তেহরানের সঙ্গে খনিজ তেলের বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ দেশ গুলির রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্ক গুলির বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে. এর আগে ব্যক্তিগত মালিকানায় চলা অর্থনৈতিক সংস্থা গুলির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছিল, যারা সেই ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে কর্ম সূত্রে আবদ্ধ ছিল. আর ১লা জুলাই থেকে ইউরোপীয় সঙ্ঘ ইরানের বিরুদ্ধে খনিজ তেলের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল করতে চলেছে. জ্বালানীর বাজারে বিশ্বের এক অন্যতম বৃহত্ ক্রীড়নকের বিরুদ্ধে এই ধরনের প্রচুর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও দমন আমাদের কোথায় নিয়ে ফেলবে?

আর কয়েকদিন বাদেই ইউরোপে ইরানের থেকে আসা খনিজ তেল থাকবে না. শুধু ব্যবহার সেই টুকুই, যা আগে থেকে করা চুক্তির ফলে থেকে যাবে. তেহরানকে নিজেদের পক্ষ থেকে শাস্তি দেওয়ার জন্য ইউরোপীয় সঙ্ঘ এমনকি খুবই গভীর সঙ্কট গ্রস্ত গ্রীসকেও ইরান থেকে ছাড় দেওয়া দামে খনিজ তেল আমদানী করতে নিষেধ করেছে. ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য লক্ষ্য করতে পারা ব্যাঙ্ক গুলিকেও কাজে কর্মে আটক করা একই কারণে করা হয়েছে – ইরানের পক্ষ থেকে তাদের প্রধান কাঁচামাল বিক্রী করা বন্ধ করে দেওয়া. ইউরোপীয় সঙ্ঘের ভাগে ইরানের মোট রপ্তানীর শতকরা ২০ শতাংশ কালো সোনা পড়ত: এটা প্রায় তিন কোটি টন বছরে.

কিন্তু ইরান ইউরোপীয় সঙ্ঘের থেকে হওয়া রপ্তানী বন্ধের জন্য ক্ষতিকে সহজেই অন্য দেশ গুলির জন্য পূরণ করতে পারবে. সুতরাং এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ফল হবে বলা যেতে পারে শর্ত সাপেক্ষ ভাবেই, এই রকম মনে করে নিকট প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের সভাপতি ইভগেনি সাতানোভস্কি বলেছেন:

“বিশ্বের অর্থনীতি একই সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম দামী ও সস্তা খনিজ তেল নিয়ে. সঙ্কট এর ব্যবহার কমিয়েছে শিল্পোন্নত দেশ গুলিতে ও এই নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে বিশ্বের বাজারে ইরানের খনিজ তেল কমে যাওয়াকে মিশিয়ে দিয়েছে. সেই ধরনের রাষ্ট্র রয়েছে, যেমন দক্ষিণ আফ্রিকা, যারা খুবই বাড়িয়ে দিয়েছে ইরানের খনিজ তেল কেনা. তুরস্ক রয়েছে, যারা ইরানের খনিজ তেল ব্যবহার কমায় নি. দক্ষিণ কোরিয়া কমিয়েছে, কিন্তু অল্পই. ভারতের কোম্পানী গুলি সরকারি ভাবে দেশের জাতীয় মালিকানার কোম্পানী গুলির জন্য ইরানের খনিজ তেল আমদানী কম করলেও ব্যক্তিগত মালিকানার কোম্পানী গুলিতে এর ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে. এটা এই কারণেই করেছে, যাত ইরানের উপরে দামের বিষয়ে চাপ বাড়াতে পারে ও ফলে সেই একই পরিমান অর্থের বিনিময়ে ইরানের থেকে আমদানী করা খনিজ তেলের পরিমান বাড়াতে পারে”.

ইরান নিষেধাজ্ঞার জন্য প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার হারাবে, তাদের বাত্সরিক খনিজ তেল রপ্তানী থেকে আয় মোট ১০ হাজার কোটি ডলারের থেকে. আর এটা অবশ্যই কিছু বিপর্যয়ের মতো ব্যাপার নয়. তাছাড়া, নিষেধাজ্ঞা এই ঐস্লামিক দেশে অর্থনৈতিক সক্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে অন্যান্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্র গুলিতে. অন্য ভাবে বলতে হলে, ইরানের উপরে নিষেধাজ্ঞা থেকে বিশ্বের বাজারে কোন বিপর্যয় আশা করা যেমন ঠিক হবে না, তেমনই তাদের নিজেদের অর্থনীতি ধ্বংসের সম্ভাবনাও নেই. কিন্তু সাধারন ইউরোপীয় লোকেদের অর্থের পুঁজিতে ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের রাজনীতির প্রভাব এখনই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. আর এই সবই হয়েছে সেই অবাস্তব সন্দেহের কারণে যে, তেহরান পারমানবিক বোমা তৈরী করতে পারে.

অন্য কথায় বলতে হলে, নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও তার ফল পশ্চিমের পক্ষ থেকে কোন বাস্তব তথ্যের উপরে ভিত্তি করে নেওয়ার জন্য হয় নি, হয়েছে তাদের নিজেদের উদ্বিগ্ন মনোভাবের জন্যই. এই ধরনের প্রতিক্রিয়া সাধারণতঃ ডাক্তারী ক্ষেত্রেই হয়ে তাকে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নয় – কিন্তু এখন এটাই পশ্চিমের পক্ষ থেকে ইরান প্রসঙ্গে নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে.