মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত আমেরিকা- ভারতের যৌথ উদ্যোগ ইউনিয়ন কারবাইড ইন্ডিয়া লিমিটেডের প্রধান ওয়ারেন অ্যান্ডারসনকে ১৯৮৪ সালের ডিসেম্বরে ভারতের ভোপাল শহরে ঘটা বিপর্যয়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে. আদালতের রায়ে বলা হয়েছে যে, ডো কেমিক্যালস ও তাদের মালিকানাধীন ইউনিয়ন কারবাইড ভোপালের কারখানার মালিক ছিল না এবং এমনকি তা চালাতো না, তারা এই কারখানা কিনেছে মাত্র ২০০০ সালে. তাই সমস্ত দায়িত্ব ভারতের মধ্য প্রদেশ রাজ্যের নেতৃত্বের উপরেই ন্যস্ত করা উচিত্, যেখানে এই কারখানা বাস্তবে কাজ করছিল. এই বিষয়ে ভারতের টাইমস অফ ইন্ডিয়া ও অন্যান্য বহু কাগজেই খবর প্রকাশিত হয়েছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

বিগত বছর গুলিতে ভারতীয় দের মনের মধ্যে গভীর হয়ে বসে যাওয়া ক্ষত শুকিয়ে যায় নি. ভোপালের রাসায়নিক সার উত্পাদনের কারখানার এই ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডি, যাতে তিন হাজার ভারতের মানুষ নিহত হয়েছিলেন ও তা বিশ্বের একটি সর্ব বৃহত্ যন্ত্রের কারণে হওয়া বিপর্যয় হয়েছিল. এই দুর্ঘটনার পর থেকে এত বছর ধরেই বিভিন্ন রকমের অসুখ, যা এই বিপর্যয়ের সঙ্গেই জড়িত, তাতে কম করে হলেও ১৫ হাজার লোক মারা গিয়েছেন. সব মিলিয়ে এই বিপর্যয়ের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা বিশাল – প্রায় ছয় লক্ষ লোক. এই এলাকার পরিবেশে এক অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছিল. স্থানীয় পরিবেশ বিজ্ঞানীরা যেমন জোর গলায় বলেছেন যে, বিপর্যয়ের এলাকায় মাটি বিষাক্ত ও জলের উত্সও বিষাক্ত. ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস সংবাদপত্র আমেরিকার আদালতের রায়ের খবর এক ছবি সহ ছেপেছে, যাতে দুজন বড় মানুষ একটি অন্ধ বাচ্চাকে নিয়ে যাচ্ছে, যে এর ফলে দৃষ্টিহীণ হয়েছিল.

১৯৮৯ সালে বহু দিন ধরে চলা মামলার পরে ইউনিয়ন কারবাইড কোম্পানী এই ট্র্যাজেডির কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের সব মিলিয়ে ৪৭ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল. কিন্তু ভারতীয় পক্ষ এই অঙ্ককে ন্যায় সঙ্গত ভাবেই যথেষ্ট বলে মনে করতে পারে নি. কিন্তু সমস্ত পরবর্তী কালে করা ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন কারবাইডের বিরুদ্ধে মামলা আমেরিকার পক্ষ থেকে নাকচ করা হয়েছিল.

এখানে মনোযোগ দেওয়ার মতো বিষয় হয়েছে সময় বাছাই, যখন আমেরিকার আদালত ইউনিয়ন কারবাইডের প্রধানকে দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ ভাবে রেহাই দিয়েছে. জুলাই মাসের শেষে লন্ডনে অলিম্পিক শুরু হবে. এই অনুষ্ঠানের এক স্পনসর ডো কেমিক্যালস – যাদের মালিকানায় ছিল ভারতের ইউনিয়ন কারবাইড. ভারত খুবই জোরালো ভাবে এই স্পনসর হওয়ার বিষয়ে প্রতিবাদ করেছিল. ভারতের অলিম্পিক অ্যাশোসিয়েশন প্রথমে এমনকি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এই লন্ডন অলিম্পিক বয়কট করার. রাশিয়ার রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর সের্গেই মাকারভ, অংশতঃ উল্লেখ করেছেন:

“এই ধরনের উপহার, যেমন অলিম্পিকের স্পনসর হওয়ার মর্যাদা ডো কেমিক্যালস কে দেওয়া অবশ্যই উচিত্ নয়. অলিম্পিক গেমস, সবাইকে প্রমাণ দিতে বাধ্য যে, এটা কোন ব্যবসা নয়, যেখানে যে কোন ধরনের নোংরা অর্থ নেওয়া যেতে পারে, বরং তা সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যের উত্সব”.

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছিল, যাতে ভারত লন্ডন অলিম্পিক বয়কট না করে. বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশের অনুপস্থিতি ২০১২ সালের অলিম্পিকের সম্মানের জন্য এক বড় আঘাত হতে পারত. আর ভারত এটা করে নি. আর আমেরিকার আদালতের রায়ের এই মুহূর্তে প্রকাশ, যেখানে সেই ট্র্যাজেডির দায় থেকে ওই কোম্পানীর নেতৃত্বকে রেহাই দেওয়া হয়েছে, তা শুধু তিক্ত অনুভূতি জাগিয়ে দেয়. তা ভারতীয়দের অপমান করে, ওয়াশিংটনের তরফ থেকে ভোপালের ক্ষতিগ্রস্তদের শেষ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশাকেও নষ্ট করে দেয়...