মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সিরিয়ার বিরোধীদের সাহায্যের ক্ষেত্র আলাদা করে বেছে নিয়েছে.মার্কিনরা সাহায্য করছে অস্ত্র দিয়ে, দুটি আরব রাজতন্ত্র – অর্থ দিয়ে, আর তুরস্ক নিজেদের এলাকা দিয়ে. এই ধরনের সমঝোতার অস্তিত্ব অনেকদিন আগেই অনুমান করা হয়েছিল, কিন্তু শুধু এখনই এই বাস্তব একটা সমর্থন পেয়েছে.

শনিবারে একটি আরব দেশের কূটনীতিবিদ, নাম প্রকাশ করা হবে না এই শর্তে, সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন যে, এর – রিয়াদ ও দোহা সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের যোদ্ধাদের মাইনে দিচ্ছে. এই ধরনের সমঝোতা করা হয়েছিল ২রা এপ্রিল সৌদি আরব ও কাতারের মধ্যে করা হয়েছিল. রসদ ও প্রযুক্তির ঘাঁটি দিচ্ছে তুরস্ক, যেখানে সিরিয়ার যোদ্ধাদের আলাদা করে বাহিনী রয়েছে. সেখানেই তুরস্কে, আমেরিকার প্রশাসনের কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর সংস্থা সি আই এ থেকে যাওয়া একদল কর্মী রয়েছে. যারা সিরিয়ার জঙ্গীদের অস্ত্র পাঠানোর ব্যবস্থায় যোগাযোগ করছে.

এই ভাবেই, কূটনৈতিক স্তরে সিরিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের তথ্য প্রমাণিত হয়েছে. এই ধরনের চক্রান্ত থেকে তাতে অংশগ্রহণ করা লোকদের লাভ কি, যারা দামাস্কাসের ধর্ম নিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রী প্রশাসনকে ধ্বংস করার জন্য খুব একটা কম অর্থ ও শক্তি ব্যয় করছে না?

এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ ভিক্তর নাদেইন- রায়েভস্কি মন্তব্য করে বলেছেন:

“এখন “বৃহত্ নিকট প্রাচ্যের” একটা নতুন করে কাঠামো তৈরী করা চলছে – এই ধরনের পরিকল্পনা একেবারেই সরকারি ভাবে জর্জ বিশ জুনিয়রের সময়েই প্রকাশ করা হয়েছিল. কিন্তু তখন, প্রথম শুধু ইরাক ধ্বংস করা হয়েছিল – এই এলাকার অন্যান্য রাষ্ট্র গুলির পক্ষে সম্ভব হয়েছিল কোন না কোন ভাবে নিজেদের বিপদ মুক্ত রাখার. তার মধ্যে আরও এই কারণে যে, প্রথমে আমেরিকার লোকদের খুব কমই স্থানীয় জোটের লোক ছিল, যারা এই পরিকল্পনা কার্যকরী করতে পারে. ফলে এই পরিকল্পনা আরও সংশোধন করা হয়েছিল ও নির্দিষ্ট করা হয়েছিল – তার প্রধান লক্ষ্য হয়েছিল ধর্ম নিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র গুলি, যেগুলি গত শতকের ৫০- ৭০ এর দশকে সৃষ্টি হয়েছিল. আর তখন এই পরিকল্পনার একই সঙ্গে স্থানীয় জোটের লোক জনের উদ্ভব হয়েছিল আমেরিকার পক্ষের সংরক্ষণশীল রাজতন্ত্র গুলির মধ্যে, যারা এই ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ গুলির অস্তিত্বের মধ্যেই নিজেদের জন্য বিপদ দেখতে পেয়েছিল. এখানে প্যারাডক্স হলেও সত্যি হয়েছিল যে, এর জন্য অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছিল পশ্চিম পন্থী আরবের প্রশাসন গুলির বিরুদ্ধে স্থানীয় জনতার বিদ্রোহ. এই বিদ্রোহ হয়েছিল ধর্ম নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক স্লোগান দিয়ে, কিন্তু ফলশ্রুতিতে সেই গুলি প্রশাসনে নিয়ে এসেছিল একেবারেই অন্য ধনের শক্তি কে – তাদেরকে, যারা এই অঞ্চলের সংরক্ষণশীল প্রশাসন গুলির কাছ থেকেই সমর্থন পেয়েছে. সিরিয়া – ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ, যা আবার আমেরিকার প্রভাবের এলাকাতেই পড়ে. ঠিক এই কারণেই তার প্রতি যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এক স্বাভাবিক জোটের পক্ষ থেকেই, যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু আরব রাজতন্ত্র পড়ে”.

সিরিয়ার ধর্ম নিরপেক্ষ প্রশাসনকে ভেঙে দিয়ে কি ধরনের বাস্তব সুবিধা পাওয়ার আশা করেছে এই জোটের অংশীদাররা? এখানে মনে করতে হবে যে, সিরিয়ার ভূ- রাজনৈতিক অবস্থানের জন্যই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা বহু স্ট্র্যাটেজিক পথের চৌমাথায় রয়েছে. কিন্তু এখানে শুধু এটাই ব্যাপার নয়, এই কথা মনে করে সমীক্ষক এরমোলায়েভ বলেছেন:

“ভূ- রাজনৈতিক ব্যাপার এই ধরনের রাজনীতির বিষয়, কিন্তু আরও কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন ব্যাপারও রয়েছে. আমেরিকার লোকরা, আমরা যেমন দেখতেই পাচ্ছি যে, নিজেদের পয়সা খরচ করছে না সিরিয়ার জঙ্গীদের সাহায্যের জন্য – এটা তাদের হয়ে অন্য লোকরা করছে. আর এই জায়গা থেকে অর্থকরী ভাবে লাভবান হওয়া আমেরিকার পক্ষে যথেষ্ট টের পাওয়ার মতো হতে পারে, যদি সিরিয়ার প্রশাসন ভেঙে পড়ে. অন্তত সময়ের সঙ্গেই. যদি শুধু অস্ত্র বিক্রী করার প্রশ্নের কথাই তোলা হয়. আমেরিকার অস্ত্রের প্রধান ক্রেতা রয়েছে নিকট প্রাচ্যে. সিরিয়া এই গুলি কেনে না, কিন্তু অন্যান্য দেশ গুলি কিনছে, আর তা খুবই সক্রিয় ভাবে. শুধু সৌদি আরব বিগত সময়ে আমেরিকার থেকে অস্ত্র কেনার জন্য তিন হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছে. আর সেই রকমের খুব একটা ধনী নয় এমন দেশ ইরাক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দেড় হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র কিনেছে. সিরিয়া আপাততঃ এই সাধারণের তালিকা থেকে বাদ রয়ে গিয়েছে – কিন্তু যদি বর্তমানের জঙ্গীরা এই দেশে ক্ষমতায় আসে, তবে তারা অবশ্যই, জানবে, কার কাছ থেকে কি কিনতে হবে”.

অবশ্যই সিরিয়ার ক্ষেত্রে এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোটেও প্রধান উদ্দেশ্য নয় কাজের জন্য – এই দেশ আমেরিকার জন্য ভৌগলিক অবস্থানের কারণেই খুবই গুরুত্বপূর্ণ. কিন্তু সিরিয়া ধ্বংস করতে পারলে নিজেদের অর্থনৈতিক লাভের কথাও যে আমেরিকার লোকরা ভুলে যাবে না – এই কথা এহ বাহ্য.