প্রিয় বন্ধুরা, আদাব!

শুভ অপরাহ্ন!

স্টুডিও থেকে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছে ভাষ্যকার কৌশিক দাস.

আজ আপনারা শুনবেন---

হালাল খাদ্য – বিমান যাত্রীদের জন্য. রাশিয়ায় এই প্রথম বিমান যাত্রীদের জন্য হালাল খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে.

কাজানে তৃতীয়বার তাতারদের ধর্মীয় কর্মীদের সর্বরাশিয় সম্মেলন হয়ে গেল.

মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত এশিয়া ও আফ্রিকার দেশসমূহের উচ্চ শিক্ষায়তনের সম্পর্কে বলবেন রাশিয়ায় সৌদী আরবের রাষ্ট্রদূত.

সুতরাং, এবার শুনুন আমাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক অনুষ্ঠাণ ‘ইসলাম ও মুসলমান ভাইয়েরা’.

রাশিয়ায় এই প্রথম বিমানযাত্রীদের হালাল খাদ্য দেওয়া শুরু হয়েছে. ‘ইউসুফ’ নামক কোম্পানী এই পরিষেবা দিতে শুরু করেছে, যারা অপরিহার্য সার্টিফিকেট পেয়েছে রাশিয়ার মুফতি পরিষদের কাছ থেকে.

আজকের দিনে শুধুমাত্র রাশিয়ার ইউরোপীয় মধ্যাঞ্চলেই প্রায় ১০০টা কোম্পানী হালাল খাদ্যদ্রব্য উত্পাদন করে, কিন্তু ইতিপূর্বে তাদের কেউই বিমানযাত্রীদের কথা ভাবেনি.

রাশিয়ায় আমাদের কোনো বিকল্প নেই. ‘ইউসুফ’ কোম্পানীর ফাইন্যানশিয়াল ডিরেক্টর কারেন ভসকানিয়ান বলছেন – আমাদের দেশে ইতিপূর্বে বিমানযাত্রীদের জন্য হালাল খাদ্যদ্রব্য ছিল না, যা ছিল, তা বিদেশ থেকে কেনা হতো.

মাত্র ৬ মাস আগে ঐ কোম্পানীটি চালু হয়েছে. আজকের দিনে কোম্পানী মুসলমান বিমানযাত্রীদের যে কোনোরকম হালাল খাবার দিতে প্রস্তুত. খাবার বানায় অসাধারন পাচক, যে বহুবিধ রান্নার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করেছে.

 

কারেন ভসকানিয়ান বলছেন – এখন আমাদের অনেক বিক্রেতা. হালাল খাদ্যদ্রব্য তাতারস্তান সহ রাশিয়ার বহু অঞ্চলে উত্পাদন করা হয়. এ সবই রুশী কোম্পানী, এবং তারা যে অফার দেয়, তারমধ্যে থেকে আমরা সেরা খাদ্যদ্রব্য বেছে নিই. সেই খাদ্যদ্রব্য দিয়েই আমরা খাবার বানাই.

বর্তমানে ‘ইউসুফ’ কোম্পানী রাশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরের সাথে হালাল খাবার সরবরাহ করার ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষর করছে. নীতি পরিষ্কার – টিকিট কাটবার সময় যাত্রীকে জানাতে হবে, যে সে হালাল খাবার খেতে চায়.

মস্কোর সাথে সংযুক্ত সব এয়ারলাইন্স হালাল খাবার কিনতে পারে ও তাদের যাত্রীদের পরিবেশন করতে পারে. প্রত্যেকটা ফ্লাইটে জাতিগত ক্যাটাগরি অনুযায়ী হালাল খাদ্যের পরিমান ঠিক করা হবে, কারণ রাশিয়ায় বহু জাতি, যারা ইসলাম ধর্ম অনুগামী. আমরা মুসলমানদের তাদের জাতীয় রান্নার বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে আলাদা আলাদা হালাল খাবার পরিবেশন করতে প্রস্তুত. সবশেষে ‘ইউসুফ’ কোম্পানীর ফাইন্যানশিয়াল ডিরেক্টর কারেন ভসকানিয়ান বলছেন – “আমার মনে হয়, রাশিয়ার মুসলমানদের জন্য এটা হবে ভালো উপহার”.

এবার শুনুন রাশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের খবর.

তাতারস্তানের রাজধানী কাজানে তাতার ধর্মীয় কর্মীদের সম্মেলন হয়ে গেল. উদ্বোধনী অনুষ্ঠাণে যোগ দিয়েছিলেন তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের মুখ্য প্রশাসক রুস্তাম মিন্নিহানভ ও ‘ঐস্লামিক মৈত্রী’ নামক সংস্থার সাধারন সম্পাদক একমেলেদ্দিন ইসানগলু. সম্মেলনে রাশিয়ার ৫৫টি অঞ্চল থেকে প্রায় ৯০০ ইমাম সমবেত হয়েছিল. তাতারস্তানের মুখ্য প্রশাসক যে সব ধর্মীয় কর্মীরা প্রজাতন্ত্রের বাইরে ধর্মপ্রচার করে, তাদের কাছে মাতৃভাষা ও তাতার জাতির সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য অটুট রাখার আহ্বাণ জানিয়েছেন. তাতারস্তানের প্রাক্তণ মুখ্য প্রশাসক মিন্তিমের শাইমিয়েভ প্রাচীণ শহর বলগারি পুণর্নির্মাণ করার প্রকল্পের বর্ণনা দিয়েছেন, তাতারদের পূর্বপুরুষরা ঐ শহরে ৯২২ খ্রীষ্টাব্দে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল. ‘ঐস্লামিক মৈত্রী’ নামক সংস্থার সাধারন সম্পাদক ডক্টর একমেলেদ্দিন ইসানগলু সম্মেলনে যোগদানকারীদের স্বাগত জানান. তিনি উল্লেখ করেছেন, যে তাতারস্তান ঐস্লামিক দুনিয়ার বিকাশে বড় অবদান রাখে. তিনি ১৯৭৯ সালে তার প্রথম কাজান শহর সফর করার স্মৃতিচারন করেছেন ও বলেছেন কাজান বছরের পর বছর ক্রমশঃই সুন্দরতর হচ্ছে.

দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের উচ্চ শিক্ষায়তনগুলিতে সুলেইমান কেরিমভের দাতব্য কর্মসূচী মাফিক বিনা পয়সায় হজযাত্রা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য লটারী হলো. রুশী শিক্ষা অ্যাকাডেমির আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রুসলান হাসানভ, রুশী রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রাউজা ওমারভা লটারীতে জিতেছে. সবমিলিয়ে এই বছর দাগেস্তানের শিক্ষামুলক ও ধর্মীয় উচ্চবিদ্যা কেন্দ্রের ১০০ জন ছাত্রছাত্রী হজযাত্রা করবে বিনা পয়সায়.

ভোলগা নদীর তীরবর্তী সারাতভ শহরে ইসলামী কমপ্লেক্স পরিদর্শন করতে এসেছিল সৌদী আরব থেকে প্রতিনিধিদল. অতিথিরা ভোলগা এলাকার মুসলিম ধর্ম পরিচালন কমিটির সক্রিয় কর্মীদের সাথে পরিচিত হয়েছে. সৌদী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রখ্যাত দাতা শেখ সঈদ বিন সঈদ, যিনি সারাতভে মাদ্রাসা খোলার জন্য যথেষ্ট আর্থিক সাহায্য দিয়েছিলেন. তার সাথে এই প্রথম সারাতভে এসেছিলেন ব্যবসায়ী শেখ হামাদ আল-জুমেখ. ইসলামী কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে অতিথিদের মহিলা ও পুরুষদের জন্য পৃথক প্রার্থনার হল, মাদ্রাসার বিভিন্ন ক্লাসরুম, গ্রন্থালয় ও ইনডোর স্টেডিয়াম ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে. তাদের মুসলিম ধর্ম পরিচালন কমিটির কর্মকান্ড সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করা হয়েছে.

উত্তর ককেশাসের আদিগেয়া প্রজাতন্ত্রে ৪৩-তম মসজিদের উদ্বোধন হয়েছে. মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে এমন এক গঞ্জে, যেখানকার জনসংখ্যা ৩০০. এই উপলক্ষ্যে নমাজ পড়ায় যোগ দেন মুফতি নুরবি এমিজ. তিনি ঐ গঞ্জের বাসিন্দা আস্কের হাকায়াকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন, যে তার জ্যেষ্ঠ ভাইয়ের স্মৃতিতে গঞ্জবাসীদের জন্য মসজিদ বানিয়ে দিয়েছে.

রাশিয়ার মুফতি পরিষদের সভাপতি শেখ রাভিল হাইনুদ্দিন ‘রাশিয়া’ দূরদর্শন চ্যানেলের ‘মুসলমানেরা’ নামক অনুষ্ঠাণের কর্মীদের সাথে সাক্ষাত করেছেন. ঐ সাপ্তাহিক অনুষ্ঠাণের ১০ বছর পূর্তি হলো. রাশিয়ার ৩৯টি এলাকার জন্য শত শত অনুষ্ঠাণ, বহু সহস্র সংবাদ মুসলমানদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে. মুফতি রাভিল হাইনুদ্দিন ঐ অনুষ্ঠাণের সব সংকলককে অভিনন্দন জানিয়েছেন ও উল্লেখ করেছেন, যে লক্ষ লক্ষ মুসলমানের জন্য এটা রাশিয়ায় একমাত্র নিয়মিত প্রোগ্রাম. রাশিয়ার মুফতি পরিষদের সভাপতি প্রোগ্রামের রচয়িতা ও সংকলকদের পুরস্কার দিয়েছেন.

মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলির ইনস্টিটিউটে আমীর বেন আব্দ আল-আজিজের তত্ত্বাবধানে ১৭-তম শিক্ষাবর্ষ শেষ হয়েছে. এই ১৭ বছরে ২ হাজারেরও বেশি স্নাতক ডিগ্রি পেয়েছে – তারা বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী ও বিভিন্ন পেশার. এ বছরের আনুষ্ঠানিক ডিগ্রি প্রদানের অনুষ্ঠান ছিল ১৫-তম. রাশিয়ায় সৌদী আরবের রাজদূত আলি হাসান জাফর স্নাতকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন.

রাশিয়ার প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলাম তত্ত্ববিভাগ বিজ্ঞানের ল্যাবোরেটরিতে পরিণত হয়েছে. এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ফ্যাকাল্টি ও সেইসাথে অন্যান্য বহু উচ্চ শিক্ষায়তন ঐ ফ্যাকাল্টির বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে উপকৃত হয়েছে. মুলতঃ বৈজ্ঞানিক কর্মকান্ডই ফ্যাকাল্টিতে বহু বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদদের আকৃষ্ট করে. বৈজ্ঞানিক কর্মকান্ড খাঁটি ইসলামের ভিত্তিতে পরিচালনা করা হয়, আরবী ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয় নির্ভুল পদ্ধতিতে. ফ্যাকাল্টি থেকে ১৫ বছরে যে ২ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী পাশ করেছে, যাদের মধ্যে অনেকে পরবর্তীকালে পি.এইচ.ডি., এমনকি ডি.এস.সি. করেছে, তা রাশিয়ায় এত মর্যাদাজনক মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার উচ্চস্তরের সাক্ষ্য দেয়. আমি সেইসাথেই রাশিয়ার শাসক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে চাই, যারা রাশিয়ার মুসলমানদের প্রতি সর্বদা মনোযোগ দেন, রুশী পররাষ্ট্র মন্ত্রককে ধন্যবাদ হজযাত্রার সময় মুসলিমদের সহায়তা করার জন্য, রাশিয়ার মুফতি পরিষদ ও মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসকদের ও ইসলাম তত্ত্ববিভাগের সব কর্মীদের একান্ত কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই.

এখানে উল্লেখ করবো, যে ডিপার্টমেন্ট চীফ দমিত্রি ফ্রালোভের নেতৃত্বে এশিয়া ও আফ্রিকা ইনস্টিটিউট গত ১৭ বছরে শুদ্ধ কোরান পাঠ ও আরবী ভাষার উপর প্রায় ২০টি বই রচনা করেছে.

প্রিয় বন্ধুরা, ‘ইসলাম ও মুসলমান ভাইয়েরা’ অনুষ্ঠাণটি এখানেই শেষ করছি. এটা সংকলন করেছেন ওলগা সিওমিনা, ভাষ্যকার ছিল কৌশিক দাস.