ভারতের বিমান বাহিনী রাশিয়া- ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত শব্দাতীত রকেট ব্রামোস ২০১৪ সালে নিজেদের অস্ত্র সম্ভারে যোগ করবে. এই বিষয়ে জানিয়েছেন মস্কো উপকণ্ঠের ঝুকোভস্কি শহরে আয়োজিত “যন্ত্র নির্মাণে প্রযুক্তি – ২০১২” ফোরামে ব্রামোস কোম্পানীর জেনারেল ডিরেক্টর শিবথানু পিল্লাই.

বর্তমানে নির্ণয় করা হয়েছে যে, ৪০টি সু- ৩০ এম কা ই বিমানে ভারতের বিমান বাহিনী ব্রামোস রকেট যোগ করবে – ভারত রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে নির্মিত খুবই শক্তিশালী এই রকেট. এটি দুই দেশের সামরিক প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতার এক অনন্য উদাহরণ, যা বিভিন্ন আকারে আজ বহু বছর ধরেই বিকশিত হয়েছে. রাশিয়া তৈরী আছে বিদেশের বহু অস্ত্র উত্পাদকের সঙ্গে প্রসারিত ভাবে সহযোগিতা করার জন্য, এই কথা ফোরামে উল্লেখ করেছেন সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় পরিষেবার ডিরেক্টর আলেকজান্ডার ফোমিন, তিনি এই সূত্রে বলেছেন:

“আমরা তৈরী আছি বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার প্রকল্পের জন্যই. আমাদের খুবই ভাল সব উদাহরণ রয়েছে এই ক্ষেত্রে বহু ইউরোপের দেশের সঙ্গে সহযোগিতার – যেমন ইতালি, জার্মানী, ফ্রান্স ও তার সঙ্গে চিন, ভারত ও ইজরায়েলের সঙ্গেও. আমরা চাই এই ধরনের পারস্পরিক ভাবে লাভজনক যোগাযোগ আরও মজবুত করতে, যাতে নিজেদের প্রযুক্তিগত উন্নতি ও যে ক্ষেত্রে প্রয়োজন, সেখানে বাইরে থেকে নেওয়া সম্ভব হয়. রাশিয়া এই অর্থে কোন বন্ধ দেশ নয়”.

অবশ্যই বিদেশের বায়নাদাররা সামরিক প্রয়োজনের জন্য রপ্তানী করা জিনিসের প্রতি দাবী বাড়িয়েছে. তাই সেই ধরনের শিল্প, যেগুলি এই জিনিস উত্পাদন করে, তাদের এই বিষয়ে প্রয়োজনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো দরকার. এই বিষয়ে উদাহরণ হতে পারে ক্রাসনাগোরস্কের “জ্ভেরেভ” নামাঙ্কিত কারখানা, যেটি বৈজ্ঞানিক- উত্পাদনের জন্য “অপটিক্যাল সিস্টেম্স অ্যান্ড টেকনোলজিস” কনসার্নের অঙ্গ. এই কারখানার ডেপুটি জেনারেল ডিরেক্টর ইউরি আব্রামভ ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

“রপ্তানী করা জিনিসের পরিমান সমগ্র উত্পাদনের শতকরা ৪০ ভাগ. এটা ট্যাঙ্কের জন্য যন্ত্র, তা প্রাথমিক ভাবে বিদেশে ট্যাঙ্ক গুলির আধুনিকীকরণের জন্য. সেখানে টি – ৯০ ও টি- ৮০ ট্যাঙ্ক রপ্তানী করা হয়. তাতে কৌশল- প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমরা এখানে প্রদর্শনীতে এনেছি দুটি যন্ত্র. এই গুলি কম্যান্ডারের সংযুক্ত লক্ষ্য স্থির ও পরিদর্শনের ব্যবস্থা. তা বর্তমানে তাকা একই ধরনের যন্ত্রের চেয়ে অনেকটাই ভাল ও তার ফলে গোলা ছোঁড়ার দূরত্ব স্থির অবস্থানও চলমান অবস্থায় অনেক বেশী হতে পারে. এই যন্ত্রের সবটাই তৈরী করা হয়েছে আমাদের দেশে উত্পন্ন জিনিস দিয়ে, যা আমাদের কনসার্নের কারখানা গুলিতেই বানানো হয়”.

রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি এই ফোরামে বাইরের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, যাঁরা আফ্রিকা, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এসেছেন, তাঁদের প্রচুর আগ্রহের কারণ হয়েছে. এই বিষয়ে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, কারণ এখানে স্থির অবস্থায় রাখা দৈত্যাকার সব সমরাস্ত্র, যেমন রকেট ও কামান ব্যবস্থা পান্তসির – সি১, কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়. রাশিয়া বিশ্বের সমরাস্ত্রের বাজারে নেতৃস্থানীয় অবস্থান বজায় রাখতে পেরেছে. দেশের থেকে অস্ত্র রপ্তানীর নিয়মিত ভাবে বেড়েই চলেছে, আর তা হয়েছে একেবারে অর্থমূল্যে ও সংখ্যার হিসাবেও, এই কথা উল্লেখ করে ফোরামে এক সম্মেলনে রাষ্ট্রীয় অস্ত্র প্রযুক্তি সহযোগিতা সংস্থার ডিরেক্টর আলেকজান্ডার ফোমিন বলেছেন:

“এখন আমাদের রপ্তানীর পরিমান গত বছরের হিসাবে ১৩৫ কোটি ডলারেরও বেশী হয়েছে. আমরা প্রায় সত্তরটি দেশের সামরিক সংস্থা সঙ্গে কাজ করছি. তাদের মধ্যে প্রধান – ভারত, চিন, ভিয়েতনাম ও অন্যান্য এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশ, নিকট প্রাচ্যের দেশ. তাদের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার দেশ গুলিও রয়েছে, অবশ্যই ভেনেজুয়েলা, ব্রাজিল, পেরু আছে. নতুন সহকর্মীদের মধ্যে, যাদের আমরা বিগত বছর গুলিতে পেয়েছি – আর্জেন্টিনা, ব্রুনেই, ভুটান, আমরা মায়ানমারের সঙ্গেও সামরিক প্রযুক্তি বিষয়ে সম্পর্ক ভাল করছি”.

২০১২ সালে রাশিয়া পরিকল্পনা করেছে দেশের অস্ত্র রপ্তানীর পরিমান গত বছরের চেয়েও বেশী বাড়ানোর, যা হয়েছিল ১৩৫ কোটি ডলারেরও বেশী.