মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার ফিরে আসা. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের ইজরাইল, ফিলিস্তিন ও জর্দানে রাষ্ট্রীয় সফরকে এমনভাবেই মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা.

আজকের দিনে পৃথিবীতে সবচেয়ে অস্থিরতায় জর্জরিত ভূখণ্ড হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য. একদিকে সিরিয়া একেবারে গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে. অন্যদিকে ইরান- যা কিনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিজেদের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করছে. সবশেষে রয়েছে সেই চিরকালব্যাপী আরব-ইসরাইল সংঘাত. ভ্লাদিমির পুতিনের সফর চলাকালে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে. হামাস সমর্থকরা ইসরাইলের সীমানায় গুলি করলে ইসরাইল এর জবাবে রকেট হামলা চালায়.

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ইসরাইল ও ফিলিস্তিন সরকার প্রধানকে যুদ্ধবিরতির আহবান জানিয়েছেন এবং এমনকি মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছেন. ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামেন নেতানিয়াহু পুতিনকে অনুরোধ জানিয়েছেন. অন্যদিকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাস ইসরাইলী কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনি কয়েদিদের মুক্তি দেওয়ার জন্য পুতিনের সাহায্য কামনা করেছেন.

দুটি দেশের নেতাদের সাথে চুড়ান্ত বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে পুতিন নেতানিয়াহু ও আব্বাসের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাতের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন নি তবে তিনি বিশ্বাস করেছেন যে, তারা চাইলে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারবেন.

পুতিন বলেছেন, ‘যে করেই হোক আমি এবং আমার ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ ও বন্ধুরা ফিলিস্তিনি পক্ষের সাথে আলোচনায় বসার ইচ্ছা দেখতে পেয়েছি এবং ফিলিস্তিনিরাও চাইছে শান্তিপূর্ণ আলোচনা প্রতিষ্ঠিত হোক. আমরা এ কারণেই বলেছিলাম যে, এটি কোন প্রাথমিক প্রক্রিয়া নয়, তারা ঐক্যমত দেখতে চায় যা পূর্বে সংকটকালিন সময়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল. কোন পক্ষের অবস্থান সম্পর্কে পর্যালোচনা আমি এখনই করতে চাইছি না. তবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এবং এতে আমার কোনই সন্দেহ নেই যে, ইসরাইলের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে এবং ফিলিস্তিনরাও সামনে এগিয়ে আসছে’.

এদিকে শুক্রবার বিশ্বের বার্তাসংস্থার সংবাদে জানানো হয় যে, মাহমুদ আব্বাস আগামী ১ জুলাই রোববার ইসরাইলী উপ-প্রধানমন্ত্রী শাউল মোফাজের সাথে আলোচনায় মিলিত হবেন. তবে ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ এ সংবাদের সত্যতা স্বীকার করে নি. তবে যদি ওই সাক্ষাত সত্যিকার অর্থেই অনুষ্ঠিত হয় তাহলে তা হবে বিরাট সাফল্য. ২০১০ সালের পর থেকে ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় নি.

সিরিয়া প্রসঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, সিরিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে এ সংকট সমাধানে অংশগ্রহণ করা উচিত. কার্যকরী পন্থা হল- যদি দেশের নাগরিকরাই নিজেদের মধ্যে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো ঔই সব ঐক্যমতের গ্যারান্টির পক্ষে সমর্থন জোগায়.

সব সমস্যা শান্তিময় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সমাধান হোক- তাই হচ্ছে রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি. মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সেরগেই সেরিওগিচেভ এমনটি বলেছেন. তিনি বলেন, ‘ওই সব অঞ্চলে রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি এখানে প্রকাশ করা হয়েছে এবং যার সার সংক্ষেপ হচ্ছে- আমরা ইসরাইল- ফিলিস্তিন সংকট শান্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বাজায় থাকুক আমরা তাই চাই. এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয়ের বিরোধীতা করছি. তা হলঃ সিরিয়ায় বিদেশী সামরিক শক্তির রাজনীতি অথবা যারা অস্ত্র সরবরাহ করে সেখানে গৃহযুদ্ধের জন্য ইন্ধন যোগায়’.

রাশিয়া শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে না বরং সেখানে সংস্কৃতির প্রসার ঘটাচ্ছে. ইসরাইলী রাষ্ট্রপতি শিমন পেরেজকে সাথে নিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন নেতানিয়া শহরে জার্মানি ফ্যাসিবাদী যুদ্ধ বিজয়ের স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করেন. ফিলিস্তিনের ভিফলেম শহরে চালু হয়েছে রাশিয়ার বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র. এছাড়া জর্দানে ঠিক জর্দান নদীর যে স্থানে যিশু খ্রিস্ট স্নান করেছিলেন সেখানে রুশি ধর্মানুরাগীদের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে. রাশিয়াকে উপহার স্বরুপ যে জায়গা দেয়া হয়ে সেখানেই ওই বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে. আর এ সব কিছুই হচ্ছে পবিত্র ভূমিতে রাশিয়ার অংশগ্রহন ঘনিষ্ঠ করারই উদাহরণ.