রাশিয়ার সমরাস্ত্র রপ্তানী ২০১২ সালের প্রথম ছয় মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শতকরা ১৪ শতাংশ বেড়েছে ও তার পরিমান হয়েছে সাড়ে ছয় শো কোটি ডলারের সমান. এই তথ্য দিয়েছেন দেশের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন, যিনি সোমবারে সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার সমস্যা সংক্রান্ত এক সভায় অংশ নিয়েছিলেন. পুতিন একই সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়ার সমরাস্ত্রের রপ্তানী সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় চার হাজার তিনশ কোটি ডলারের মতো.

সমরাস্ত্রের রপ্তানী - রাশিয়ার জন্য এটা বিশেষ গর্বের বিষয়. এটা সেই মাত্র কয়েকটি ক্ষেত্রের একটি, যেখানে রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব হয়েছে বিশ্বের বাজারে খুবই উচ্চ প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট জিনিষ নিয়ে হাজির হওয়া ও সেই বিষয়ে সাফল্য লাভ করা. ১৯৯০ এর দশকে ও ২০০০ এর প্রথম অর্ধে রপ্তানী ছিল একান্তই প্রযোজনীয় বহু প্রতিরক্ষা শিল্প সংক্রান্ত কারখানার জন্যই, বাজেটের থেকে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় রাশিয়ার সামরিক বাহিনী প্রায় কোন রকমেরই সাধারন অস্ত্র কেনে নি.

বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে. আজ রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্প কাজ করছে প্রধানতঃ দেশের ভিতরের গ্রাহকদের জন্যই – রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও অন্যান্য সংগঠন গুলির জন্য. একই সঙ্গে দেশে রপ্তানী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে রয়েছে. রাশিয়া যন্ত্রপাতি ও অস্ত্র ব্যবস্থা বিশ্বের ৫৫টি দেশ কিনে থাকে, তাদের মধ্যে চিন, ভারত, আলজিরিয়া, ভিয়েতনাম, ভেনেজুয়েলা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে.

সামরিক অস্ত্র প্রযুক্তি বিষয়ে রাশিয়ার বৃহত্তম সহযোগী দেশ হয়ে রয়েছে ভারত – সেখানে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এস ইউ – ৩০ এম কা ই বিমান উত্পাদনের, টি – ৯০ এস ট্যাঙ্ক, হেলিকপ্টার ও তারই সঙ্গে যৌথভাবে ব্রামোস রকেট তৈরী করা হচ্ছে. বর্তমানে ভারতের জন্য গভীর আধুনিকীকরণ করা বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজ বিক্রমাদিত্যের সামুদ্রিক পরীক্ষা চলছে. জাহাজে ওঠা নামায় সক্ষম এই রকমের যুদ্ধ বিমান মিগ – ২৯কা সরবরাহ করা হচ্ছে. একই সময়ে ভারতের সঙ্গেই রাশিয়ার একটি বড় মাপের হতাশার কারণ রয়েছে ২০১১ সালের টেন্ডারে ১২৬টি যুদ্ধ বিমান ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য দিতে না পেরে.

ভিয়েতনাম পাচ্ছে যুদ্ধবিমান এস ইউ – ৩০ এম কা২ ও আরও নানা ধরনের অস্ত্র প্রযুক্তি নিজেদের নৌবাহিনীর জন্য. গত বছরের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হয়েছে উগান্ডা দেশের জন্য ৬টি যুদ্ধবিমান এস ইউ – ৩০ এম কা২ ও অন্যান্য সমরাস্ত্র মোট ৭৪ কোটি ডলার মূল্যের বিক্রয়. এই ভাবেই রাশিয়া সম্ভাবনাময় আফ্রিকার বাজারে নিজেদের অবস্থান ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে. স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের মধ্যে সব চেয়ে বড় রুশ অস্ত্রের ক্রেতা আজারবাইজান – তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনে, হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া গাড়ীও নেয়.

রাশিয়ার চিনের সঙ্গে সমরাস্ত্রের বিষয়ে সহযোগিতা ২০১১ সালে আবার করে অনেক সময় ধরে থেমে থাকার পরে বাড়তে শুরু করেছে. রসআবারোনএক্সপোর্ট সংস্থার ডিরেক্টর আনাতোলি ইসাইকিন মনে করেন যে, শুধু গত বছরেই বিমান বাহিনী সংক্রান্ত ক্ষেত্রে চিনে রপ্তানীর পরিমান হয়েছিল একশ কোটি ডলারের বেশী. বেশীর ভাগ চিনে রপ্তানীর চুক্তিই রাশিয়ার পক্ষ থেকে করা হয়েছে বিমানের এঞ্জিন – অন্তত প্রকাশিত তথ্য থেকে তাই বোঝা গিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি নির্মাণ বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন বলেছেন:

“এখন রাশিয়ার এঞ্জিন সরবরাহের উপরে নির্ভর করছে চিনে তৈরী করা চারটি ধরনের যুদ্ধবিমান. যুদ্ধবিমান জে – ১১ভি ও তার সমস্ত রকমের ধরনেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে আএল- ৩১এফএন এঞ্জিন. যুদ্ধবিমান এফ সি- ১ ব্যবহার করে আর ডি – ৯৩ এঞ্জিন, বোমারু বিমান এইচ- ৬কা ব্যবহার করে ডি-৩০কাপে২ এঞ্জিন. আধুনিক চিনের যুদ্ধ বিমানের ক্ষেত্রে শুধু বোমারু- ফাইটার বিমান জেএইচ- ৭আ রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোন রকমের এঞ্জিন ছাড়াই তৈরী করা হয়ে থাকে. নিজেদের দেশে যথেষ্ট পরিমানে বিমানের জন্য এঞ্জিন তৈরীতে সাফল্য স্বত্ত্বেও চিন আপাততঃ বাধ্য রাশিয়ার বেশী ভাল করে তৈরী ও ভরসা যোগ্য এঞ্জিন ব্যবহার করতে”.

ভাসিলি কাশিনের কথামতো, গত ও এই বছরে এঞ্জিন সরবরাহের জন্য নতুন ও আরও বড় চুক্তি করা হয়েছে. চিনের চুক্তির ফলে মস্কোর স্যালুট কারখানায় আএল- ৩১এফ এঞ্জিন আরও আগামী কয়েক বছর ধরে তৈরীর জন্য বায়না করা হয়ে গিয়েছে.

চিন তারই সঙ্গে রাশিয়ার সামুদ্রিক হেলিকপ্টার কা- ৩১ রেডিও নির্ণয়ের জন্য কেনা ও পরিবহনের জন্য মি -১৭ হেলিকপ্টার কেনা চালিয়ে যাচ্ছে. বিমান প্রতিরক্ষা বিষয়ে সহযোগিতার সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল এর আগে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আনাতোলি সেরদ্যুকোভ ঘোষণা করেছেন যে, চিনকে ২০১৭ সালের পরে এস – ৪০০ ধরনের রকেট ব্যবস্থা সরবরাহ করা সম্ভব হবে, কারণ বর্তমানে এই রকেট তৈরী করার কারখানা রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর জন্য তৈরী করতেই ব্যস্ত রয়েছে. তাছাড়া, বর্তমানে অনেকগুলি যৌথ প্রকল্পের বিষয়েও আলোচনা চলছে, যেমন, সম্মিলিত ভাবে ভারী পরিবহনের হেলিকপ্টার নির্মাণ ও উত্পাদন করা নিয়ে.