সিরিয়ার বিষয়ে ‘কার্যকরী দল’ নতুন অভিমুখের নির্দেশ দিয়েছে, যে পথে সে দেশের রাজনৈতিক সংস্কার সাধন হওয়া উচিত. সংকটমোচনের ক্ষেত্রে মুল পদক্ষেপ হবে অন্তর্বর্তীকালীন মোর্চ্চা সরকার.

সম্মেলনে যোগদানকারীদের কথায়, যে সব আন্তর্জাতিক খেলুড়েরা এই সমস্যায় আগ্রহ দেখাচ্ছে, তারা সবাই সিরিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠণের স্বপক্ষে. ঐ মন্ত্রীসভায় যেমন বর্তমান শাসক কর্তৃপক্ষের, তেমনই বিরোধীদের প্রতিনিধিদের থাকতে হবে. দেশে রক্তপাত বন্ধ করে সংঘাতরত পক্ষদের পারস্পরিক বিদ্বেষ দূর করার জন্য চেষ্টা করতে হবে. জাতিসংঘ ও আরব রাষ্ট্রলীগের বিশেষ প্রতিনিধি কোফি আন্নন এই উক্তি করেছেন.

আমরা এমন পরিপ্রেক্ষিত প্রস্তাব করছি, যা সিরিয়ায় গণতন্ত্র ও বহু মতামতের সহাবস্থান আনতে সমর্থ হবে, যেখানে মানবাধিকার ও আইন পালন করবে সব নাগরিক. এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠণের মাপাজোঁকা নির্দেশনা, যার মেয়াদ নির্দ্ধারণ করা হয়নি. অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সম্পূর্ণ অধিকার থাকবে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার.

মুখ্য আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে তিনটি বিষয়কে বিশেষ করে উল্লেখ করা উচিত – শাসন ক্ষমতার হস্তান্তর, অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে, জনবসতি থেকে ফৌজ হঠানো, আর সেইসাথেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের তরফ থেকে সিরিয়ার উপর চাপ সৃষ্টি করে যাওয়া. সবচেয়ে জটিল উপরোক্ত প্রথম বিষয়টি. মুল প্রশ্নটা হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালে রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের কি ভূমিকা হবে. রাশিয়ার অনুরোধে কাউকে আলাপ-আলোচনা থেকে বের করে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ.

শুরুতে এমন একটা বাক্য রচনা করা হয়েছিল, যেখানে বাদ দেওয়া হয়েছিল সেইসব লোকজনকে, যারা শান্তি অর্জন করায় বাধা সৃষ্টি করছে. এটা সিরিয়ায় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত নয়. এটা সার্বভৌম দেশের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে জাতিসংঘের চার্টারের সাথেও মানানসই নয়. আজকে গৃহীত কম্যুনিকে, যে সিরিয়াবাসীরা নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য নির্দ্ধারণ করবে – তার সাথেও সেটা খাপ খায় না. সাংবাদিক সম্মেলনে সের্গেই লাভরোভ বলেছেন, যে বাশার আসাদকে পদত্যাগ করার দাবী জানানো হয়নি. অন্যদিকে মার্কিনী বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিনটন আগের মতোই বাশার আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবী জানাচ্ছেন.

পরবর্তী থিসিস হচ্ছে – সিরিয়ায় সংঘর্ষকে তীব্রতর সশস্ত্র হতে না দেওয়া. বিরোধীরা এখনো অস্ত্রশস্ত্র পেয়ে চলেছে. মস্কো দাবী করেছিল, যে কম্যুনিকেতে বেআইনীভাবে অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ প্রতিরোধ করার কথা যেন প্রতিফলিত হয়. তবে এই দাবী মেনে নেওয়া হয়নি. তবে ঐ দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে, যে সকলপক্ষের হিংসাত্মক কার্যকলাপ বর্জন করতে হবে ও একসঙ্গে অগিসংবরন করতে হবে, বিরোধীদের দিকে নজর না দিয়েই শহরগঞ্জ থেকে ফৌজ অপসারন করতে হবে.

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা সংঘাতরত সবপক্ষের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন শাসন ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়া ত্বরাণ্বিত করার আহ্বাণ জানিয়েছে. আন্ননের ভাষায়, এখন শুরু হচ্ছে দূরূহ কাজ – সম্মেলনে যোগদানকারীরা ও সিরিয়ার সবপক্ষ, যে সব বিষয়ে বোঝাপড়া হয়েছে, তা পালন করতে বাধ্য. আন্নন এই ব্যাপারে সিরিয়ার তরফ থেকে সহযোগিতার আশা রাখছেন. নতুন সরকারের হাতে খুব একটা বেশি সময় থাকবে না লক্ষ্যসিদ্ধ করার জন্য. আর অন্যতম কর্তব্য হচ্ছে – সংবিধানের পরিবর্ধন ও বহুপার্টির যোগদান সহকারে নির্বাচনের আয়োজন করা.