রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা পাকিস্তানকে আলাদা করেছেন জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে “সবচেয়ে সংজ্ঞাবহ উদ্বেগের কারণ” বলে আর বিশেষ করে আশঙ্কা করেছেন যে, পাকিস্তান এখন ধ্বংসের মুখে রয়েছে, আর তাদের পারমানবিক অস্ত্র সন্ত্রাসবাদীদের হাতে পড়তে পারে. এই ধরনের লাইন রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত “নিউ ইয়র্ক টাইমস” সংবাদপত্রের ওয়াশিংটনের সাংবাদিক ডেভিড ই স্যাঙ্গার লিখিত বাধা দেওয়া ও লুকিয়ে রাখা: ওবামার গোপন যুদ্ধ এবং আমেরিকার ক্ষমতার অদ্ভুত প্রয়োগ নামের বইতে. এর লেখক আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতির গোপন অলিন্দের ভিতরের “হেঁশেলের” খবর সম্বন্ধে ভালই ওয়াকিবহাল, তাই তিনি খুলে ধরেছেন বহু গোপনীয় তথ্য, যা সেই দেশের ক্ষমতার উচ্চ কোটিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে ব্যবহৃত হয়. তিনি অনেক লিখেছেন, যেমন, প্রশাসনের ভিতরেই ধারণা নিয়ে লড়াই নিয়ে – সামরিক বাহিনীর লোকজন ও অসামরিক কর্মীদের মধ্যে, “বাজ পাখী” ও “পায়রা” ইত্যাদি নিয়ে.

পাকিস্তান নিয়ে যে সব লাইন লেখা হয়েছে, তা পাকিস্তানে খুবই প্রসারিত প্রতিধ্বনি তুলেছে. বিশেষ করে পাকিস্তানে আমেরিকার সরকারি লোকরা যখন পাকিস্তানের কূটনীতিবিদ, পার্লামেন্ট সদস্য, সরকারি কর্মী ও সাংবাদিকদের জোর দিয়ে এই বই পড়ে দেখতে বলেছেন, তার পরে মঙ্গলবারে ডন সংবাদপত্রে এই বিষয়ে লেখা হয়েছে. আর এখানেই অনেক প্রশ্নের উদয় হয়, - এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“প্রথম প্রশ্ন: কে বা কি, ঠিক করে বলতে হলে, আজকের পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে নিয়ে এসেছে? এই কথা ঠিক যে, আজ এই দেশে খুব কম সমস্যা নেই – অর্থনীতিতে ও রাজনীতিতে সঙ্কট, জাতীয় স্বত্ত্বার প্রশ্নে, যা দেশের ভবিষ্যত নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়া মধ্যেই রয়েছে. কিন্তু আমরা মনে রাখব যে, মাত্র ১০ -১২ বছর আগেই এই ধনের চরম সঙ্কটের কোন রকম ইঙ্গিতই ছিল না. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবেশী আফগানিস্তানে সন্ত্রাস বিরোধী অপারেশনের নাম করে প্রথমতঃ, তখনকার পাকিস্তানের নেতৃত্ব, যা ছিল পারভেজ মুশারফের অধীনে, তাদের সকলের হাত পিছমোড়া করে বেঁধে দিয়েছিল, তাদেরকে প্রতিবেশী দেশে নিজেদের কাণ্ড কারখানা সমর্থন করতে বাধ্য করে. এটাই তখন দেশের বেশীর ভাগ লোকের পক্ষ থেকে বিক্ষোভের কারণ হয়েছিল. দ্বিতীয়তঃ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (সেই রাষ্ট্রপতি বুশের সময় থেকেই) খুব একটা কম শক্তি খরচ করে নি যাতে মুশারফকে হঠিয়ে দেশের ক্ষমতায় সবচেয়ে জনপ্রিয়তা কম ও দুর্বল এক প্রশাসনকে বসানো যায় – বর্তমানের প্রশাসনকে. মনে হয়েছিল, পরিস্থিতি বুঝি ওয়াশিংটন এই পরিস্থিতি, যখন দেশের ক্ষমতায় আমেরিকার থেকে বসানো লোকরাই রয়েছে, খুবই বেশী করে নিজেদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করতে পারবে. কিন্তু এটা হওয়ার বদলে তারা (এবারে ওবামার সময়ে) পাকিস্তানের উপরে শক্তি প্রয়োগ করে রাজনৈতিক চাপ দেওয়ার নীতিই ব্যবহার করে গিয়েছে, এমনকি দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়েও না থেমে ও সামরিক আগ্রাসনকে ব্যবহার করে”.

সুতরাং পাকিস্তান যদি আজ সবচেয়ে গুরুতর সঙ্কটে থাকে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অন্য যে কারোরই চেয়ে এই বিষয়ে বেশী হাত লাগিয়েছে. এখন সেই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা, যা আজ পাকিস্তানে হচ্ছে, তার জন্যে ওবামা সবার আগে নিজের দিকে তাকিয়েই বলতে বাধ্য.