ইজিপ্টের নতুন নেতৃত্ব ১৯৭৯ সালের ইজরায়েলের সঙ্গে ক্যাম্প ডেভিড শান্তি চুক্তির কিছু আলাদা অংশ নতুন করে দেখতে পারে. এই ধরনের সম্ভাবনার কথা মস্কো শহরের ইজিপ্টের রাষ্ট্রদূত আলা এল- হেদিদি নতুন রাষ্ট্রপতি পদে অভিষিক্ত মুহামেদ মুর্সির দায়িত্বভার গ্রহণ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাদ দেন নি.

গত সপ্তাহে ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স এক সংবাদ প্রকাশ করেছে যে, মুর্সি সম্ভবতঃ ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির শর্ত নতুন করে পর্যালোচনা করে দেখতে চান. এই চুক্তি অনুযায়ী ইজরায়েল ইজিপ্টকে আগে অধিকৃত সিনাই উপদ্বীপ অঞ্চল ফেরত দিয়েছিল কায়রোর পক্ষ থেকে ইহুদী রাষ্ট্রকে কূটনৈতিক স্বীকৃতী দেওয়ার পরিবর্তে. এই চুক্তি একই সঙ্গে পূর্ব নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার শর্ত. বিগত সময়ে অনেকেই ইজিপ্টে বলেছে যে, এই শর্ত - তাদের দেশের জন্য লাভজনক নয়.

পরে মুহামেদ মুর্সি ঘোষণা করেছেন যে, প্রাক্তন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিই বজায় থাকবে. ইজরায়েলের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে কায়রোর নতুন ক্ষমতাসীন লোকদের ইচ্ছা সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হলে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাষ্ট্রদূত বলেছেন:

“আমরা সমস্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বীকার করেছি, আর ক্যাম্প ডেভিড চুক্তিও এর মধ্যে পড়ে. তাতে কিছু অংশ রয়েছে, যা যদি কোন এক পক্ষ কোন রকমের পরিবর্তন করতে চায়, তবে তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে”.

রাষ্ট্রদূত আরও বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন. ইজিপ্টের প্রয়োজন সবচেয়ে বাস্তব সমস্যার সমাধান করা: নতুন সরকার গঠন ও নতুন প্রশাসন গঠন, দেশের সংবিধান পরিবর্তন. কূটনীতিবিদ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যে, মুর্সির পক্ষে বেশী কাছের ফরাসী ধরনের প্রশাসনের গঠন: রাষ্ট্রপতি ও পার্লামেন্ট প্রশাসিত প্রজাতন্ত্র. এই বছরের শেষের মধ্যে সংবিধানের খসড়া তৈরী হয়ে যাবে, তা নিয়ে দেশে গণ ভোটের আয়োজন করা হবে ও নতুন করে পার্লামেন্ট নির্বাচন করা হবে. ২০১৩ সালের বসন্তে কূটনীতিবিদ আশা করেছেন যে, দেশে রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে নবীকরণ করা শেষ হবে. মুহামেদ মুর্সির অর্থনৈতিক পরিকল্পনাও রয়েছে – এটা দেশে খোলা বাজার অর্থনীতি ও পর্যটন বৃদ্ধি করা. কোন রকমের বাইরের শক্তির প্রতি আলাদা করে প্রবণতা না দেখিয়ে অতুলনীয় রকমের রাজনৈতিক ভাবে উন্মুক্ত নীতি নেওয়া, বলা যেতে পারে যে, তাঁর জন্য কাছের হল বহু মেরু বিশিষ্ট বিশ্বের নীতি. আর রাশিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার ক্ষেত্রে রয়েছে এই রকমেরই ভরসার কথা বলেছেন আলা এল- হেদিদি.

রবিবারে মুহামেদ মুর্সি সরকারি ভাবে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক বাহিনীর কর্তৃত্বের হাত থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন. বাস্তবে ক্ষমতা হস্তান্তর এত দ্রুত হবে না: নতুন সরকারি সংস্থা গুলি তৈরী হবে আরও বহু দিন ধরেই.