রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের বিশেষ দূত কোফি আন্নান প্রস্তাব করেছেন সিরিয়াতে নতুন জাতীয় ঐক্য মন্ত্রীসভা তৈরী করার.

মন্ত্রীসভায় বর্তমানের ক্যাবিনেটের মন্ত্রীরা ছাড়াও বিরোধী পক্ষ ও অন্যান্য লোকরাও প্রবেশ করতে পারেন, জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কূটনীতিবিদ, যিনি কোফি আন্নানের নতুন পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত. একই সঙ্গে মন্ত্রীসভা থেকে তাদের বাদ দেওয়ার কথা হয়েছে, যাদের উপস্থিতি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে জটিল করতে পারে ও শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষতি করতে পারে. এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে, তার সম্বন্ধে কোনও সরাসরি উল্লেখ করা নেই. তারই মধ্যে প্রস্তাব রয়েছে যে, পশ্চিমের দেশ গুলি বোধহয় সিরিয়ার নেতৃত্ব থেকে বর্তমানের রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদকে বাদ দেওয়ার কথা প্রস্তাব করবে. কোফি আন্নানের উদ্যোগ সম্বন্ধে মন্তব্য করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ভ্লাদিমির ইসায়েভ উল্লেখ করেছেন:

“জাতীয় ঐক্য মন্ত্রীসভা গঠন সম্বন্ধে প্রস্তাব সব মিলিয়ে বাস্তব যুক্তি সম্মত. কিন্তু এখানে নির্দিষ্ট করে বলা দরকার, জাতীয় ঐক্য মন্ত্রীসভা মানে কি বলা হচ্ছে? কারণ, মনে তো হয় না যে, রাষ্ট্রপতি আসাদ, যাকে সেখানে, সব মিলিয়ে মনে হয়েছে যে রাখা হবে না, তিনি এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হবেন. আর এটা তাঁর মন্ত্রীসভার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য. দ্বিতীয়তঃ, বিরোধী পক্ষের থেকে এই মন্ত্রীসভায় কে যোগ দেবে? কারণ তথাকথিত শান্তি প্রস্তাবে অনিচ্ছুক বিরোধী পক্ষও রয়েছে, যারা সেই দেশে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম করছে. সিরিয়ার জনগন তাদেরকে নিজেদের দেশের মন্ত্রীসভার কর্ণধার হিসাবে কি দেখতে চাইবেন? আমি মনে করি যে, শান্তি প্রস্তাবে অনিচ্ছুক প্রতিপক্ষ, মনে তো হয় না যে, আসাদের পক্ষের লোকদের সঙ্গে এক সাথে বসবেন, আর আসাদের পক্ষের লোকরাও তো মনে হয় না যে, অনিচ্ছুক বিরোধীদের সঙ্গে বসতে রাজী হবে”.

কোফি আন্নানের উদ্যোগ সিরিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের একটি মুখ্য বিষয় হবে. তা সামনের শনিবারে জেনেভায় হতে চলেছে, যেখানে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও ইরাকের, তুরস্কের, কাতারের, কুয়েইতের, রাষ্ট্রসঙ্ঘের, আরব লীগের ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের প্রতিনিধিরা থাকছেন. কোফি আন্নান মুখ্য দেশ গুলির সঙ্গে সিরিয়াতে রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই আলোচনা করে দেখেছেন. অংশতঃ, তাঁর রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভের সঙ্গে টেলিফোনে কথাবার্তা হয়েছে.

বৃহস্পতিবারে মস্কো শহরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, জেনেভায় সাক্ষাত্কারের জন্য কোনও রকমের আগে থেকে সম্মতি ক্রমে গৃহীত পরিকল্পনা নেই, তা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে.লাভরভের কথামতো, এই বৈঠক সিরিয়ার মধ্যেই আলোচনা শুরু করাতে বাধ্য, তার ফলাফল আগে থেকেই ঠিক করে দিতে নয়.

জেনেভায় সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে যা বলা যেতে পারে, তাতে চোখে পড়ছে এখানে সৌদি আরব ও ইরানের অনুপস্থিতি. জেনেভার ফোরামের প্রাক্কালে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দপ্তরের প্রধানরা রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে আলোচনা করবেন. আশা করা হয়েছে যে, লাভরভ ও হিলারি ক্লিন্টন সিরিয়াতে রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করবেন. মস্কোতে মনে করা হয়েছে যে, সিরিয়ার লোকদের নিজেদের উচিত্ ঠিক করা যে, এই দেশে কে নেতৃত্ব দেবে.

জেনেভার ফোরামে এটাই হবে প্রধান বিষয়. তাতে ইরান ও সৌদি আরবকে ডাকা হয় নি. রাশিয়া এই সম্মেলনে তেহরানের অংশগ্রহণ নিয়ে চাপ দিয়েছিল, তাতে তেহরানের সরকারি প্রতিনিধিদের দেখার ইচ্ছা ব্যক্তও করেছিলেন কোফি আন্নান, যিনি নিজেই এখানে আমন্ত্রিতদের তালিকা তৈরী করেছেন. কিন্তু একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমের অন্যান্য দেশ গুলি ইরানের লোকদের সঙ্গে এক টেবিলে বসতে আপত্তি জানিয়েছিল. সম্ভবতঃ, ইরানের অনুপস্থিতির কারণেই কোফি আন্নান ঠিক করেছেন এটার ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য সৌদি আরবকে অনুপস্থিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যারা সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সব রকম ভাবেই সাহায্য করছে.

তা সে যাই হোক না কেন, রাষ্ট্রসঙ্ঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মেদ হাজাই ঘোষণা করেছেন যে, পশ্চিমের তরফ থেকে বাস্তবকে অস্বীকার করতে চাওয়ার আরও একটি জাজ্বল্য প্রমাণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. কোফি আন্নান নিদের প্রতিনিধির মাধ্যমে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি ইরানকে সম্মেলনের ফলাফল নিয়ে জানাবেন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তেহরানের অংশগ্রহণ চালিয়ে যাওয়ার জন্য.