলের ট্যাঙ্কার যাতায়াতে বাধা দেওয়া সম্ভব হবে.

আমাদের সমীক্ষক ভ্লাদিমির সাঝিন এই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য প্রকাশ করেছেন.

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সেই ডিসেম্বর মাসে, যখন ইউরোপীয় সঙ্ঘের দেশ গুলি নিষেধাজ্ঞা গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে শুরু করেছিল, তখনই তেহরান ভয় দেখিয়েছিল যে, তারা প্রতিরোধ করতে গিয়ে এই খনিজ তেলের ধমনী বন্ধ করে দেবে. কিন্তু তখন সকলেই শুধু বজ্র কন্ঠে ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্তি দিয়েছিল, তার মধ্যে আবার ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের দায়িত্বশীল প্রশাসনিক নেতৃত্ব এই ঘোষণাকে গিলে ফেলেছিলেন, আর প্রণালী বন্ধ করা হয় নি.

এখন পরিস্থিতি জটিল হয়েছে, আর এই প্রশ্ন এখন দেশের পার্লামেন্টে সমাধান করা হচ্ছে. ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রে যেমন জানা আছে যে, শেষ কথা বলে থাকেন সর্ব্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খোমেইনি. আমরা আশা করব যে, দেশের নেতা সব ভেবে চিন্তে দেখবেন ও কোন রকমের যুদ্ধ হতে দেবেন না. আর তা, ইরান খরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে গেলে হবেই. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেন এখনই ইরানকে সাবধান করে দিয়েছে যে, তেহরানের পক্ষ থেকে এই ধরনের কাজকর্ম তারা যুদ্ধ ঘোষণা বলেই দেখবে. কোন সন্দেহ নেই যে, এই সব রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেবে আরবের রাজতন্ত্র গুলি, যাদের ইরানের সঙ্গে এমনিতেই সম্পর্ক টানটান. ইরানের বিরুদ্ধে এক জোট দেশ যোগ দেবে. তার ওপরে আবার ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধ পক্ষের লোকরা একটা আইন সঙ্গত কারণ খুঁজে পাবে যুদ্ধ শুরু করার জন্য, কারণ এই প্রণালী আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পড়ে, আর যে কোন দেশ এর মধ্য দিয়ে নিজেদের বাণিজ্যিক ও অসামরিক পোত পাঠাতে পারে.

শক্তির তুলনা হিসাবে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, যদিও ইরানের সামরিক বাহিনীর লোকরা খুবই আত্ম প্রশংসা করেছে, তাও সমস্ত দিক থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের জোটের দিকেই শক্তি বেশী. তার ওপরে এই কথা বাদ দেওয়া যেতে পারে না যে, প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হলে, তারা তাদের যুদ্ধের প্রসার করতেই পারে ও শুধু প্রণালী খোলার ব্যবস্থা না করে, সরাসরি ইরানের পারমানবিক সমস্যাকে শক্তির প্রয়োগে সমাধান করতে পারে.

এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বিজ্ঞানে পিএইচডি ইউরি বন্দার বলেছেন:

“পরিস্থিতির বাস্তব বিশ্লেষণ করলে সমস্ত সম্ভাব্য উপায়ের মধ্যে খরমুজ প্রণালীর এলাকার ঘটনা দেখিয়ে দেয় যে, ইরানের নেতৃত্ব মনে হয় না যে, প্রণালী বন্ধ করতে যাবে. তারা যা ঘোষণা করছে, আইন তৈরী করছে, তার সবই এক ধরনের জাতীয় মনোভাবের ক্ষেত্রে আত্ম প্রসাদ লাভের জন্য”.

দেশে খুব একটা স্থিতিশীল নয়, এমন অবস্থায়, এই দলিল এক ধরনের প্রচারের কাজ করছে, যা দেখাচ্ছে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের পক্ষ থেকে নিজেদের মনের জোর ও শক্তির চেহারা.

ইরানের টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইএনএন নিজেদের সাইটে এক জনমত গ্রহণের ব্যবস্থা করেছে, যাতে প্রায় দুই হাজার লোক অংশ নিয়েছে. সেখানে অংশতঃ প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, মজলিসের প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার উত্তরে খরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে. বেশীর ভাগ লোকই এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন - প্রায় শতকরা ৮৯ ভাগ. একই সঙ্গে দেখার মতো যে, শতকরা ৬৩ ভাগ ভোটে অংশ নেওয়া লোক দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার বিরুদ্ধে ও যাতে ধীরে দেশের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরে যায় ও ইরানের চারপাশে উত্তেজনা কমে. আর এটা হয়েছে দেশের প্রচার কাজে লেগে থাকা সরকারি মুখপাত্রদের ঘোষণার মধ্যেই, যারা ঘোষণা করছেন যে, সমস্ত ইরানের লোকরা ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের পারমানবিক পরিকল্পনা সমর্থন করেন.

সম্ভবতঃ খুবই বলা যেতে পারে যে, ইরানের পক্ষ থেকে খরমুজ প্রণালী বন্ধ করা বা তার জন্য ঘোষণা ও আইন গ্রহণ – স্রেফ আরও একটা ধাপ্পা, প্রচারের একটা অস্ত্র, যা পশ্চিমের সঙ্গে চলা তথ্য যুদ্ধের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে.

কিন্তু এখানেই লুকিয়ে রয়েছে বিপদ. প্রচার নিয়ে উত্তেজনা বাড়ানো, তার মধ্যে তেহরানের এই “খরমুজ ধাপ্পা”, সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর জন্যই এগিয়ে দিচ্ছে, যা আমরা পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় দেখতে পাচ্ছি, যেখানে ইরান ও তাদের প্রতিপক্ষের দেশগুলির সামরিক শক্তি জড়ো হয়েছে. এখানে যথেষ্ট হবে একটা আচমকা ঘটনা অথবা কোনও প্ররোচনা, যা হয় পরিকল্পনা করে, নয়তো আচমকাই ঘটতে পারে ও তার সঙ্গে সারা এলাকা জুড়ে বিস্ফোরণ হতে পারে, যার ফলে একটা বিপর্যয় ঘটতেই পারে.