৪ঠা জুন লন্ডনের গ্রীষ্ম অলিম্পিকের আগেই রাশিয়ার পূর্ব সাইবেরিয়াতে ইয়াকুতিয়া রাজ্যে শুরু হতে চলেছে এশিয়ার শিশু কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা. বিষয় বস্তুর দিক থেকে এটা সেই অলিম্পিক গেমসই. তবে তা আকারে অনেক কম ও আরও অল্প বয়সীদের জন্য করা হয়ে থাকে. আন্তর্জাতিক শিশু কিশোর ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বর্তমানের অলিম্পিক গেমসের থেকে একশ বছরের ছোট.

সবচেয়ে দ্রুত, শক্তিশালী ও নির্ভুল লক্ষ্যের ছেলে মেয়েদের জন্যে প্রথম প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে. তখন এই খেলায় যোগ দিয়েছিল মাত্র ছয়টি দেশের ছেলেমেয়েরা. চিন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, মঙ্গোলিয়া ও দুটি প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের রাজ্য কাজাখস্থান ও কিরগিজিয়া. রাশিয়ার হয়ে এখানে প্রতিনিধিত্ব করেছিল তিনটি রাজ্য – ইয়াকুতিয়া, বুরিয়াতিয়া ও তুভা. কিন্তু তার চার বছর পরেই ইয়াকুতিয়া রাজ্যে প্রতিযোগিতায় এসেছিল এশিয়ার থেকে ১৩টি দল: বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ভারত, কিরগিজিয়া, কাজাখস্থান, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও জাপান.

আর এই খুব শীঘ্রই এবারে - ৪ঠা জুলাই – শুরু হতে চলেছে পঞ্চম বারের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা – “এশিয়ার শিশু কিশোর”. তা হবে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে. তাতে অংশ নেবে প্রায় চার হাজার খেলোয়াড়, যারা আসবে এশিয়ার তিরিশটি দেশ থেকে ও রাশিয়ার বিভিন্ন রাজ্য থেকে. এই খেলার তালিকায় রাখা হয়েছে ২০টি ধরনের প্রতিযোগিতা. এবারে প্রথম করা হতে চলেছে কানে কম শোনে এমন ছেলেমেয়েদের জন্য সাঁতার, সাম্বো ও কুস্তি প্রতিযোগিতা.

প্রথম সব প্রতিনিধি দল এর মধ্যেই পৌঁছতে শুরু করেছে তাদের জন্য বিশেষ করে তৈরী করা অলিম্পিক ভিলেজে. তাদের জন্য শুধু খেলাধূলার জায়গাতেই উত্তেজক লড়াইয়ের ব্যবস্থা করা হয় নি, বরং হয়েছে অনেক বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন.

বর্তমানের উত্সবে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১২ টি দেশের লোক রয়েছেন, তার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার “ভায়াঙ্গ” পুতুল নাচের দল, দক্ষিণ কোরিয়ার যাযাবর পুতুল নাচের দল, চিনের কুনতসোই অপেরার দল, বাউলের দল – বাংলাদেশের যাযাবর সঙ্গীত শিল্পীদের দল.

ভারতের পক্ষ থেকে এই খেলার সময়ে সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি হয়ে আসছে কুটিআট্টম থিয়েটার, যা মলয়ালম ভাষায় আক্ষরিক অর্থে মানে হয় সম্মিলিত নাট্য. ২০০১ সালে এই থিয়েটারকে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির এক নিদর্শন বলে স্বীকার করেছে. তা বর্তমানের আধুনিক ভারতের একমাত্র থিয়েটার, যা পুরনো সংস্কৃত নাটকের ভিত্তিতেই তৈরী করা.

কেরালা রাজ্যে গত শতকের মাঝামাঝি এই থিয়েটার শুধু অভিনয় করা হত মন্দিরে. তাই সমস্ত চরিত্র ও ঘটনা ছিল মন্দিরে করার মতো দেব দেবীদের স্তুতি ও বন্দনার উপযুক্ত. এই থিয়েটারের কারণ ছিল পাপ মুক্তি ও দেব দেবীদের উত্সব করে পূজা করা. কিছুদিন আগেও এই থিয়েটার হওয়ার দিন স্থির করার জন্য গণক দের সাহায্য নেওয়া হত. এখন আর গণকদের কাছে সময় ঠিক করতে যাওয়া হয় না. কিন্তু এখনও এই থিয়েটার একবার শুরু করা হলে, তা থামানো যায় না, য়াই হোক না কেন এর অভিনয় শেষ অবধি করতেই হবে.