রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বেথলেহেম শহরে প্যালেস্তিনীয় জাতীয় প্রশাসনের নেতা মাখমুদ আব্বাসের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ও সেখানে রুশ বিজ্ঞান সংস্কৃতি কেন্দ্র উদ্বোধনে অংশ নিয়েছেন.

ভ্লাদিমির পুতিন নিকট প্রাচ্যে সফর করছেন. জেরুজালেম থেকে তিনি বেথলেহেম শহরে এসেছেন. প্যালেস্তিনীয় নেতা মাখমুদ আব্বাসের সঙ্গে আলোচনার আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি যীশু খ্রিস্টের জন্ম গির্জা দর্শন করেছেন ও সেখানে সেই গুহাতে প্রবেশ করে দেখেছেন, যেখানে কাহিনী অনুযায়ী যীশুর জন্ম হয়েছিল.

নিকট প্রাচ্য – এক পবিত্র ভূমি, কিন্তু এটা আজ এক তীক্ষ্ণ বিরোধের কেন্দ্র স্থল. মাখমুদ আব্বাসের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে প্রধান আলোচ্য হয়েছে এই এলাকার পরিস্থিতি ও প্যালেস্টাইন – ইজরায়েল বিরোধের নিবৃত্তি করার কাজে রাশিয়ার ভূমিকা. “আমরা প্যালেস্টাইন – ইজরায়েল আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট মোচনের পথ নিয়ে খুঁটিয়ে আলোচনা করেছি”, - জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন, তিনি বলেছেন:

“আমি উল্লেখ করব প্যালেস্তিনীয় স্বয়ং শাসিত অঞ্চলের নেতৃত্বের দায়িত্বশীল অবস্থান, তাঁদের শান্তিপূর্ণ ভাবে সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে দুই রাষ্ট্রের ভিত্তিতে আগ্রহের কথা উল্লেখ করব. আমি বিশ্বাস করি যে, যে কোন ধরনের একতরফা কাজই শেষ অবধি নিষ্পত্তি হওয়ার আগে বিপরীত ফল দেবে. এখানে প্রয়োজন পড়েছে খুবই ধৈর্য প্রদর্শনের ও নিজেদের উপরে নেওয়া দায়িত্ব নির্দিষ্ট ভাবে পালন করার. এখানে অবশ্যই, বিরোধের নিষ্পত্তির জন্য প্যালেস্টাইনে রাজনৈতিক ঐক্য যত দ্রুত সম্ভব পুনর্স্থাপন করা দরকার”.

প্যালেস্তিনীয় এলাকা শুধুমাত্র ভৌগলিক ভাবে গাজা সেক্টর ও জর্ডন নদীর পশ্চিম তীরে বিভক্ত নয়, বরং তা হয়েছে রাজনৈতিক ভাবেও. গাজা সেক্টরে হামাস আন্দোলন নেতৃত্ব করছে, বাকী অংশ রয়েছে ফাতহের নিয়ন্ত্রণে.

মাখমুদ আব্বাস আরও একবার আশ্বাস দিয়েছেন যে, প্যালেস্টাইন ইজরায়েলের সঙ্গে শান্তি পূর্ণ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে চায় না, তবে এই কথা সত্য যে, কয়েকটি শর্ত রয়েছে. তাদের একটি – প্যালেস্তিনীয় এলাকায় ইজরায়েলের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভাবে কলোনি তৈরী করা বন্ধ করতে হবে. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আমরা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেছি প্যালেস্তিনীয় বন্দী মুক্তির বিষয়ে সাহায্য করতে, যারা ১৯৯৪ সাল থেকে ইজরায়েলের জেলে বন্দী রয়েছে. ইজরায়েলের সঙ্গে এই বিষয়ে যথোপযুক্ত সমঝোতা ও চুক্তিও করা রয়েছে, কিন্তু তারা, দুঃখের বিষয় হল যে, এই চুক্তি পালন করছে না. আমরা রাষ্ট্রপতিকে আমাদের সমর্থন জানিয়ে বলেছি যে, একটিই পথ রয়েছে, যা এই এলাকায় শান্তি নিয়ে আসতে পারে, তা ইজরায়েলের লোকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই হতে পারে. আমরা একই সঙ্গে মস্কো শহরে নিকট প্রাচ্য নিয়ে সম্মেলনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সমর্থন করেছি, যা কিছু দিন আগে আমরা করা হবে বলে সহমতে পৌঁছেছি”.

ভ্লাদিমির পুতিনের নিকট প্রাচ্যে দুই দিনের সফরের শেষ বিন্দু হবে - জর্ডন.