পাকিস্তানের “চাশমা” পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে বর্তমানে কার্যকরী দুটি রিয়্যাক্টরের সঙ্গে চিন আরও পরিকল্পনা নিয়েছে দুটি রিয়্যাক্টর বসানোর, আর এই ঘটনা বিশ্ব সমাজের উদ্বেগের কারণ হয়েছে. ভারতের টাইমস অফ ইন্ডিয়া সংবাদপত্র এই প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবারে একটি বড় প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে. প্রবন্ধে বলা হয়েছে এই সমস্যার রাজনৈতিক দিকটি নিয়ে কিন্তু প্রযুক্তিগত দিকটি প্রবন্ধের বাইরে থেকে গিয়েছে.

এরই মধ্যে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ, সামাজিক- রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন প্রাথমিক ভাবে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার দিক নিয়ে, তিনি বলেছেন:

“চিন পরিকল্পনা করেছে সেখানে বর্তমানে পুরনো হয়ে যাওয়া রিয়্যাক্টর বসানোর. এই ধরনের রিয়্যাক্টরের আধুনিক নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়. এটাই বেশী করে পারমানবিক প্রযুক্তি রপ্তানীকারক দের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েছে. কারণ পাকিস্তানের পারমানবিক পরিকাঠামো শান্তিপূর্ণ ও সামরিক কাজের জন্য আলাদা করে ভাগ করা নয়. আর যেহেতু শান্তিপূর্ণ অংশটি আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই খুবই কঠিন হবে এই কেন্দ্রে কেন দুর্ঘটনা ঘটার বিষয়ে আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়াতে”.

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে এই কারণে যে, পাকিস্তান ১৯৯৮ সালে ভারতের পরেই পারমানবিক বোমার পরীক্ষা করেছিল ও পারমানবিক অস্ত্র প্রসার রোধের চুক্তিতে স্বাক্ষর করে নি. তাছাড়া পাকিস্তানের বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও পারমানবিক বিশেষজ্ঞ আবদুল কাদের খান স্বীকার করেছেন যে, তিনি সেই ২০০৪ সালেই পারমানবিক প্রযুক্তি নিয়ে তথ্য দিয়েছিলেন উত্তর কোরিয়া, লিবিয়া ও ইরানকে, তাই এই প্রসঙ্গে উত্থাপন করে ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ বলেছেন:

“চিন যে সমস্ত রিয়্যাক্টর পাকিস্তানে তৈরী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে – এটা “ভারী জলে” চলা রিয়্যাক্টর. অর্থাত্ সেগুলিতে কাজের জন্য সামরিক প্লুটোনিয়ামের ব্যবহার করা যেতে পারে”.

পারমানবিক প্রযুক্তি রপ্তানীকারক দেশ গুলি চিনের কাছে আহ্বান জানিয়েছে যে, পাকিস্তানে “হাল্কা জলে” চলা রিয়্যাক্টর স্থাপন করতে. সেই গুলি কম বিপজ্জনক. আর যা আরও বেশী গুরুত্বপূর্ণ, তা হল “হাল্কা জলে” চলা রিয়্যাক্টরের কাজের ফলশ্রুতি হিসাবে যে প্লুটোনিয়াম পাওয়া যেতে পারে, তা পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করার জন্য কমই কাজে লাগে.