ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা বিশ্ব সমাজকে শান্তি দিচ্ছে না. পশ্চিম জোর দিচ্ছে যে, তেহরান পারমানবিক যুদ্ধ শুরু করতে পারে, যেই তাদের হাতে পারমানবিক অস্ত্র উপস্থিত হবে, তক্ষুনি. কিন্তু সেই ধরনের ঘটনা চক্র এমনকি ওয়াশিংটনেও বা ব্রুসেলসে খুব কম লোকই বিশ্বাস করে. এখানে ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে প্রধান যুক্তি – আরও একটি সদস্য পারমানবিক দেশ গুলির ক্লাবে নিতে না চাওয়া, আরও একটি মন্ত্রী বিশ্বের দাবার ছকে পেতে না চাওয়া, এই রকমই মনে করেছেন দাবা খেলায় আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ড মাস্টার ভ্লাদিস্লাভ ত্কাচেভ.

দাবা খেলার বোর্ডে মন্ত্রীর থেকে শক্তিশালী ঘুঁটি আরও কোনটাই নয়. সেটা, নিজের শক্তি সমস্ত দিকেই প্রসারিত করতে পারে – ওপরে নীচে, পাশাপাশি আর কোনা কুনিও – যে কোন জায়গারই সেটা অলঙ্কার. কিন্তু দাবা খেলার স্রষ্টার ইচ্ছা হয়েছিল ছকের সবচেয়ে দুর্বল ঘুঁটি বোড়েকে এই মন্ত্রীর ক্ষমতা দান করার, শুধু একবার তাকে অন্য দিকের শেষ অবধি পৌঁছতে হয়, তাহলেই মন্ত্রী হওয়া যেতে পারে. অবশ্যই, এটা করতে পারা খুবই কঠিন. চারপাশের প্রতিপক্ষের ঘুঁটি মনে করে তাদের দায়িত্ব হচ্ছে এই ধরনের পদোন্নতির পথে বাধা দেওয়া. যা অবশ্য আরও বেশী করে নতুন বোড়েকে এগিয়ে দেওয়াতে, সমস্ত ঝুঁকি স্বত্ত্বেও, সেই পরম প্রাপ্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে. এই ধরনের বোড়েকে বলা হয়ে থাকে “পেরিয়ে যাওয়ার বোড়ে”.

কোন এক কালে দাবা খেলার এক তাত্ত্বিক আরন নিমশোভিচ তৈরী করেছিলেন একটা “বাধা দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ তত্ত্ব”, যা এই ধরনের পালিয়ে যাওয়া বোড়ের জন্যই করেছিলেন. তার থেকে এক জোড়া উদ্ধৃতি দেওয়া যাক: “পেরিয়ে যাওয়ার বোড়ে – খুবই বিপজ্জনক অপরাধী, যেগুলিকে তালা বন্দী করে রাখা দরকার. পুলিশের নজরদারি করার মতো সহজ ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়”. “আগে পেরিয়ে যাওয়ার মতো বোড়েকে তার চলা বন্ধ করতে হবে, তারপরে একেবারেই আটকে দিতে হবে আর শুধু তার পরেই তাকে খেয়ে ফেলতে হবে”.

উপরে বলা সমস্ত কথাই ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার সম্পর্কে তৈরী হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে বলা যেতে পারে. বিশ্বের আলোচ্যের তালিকায় এখন এর চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নই নেই, এমনকি অর্থনৈতিক সঙ্কটও ছকে আরও একটি মন্ত্রীর উদয়ের ঝুঁকি থাকায় আলোচনার দ্বিতীয় সারিতে গিয়েছে. মস্কো শহরে আরও এক রাউন্ড আলোচনা কোন রকমের নতুন ছল কৌশল নিয়ে আসতে পারে নি আর সেই খুব একটা হর্ষ বর্ধন না করার মতো চিত্রে কিছুই যোগ করে নি. আর সবই এই কারণে যে, পক্ষ গুলির স্বার্থ একেবারেই পারস্পরিক ভাবে উল্টো দুই মেরুতে – বোড়ে চাইছে মন্ত্রী হতে, আর অন্য দিকের ঘুঁটি এটাকেই আটকাতে চায়. আর মনে তো হয় না যে, এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে.