তিনশরও বেশী রাশিয়ার ও বিদেশী কোম্পানী মস্কো উপকণ্ঠের ঝুকোভস্কি শহরের আন্তর্জাতিক ফোরাম “যন্ত্র নির্মাণে প্রযুক্তি- ২০১২” তে যোগ দিচ্ছে ২৭শে জুন থেকে ১লা জুলাই পর্যন্ত.

“যন্ত্র নির্মাণে প্রযুক্তি” ফোরাম এই বারে হচ্ছে মাত্র দ্বিতীয় বার, কিন্তু সামরিক বিশেষজ্ঞরা এটিতে ইতিমধ্যেই খুবই দ্রুত বেড়ে ওঠা প্রদর্শনীর জিনিসের কথা উল্লেখ করেছেন. তাঁরা নতুন প্রদর্শনীকে ভবিষ্যতকে বিমান প্রদর্শনী “ম্যাক্সের” সঙ্গে তুলনা করে পদাতিক বাহিনীর জন্য প্রদর্শনী বলেই ভবিষ্যদ্বাণী করছেন. যন্ত্র নির্মাণ – এটা সেই শিল্প, যা না হলে সামরিক শিল্প কমপ্লেক্স উন্নতি করতে পারে না, কোন উচ্চ প্রযুক্তি যুক্ত উত্পাদন হতে পারে না, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার শিল্পোত্পাদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব শালী পদাধিকারী কর্মী মিখাইল কালিমানভ বলেছেন:

“আমাদের জন্য এই প্রদর্শনী – একটা নিজেদের সাফল্য প্রদর্শনের জায়গা. তার সঙ্গেই এটা একটা আলোচনার জায়গা, যেখানে প্রধান সমস্যা গুলি নিয়ে আলোচনার জন্যে প্রায় ৫০টি দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে প্রাথমিক ভাবে রয়েছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা. সেই সমস্ত পরিস্থিতিতে, যখন রাশিয়ার শিল্প গুলি সারা বিশ্ব জুড়ে উত্পাদনের শৃঙ্খল তৈরী করছে, তখন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করা যে, আমরা এই শর্তে কিভাবে পরবর্তী কালে কাজ করব. কি করে বাইরের কাঠামো আমাদের রাশিয়াতে উচ্চ প্রযুক্তি যুক্ত শিল্পে প্রভাব ফেলে”.

অবশ্যই সামরিক- প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা খুবই বিশেষ ধরনের ও তা যথেষ্ট সংরক্ষণশীলও বটে. অস্ত্র ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় উত্পাদকরা নিজেদের নো হাউ খুবই সন্দিগ্ধ ভাবে আড়াল করে রাখে. কিন্তু যদি আগে এই ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তি কেনা বেচার কথাই হত, তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টে গিয়েছে. কিছু প্রযুক্তি বিক্রী হয় যন্ত্রের সঙ্গেই. রাশিয়া যেমন, কিনেছে জার্মানী থেকে কম্পিউটার দিয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যা নিঝেগোরদ রাজ্যে স্থাপন করা বাকী আছে. আর ট্যাঙ্ক কেনার চুক্তি, বিমান অথবা রকেট কেনার চুক্তি এখন আর শুধু করা হয় না. যন্ত্র কেনা হয়ে থাকে পরবর্তী কালে সেই দেশেই তা উত্পাদনের ব্যবস্থা করার জন্য. উদাহরণ হিসাবে দেওয়া যেতে পারে রাশিয়া- ভারতের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরীর প্রকল্প আর “ব্রামোস” রকেট উত্পাদনের প্রকল্প, যা এই ঝুকোভস্কি প্রদর্শনীতেও দেখানো হবে. এটা করা হয়েছে রাশিয়া ও ভারতের যৌথ কর্মসূচীর মধ্যে.

বড় রুশ কোম্পানীরা এখানে দেখানোর জন্য নিয়ে এসেছে বেশ কিছু নতুন জিনিস. “সজজ্ভেজদিয়ে” কনসার্ন দেখাচ্ছে কৌশল গত ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ভাবে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা. “মোরইনফর্মসিস্টেমা – আগাত” কনসার্ন উপস্থাপনা করেছে রকেট ব্যবস্থা “ক্লাব- এম” এর, যেখানে নানা ধরনের রকেট রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে এই কোম্পানীর বিদেশে কাজকর্মের বিষয়ে ডিরেক্টর রস্তিস্লাভ আতকভ বলেছেন:

“আমাদের উত্পাদন সারা বিশ্বেই প্রয়োজন. প্রাথমিক ভাবে এটা রেডিও নির্ণয় স্টেশন, জাহাজের যন্ত্রপাতি, সমুদ্র তীরের রকেট ও কামান ব্যবস্থা. এখানে আমরা “ক্লাব- কে” ব্যবস্থা দেখাতে এনেছি – এটা একটা কন্টেনারের মধ্যে রাখা রকেট ব্যবস্থা, যার দু রকমের ধরণ হয়. একটা চল্লিশ ফুট কন্টেনারে – একেবারে স্বয়ং সম্পূর্ণ ভাবেই এটা কাজ করতে পারে, সেখানে ডিজেল জেনারেটর থেকে শুরু করে রকেট অবধি সব রয়েছে. অর্থাত্ চারটি রকেট, তা হয় জাহাজ বিরোধী, নয়তো কোন জমির উপরের লক্ষ্যে আঘাত হানার উপযুক্ত. এই ব্যবস্থা জমি থেকে, রেল গাড়ীর উপর থেকে আর গাড়ীর উপরে রাখা প্ল্যাটফর্ম থেকে কাজ করতে পারে, তা যে কোন রকমের জাহাজের উপরেই রাখা যেতে পারে. অর্থাত্ এটা একটা বহু রকমের কাজে সক্ষম ব্যবস্থা”.

পরিবহন প্রদর্শনী কমপ্লেক্স “রাশিয়ার” এলাকায় এসে এই ফোরামের বহু সংখ্যক দর্শকরাই, সন্দেহ নেই যে, আকর্ষিত হবেন এক বিরল শো দেখতে পেয়ে, যা আয়োজকরা প্রস্তুত করেছেন. এখানে সবচেয়ে মন কাড়া হবে – বিশাল অনুষ্ঠান “অজেয় ও বিখ্যাত”. এই প্রদর্শনীতে অংশ নেবে ট্যাঙ্ক টি- ৯০ ও টি – ৮০, সাঁজোয়া গাড়ী বেতেএর – ৮০, পদাতিক বাহিনীর যুদ্ধের গাড়ী বেএণপে – ৩, নিজে থেকে চলে এমন কামান এমএসতেআ. সবচেয়ে আগ্রহের হল – এটা ট্যাঙ্ক দিয়ে ব্যালে নাচ, যা দেখাবে টি- ৯০ ধরনের ট্যাঙ্ক, এরই একটা অংশ আপনারাও শুনতে পারেন:

কারমেন অপেরার সঙ্গীতের তালে ট্যাঙ্ক গুলি খুবই কুশলী ভাবে একটা ছোট জায়গায় নানা রকমের নাচের ভঙ্গিমা করে দেখাবে – সেখানে তরোয়ালের মতো, এমনকি ঈর্ষা করার মতো ভঙ্গিমাও পা- দে- ত্রুয়া করে দেখাবে, এই কথা ব্যাখ্যা করে আধুনিক শিল্পকলা বিভাগে প্রফেসর আন্দ্রেই মেলানিন জানিয়েছেন.

আর প্রদর্শনী কমপ্লেক্সের কাছে গাড়ী রাখার জায়গায় ৩০টিরও বেশী যন্ত্র দেখানো হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে রকেট – জেনিথ কমপ্লেক্স এস- ৩০০, বুক ব্যবস্থা, একসাথে রকেট ছোঁড়ার ব্যবস্থা গ্রাদ ইত্যাদি. বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, ঝুকোভস্কি শহরের ফোরাম সফল হবে, যা শুধু রাশিয়াতেই নয়, দেশের বাইরেও এখন জনপ্রিয় হয়েছে.