ভারতের বিশাখাপত্তনমে ভারতীয় নৌবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় নেতৃত্বের দপ্তরে কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক আক্রমণ করেছে চিনের হ্যাকাররা. ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী নেট ওয়ার্ক ভেঙে ঢোকা হয়েছিল ও গোপনীয় তথ্য চিনের কম্পিউটারের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে.

হ্যাকাররা যে আক্রমণ করেছিল, তা খুব একটা জটিল ছিল না. তদন্তে যেমন প্রমাণিত হয়েছে যে, এই নেটওয়ার্কে ভাইরাস ঢোকান হয়েছিল, যা চিনে তথ্য সংগ্রহ করে পাঠিয়েছে. একই ভাবে কিছুদিন আগে চিন থেকে হ্যাকাররা পাঁচটি বহুজাতিক খনিজ তেল ও গ্যাস কোম্পানীর নেটওয়ার্ক ভেঙে ঢুকেছিল. সেখান থেকে বিনিয়োগ প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য চুরি করা হয়েছিল, তারই সঙ্গে চুরি হয়েছিল টেন্ডারে অংশ গ্রহণের পরিকল্পনা, চুক্তির খসড়া ও খনিজ তেল ও গ্যাসের উত্পাদন ক্ষেত্রের কর্ম পরিকল্পনা.

ভারতীয় পূর্বাঞ্চলীয় নৌবাহিনীর সদর দপ্তর থেকে চুরি করা তথ্যের পরিমান ও তার গুরুত্ব নিয়ে বর্তমানে তদন্ত করা হচ্ছে. পূর্বাঞ্চলীয় নৌবাহিনীর সদর দপ্তর থেকে ভারতীয় নৌবাহিনীর দক্ষিণ চিন সাগরে উপস্থিতি দেখাশোনা করা হয়. ভারতের প্রথম পারমানবিক ডুবোজাহাজ আরিহান্ত এই দপ্তরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে.

আজ ভারতের সামরিক নৌবাহিনী – বিশ্বের একটি বৃহত্তম বাহিনী. ভারত বিশ্বে পাঁচটি শক্তিশালী সামুদ্রিক রাষ্ট্রের একটি. এই কারণে বর্তমানে তাদের সমুদ্রে চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে. অংশতঃ, ভারত মহাসাগরের প্রতি চিনের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের বিষয়ে মনোযোগ দিতে হচ্ছে. তার ওপরে, নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তারা নিয়মিত ভাবে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করা দিয়ে পরিবর্তিত করছে, এই রকম মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ইয়াকভ বেরগের বলেছেন:

“চিন চায় নিজেদের সামরিক সামুদ্রিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে. আর এটা বোঝা যাচ্ছে, কারণ তারা খুবই বেশী করে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা থেকে ভারত মহাসাগর দিয়ে জ্বালানী আমদানীর বিষয়ে নির্ভরশীল, আর তার মানে সেখানে নিজেদের সামরিক সামুদ্রিক পথ থাকার প্রয়োজন রয়েছে বাণিজ্যকে নিরাপদ করার জন্য. তাই তারা খুবই সক্রিয় ভাবে জলের নীচে ও উপরে চলার উপযুক্ত জাহাজ তৈরী করছে, আর তারই সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে, সবচেয়ে কঠিন সমস্যার – বিমান বাহী জাহাজ তৈরী করা”.

সবচেয়ে বেশী করে চিন ও ভারতের বিরোধ লক্ষ্য করা গিয়েছে দক্ষিণ চিন সমুদ্রে. বেজিং ভিয়েতনামের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতায় উদ্বিগ্ন, তারা খুবই মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করছে ভারত- ভিয়েতনামের সমুদ্র উপকূলে খনিজ তেল ও গ্যাস আহরণের প্রকল্প গুলিকে ও তাদের সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে. চিন নিজেদের তরফ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে, তারা চাইছে ভারত মহাসাগরে নিজেদের যুদ্ধ জাহাজের জন্য ঘাঁটি তৈরী করতে.

বেজিং ও নয়া দিল্লীর সামরিক- রাজনৈতিক বিরোধের প্রতি মনোযোগ দিয়ে দেখা হচ্ছে ওয়াশিংটন থেকে. প্রতিবেশী দের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হলে, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাল, যারা চাইছে চিনকে বেঁধে রাখার রাজনীতি করতে.

স্বার্থের সংঘাত ভারতকে উদ্দীপ্ত করেছে নিজেদের সামরিক সামুদ্রিক ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য. তারা পারমানবিক ডুবোজাহাজ আরিহান্ত তৈরী করার কাজ দ্রুত করেছে, ২০২০ সালের মধ্যে তিনটি বিমান বাহী জাহাজ ও ৭০টি কর্ভেট, ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেট জাহাজ বানানোর সম্ভাবনা রয়েছে. ভারতে বেশী করে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে বিশ্বের সামুদ্রিক অঞ্চলে তথ্য ও পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াকিবহাল থাকার বিষয়ে. এর জন্য আধুনিক করা হচ্ছে লক্ষ্য করার ব্যবস্থা, যার মধ্যে সামরিক কৃত্রিম উপগ্রহ, ড্রোন বিমান, হেলিকপ্টার ও গুপ্তচর বিমানও রয়েছে. এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, এটাই প্রাথমিক দিক থেকে চিনের হ্যাকারদের আগ্রহের বিষয় ছিল, যারা ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে আক্রমণ করেছে.