রাশিয়ায় শিশুদের গ্রীস্মকালীন শিবিরগুলি ক্রমশঃই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে. দাম ক্রমাগত বাড়ছে, অনেকের পক্ষেই সংকুলান করা সম্ভব হচ্ছে না, আর পরিষেবার উত্কর্ষতার মান তেমন উঁচু নয়.

‘লেভাদা- সেন্টার’ কোম্পানী প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী রাশিয়ার স্কুলপড়ুয়াদের ১০% এই বছর গ্রীস্মকালে শিশুদের শিবিরে যাবে. রাশিয়ায় সব মিলিয়ে ৫৭০০ শিশুদের শিবির ও স্বাস্থ্যোদ্ধার কেন্দ্র আছে. কেন্দ্রগুলি দুভাগে বিভক্ত – অত্যন্ত উত্কর্ষমানের, কিন্তু সবার পক্ষে সংকুলান করা সম্ভব নয়, আর আছে কেন্দ্র তেমন উঁচুমানের নয়, নিরাপত্তার প্রশ্নও সেসব জায়গায় আছে. মোটামুটি ভালোমানের মাঝারি স্তরের শিশু শিবির, যেখানে পরিষেবার দর খুব বেশি নয়, সেইসাথেই উত্কর্ষমানের, সেরকম কেন্দ্র দেশে খুব কম.

গতবছর গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল শিশু শিবিরে ১৩টি বিয়োগান্তক ঘটনা. অভিভাবকরা শিবিরে নজর না দেওয়ায় কয়েকটি শিশু জলে ডুবে যায়, কেউ কেউ জানলা থেকে নীচে পড়ে গেছিল, কোনো কোনো শিশু গুরূতর আঘাত পেয়েছিল. সেইজন্যেই মা-বাবারা শিশু শিবির ও নিজস্ব ফার্ম হাউসের মধ্যে বাছতে গিয়ে সাধারনতঃ ফার্ম হাউসই বাছে.

তবে দেশের সব এলাকাতেই উত্কষমানের গ্রীস্মকালীন শিশু শিবিরও আছে – স্বাস্থ্যোদ্ধার কেন্দ্র, ক্রীড়া কেন্দ্র, ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র. সেখানে শিশুদের বাস্তবিকই শারিরীক ও মানসিক বিকাশ ঘটে. আগের মতোই সোভিয়েত আমল থেকে বিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলি জনপ্রিয়, যেমন তুয়াপসে শহরে অবস্থিত শিশু শিবির ‘ওরলিয়োনক’.

ভালো শিবিরগুলি সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল. আর নীচুমানের শিশু শিবিরগুলিকে যখনতখন নির্দ্ধারণ করা দুস্কর. নিজেদের ওয়েব-সাইটে তারা একরকম বিজ্ঞাপন দেয় আর বাস্তবে সবকিছু বিপরীত. পর্যবেক্ষন করে দেখা যায়, যে সেখানে কাজ করে অপারদর্শী কর্মচারীরা, শিবিরের ভবনগুলির ভগ্নদশা ও ভীড়ে উপচে পড়ছে. সবচেয়ে বড় কথা হল – ঐ সব শিবিরে পরিষেবার মূল্য কম নয়.

‘সোলভেক্স-ট্র্যাভেল’ নামক পর্যটন কোম্পানীর উপ-প্রধান ল্যুদমিলা সিসোইকিনা উল্লেখ করছেন, যে শিশুদের বিশ্রামের দর সত্যিই খুব চড়া.

 

শিশু শিবির সফর করার মূল্য আকাশছোঁয়া হতে পারে – ১লক্ষ রুবল পর্যন্ত, তবে সেগুলি বিভিন্ন ধনী সরকারী দপ্তরের অধীন. গড়ে শিশু শিবিরে বিশ্রামের মূল্য ৩০-৪০ হাজার রুবল, তাছাড়া রাহাখরচা.

ট্যুরিস্ট এজেন্সীগুলি স্বীকার করছে – বিদেশে শিশু ও কিশোরদের ভ্রমণ প্রায়ই তুলনামুলকভাবে সস্তা ও অনেক বেশি নিরাপদ. আইন এর জন্য দায়ী নয়. এই বিষয়ে আইন ঠিকঠাক. আসলে শিবিরগুলো আইন পালন করে না – বলে মন্তব্য করছেন রুশ ফেডারেশনের সামাজিক কেবিনে কার্যরত পর্যটন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ রোমান বোবিলিয়োভ.

সমস্যাটা নির্দেশাবলী পালন করার সাথে সম্পর্কিত. যে সব সংস্থা বাচ্চাদের পরিষেবায় নিয়োজিত, তারা আইন পালন করতে বাধ্য, আর প্রসিকিউটর দপ্তরের কর্তব্য হচ্ছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা. ব্যাপারটা হচ্ছে এই, যে আমাদের এখানে প্রায়ই অর্থব্যয় কমানোটাই মুল লক্ষ্য. উচ্চ শিক্ষায়তনের শিক্ষার্থীদের নেওয়ার বদলে নেওয়া হয় অপারদর্শী সব কর্মচারী. হ্যাঁ, তাদের কম বেতন দেওয়া যায়, কিন্তু তার ফল হতে পারে সাংঘাতিক.

এটা বোঝা যায়, যে শিবিরগুলি সর্বদা ইচ্ছা করে আইন লঙ্ঘন করে না. প্রায়ই তাদের আর্থিক সামর্থ্যে কুলায় না. শিশু শিবির সংগঠণ করা কোনোদিনই লাভজনক ব্যবসা ছিল না. প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সফরের আয়োজন করা সহজ – পরিবহন, বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যাওয়া ও ফেরত পাঠানো, জীবনবীমা ও হোটেলের ব্যবস্থা করা -ব্যাস. স্কুলপড়ুয়াদের জন্য প্যাকেজ অনেক বড় – উত্সবের আয়োজন করা, বেড়াতে নিয়ে যাওয়া, শিবিরে অভিভাবকদের কাজ, সমুদ্র বেলাভূমিতে উদ্ধারকারীদের মোতায়েন রাখা. উপরোক্ত সবকিছু প্যাকেজে থাকতে হবে, অন্যদিকে দাম যেন খুব বেশি না হয়.

অবশ্যই এই কারণে পর্যটন এজেন্সীগুলির মুশকিল হয়. অনেক এজেন্সীই তাই সেই দিকে গেছে, যেখানে মুনাফা বেশি, অথচ দায়িত্ব কম.

তবে পরিস্থিতি ক্রমশঃ বদলাচ্ছে. মে মাসে রাষ্ট্রীয় দ্যুমা আইন প্রনয়ণ করেছে, যে আইন অনুযায়ী শিশুদের বিশ্রামের আয়োজনকালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করতে হবে নিপুনভাবে. শিশু শিবির সফরের জন্যও খুব সম্ভবতঃ বীমা করতে হবে. জুনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দমিত্রি মেদভেদেভ বীমার চুক্তি ছাড়া শিশুদের বেড়াতে পাঠানো নিষিদ্ধ করার দাবী জানিয়েছেন. কয়েকটি পর্যটন এজেন্সী নিজেরাই বাড়তি বীমার বন্দোবস্ত করেছে. কিন্তু এ সবকিছু শিশুদের ভ্রমণ ও বিরামের মূল্য কমাতে দেবে না. হয়তো নতুন আইন গৃহীত হলে ভ্রমণের দাম আরও বাড়বে, কিন্তু যদি পরিষেবার মানের উন্নতি হয়, তাহলে সেটা হবে যুক্তিযুক্ত.