সম্ভবতঃ বিশ্বে খুব একটা বেশী জায়গা পাওয়া যাবে না, যেখানে সূর্য প্রায় সারা বছর ধরেই আলো করে রাখে. এই রকমের একটি আকর্ষণীয় জায়গা হল পারস্য উপসাগরের এলাকা. কিন্তু বিগত ছয় মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার উপসাগরের সবচেয়ে সংকীর্ণ সামুদ্রিক এলাকা – খরমুজ প্রণালীর উপরের আকাশে রাজনৈতিক আবহাওয়া খারাপ হচ্ছে. সোমবারে, ২৫শে জুন তেহরান তাদের ঐস্লামিক বিপ্লব প্রতিরক্ষা বাহিনীর পদাতিক সেনা দলের কম্যান্ডার জেনারেল আহমাদ পুরদস্তানার মুখ দিয়ে আবারও, যেমন ছিল এই বিগত ডিসেম্বর- জানুয়ারীতে, তেমনই এক হুমকি ঘোষণা করেছে যে, ইরানের জন্য বিপদের পরিস্থিতি হলে তারা এই প্রণালী বন্ধ করে দেবে. এই প্রসঙ্গে – ভ্লাদিমির সাঝিনের মন্তব্য তিনি প্রকাশ করেছেন.

এই রকম ভাবেই ইরান মনে করিয়ে দিয়েছে যে, তারা নিজেরাই ঠিক করবে তাদের উপরে কতটা বিপদ রয়েছে. আর সিদ্ধান্ত নেবে কবে ও কিভাবে সামুদ্রিক ভাবে খনিজ তেলের ধমনী কেটে দেবে, যা দিয়ে বিশ্বের প্রায় শতকরা ২০ ভাগ উত্পাদিত খনিজ তেল যায়. অবশ্যই, এই ধরনের ঘটনার পরিবর্তন যেমন আরবের খনিজ তেল উত্পাদক দেশ গুলি হতে দেবে না, তেমনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের জোটের সঙ্গে হতে দেবে না. কোন সন্দেহ নেই যে, এমনকি এই ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা হলেই তা যুদ্ধে অবতীর্ণ করবে.

এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বিজ্ঞানে পিএইচডি ইউরি বন্দারেভ বলেছেন:

“পদাতিক বাহিনীর কম্যান্ডারের ঘোষণা আজকের দিনে খুবই বহু রকমের অর্থবহ বলে মনে হয়েছে. আমরা জানি যে, এই কিছু দিন আগেই খরমুজ প্রণালীতে সফল ভাবে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পদাতিক বাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিমান বাহিনী দেশের রকেট বাহিনী ও নৌবাহিনীর সঙ্গে এক যোগে মহড়া করেছে. তাতে বাস্তবিক ভাবে খরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার প্রশ্ন সমাধান করার চেষ্টা হয়েছে.

আমি মনে করি যে, ইরানের লোকরা অল্প সময়ের জন্য প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে. কিন্তু এটা যদি হয়, তবে তা হবে ইরানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপের পরেই. এর আগে তো মনে হয় না যে, ইরানীরা এই প্রণালী বন্ধ করতে যাবে, কারণ এই ধরনের পদক্ষেপ স্পষ্টই তাদের বিপক্ষের লোকদের শক্তি প্রয়োগের জন্য বাধ্য করতে পারে.

তা স্বত্ত্বেও সেই তথ্যও খুব কম গুরুত্বপূর্ণ নয় যে, খরমুজ প্রণালীর সম্ভাব্য পথ রোধের বিষয়ে বলছেন ঐস্লামিক বিপ্লব প্রতিরক্ষা বাহিনীর স্বয়ং জেনারেল. এর মানে হল যে, এই মত দেশের নেতৃত্বের মতে প্রতিফলন, কারণ ঐস্লামিক বিপ্লব প্রতিরক্ষা বাহিনী হল রাখবারের যোদ্ধা বাহিনী ও আঘাত হানার শক্তি – ইরানের সর্ব্বোচ্চ নেতা ও সমস্ত সামরিক বাহিনীর কর্ণধারের”.

অর্থাত্ জেনারেলের ঘোষণা – এটা খুব সম্ভবতঃ একটা রাজনৈতিক চাল, কোন সত্য ইচ্ছা প্রকাশের পরিবর্তে. কিন্তু উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য প্রচেষ্টা ইরানের এখনই প্রয়োজন পড়ল কেন, যখন ইরান ঘিরে পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কা জনক?

সম্ভবতঃ এখানে তেহরানের চেষ্টা রয়েছে একসাথে তিনটি কাজের সমাধান করার. প্রথমতঃ, ইরান ও মধ্যস্থতাকারী ছয় পক্ষের আলোচনা এবং ইরান – আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার আলোচনাকে প্রভাবিত করা, যা এখন শেষ হওয়ার মুখে. এখানে বিরোধী পক্ষদের দেখানো দরকার যে, পরবর্তী আলোচনা তেহরান করবে শক্তির অবস্থান থেকে, কোন দুর্বলতা থেকে নয়.

দ্বিতীয়তঃ, - দেশের আভ্যন্তরীণ কাজ. দেশের রাজনৈতিক ভাবে একঘরে হয়ে যাওয়া ও আর্থ- বিনিয়োগ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা, যা আহমাদিনিজাদের প্রশাসনের রাজনীতির জন্য হয়েছে, তা আরও বেশী করেই জনতার পক্ষ থেকে মেনে না নেওয়া ও এমনকি দেশের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মহলেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে. তাই প্রশাসন আরও একবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য প্রতিপক্ষের সামনে নিজেদের দৃঢ় মনোভাব প্রকাশ করার.

আর শেষমেষ তৃতীয়তঃ, সম্ভবতঃ, সবচেয়ে মুখ্য উদ্দেশ্য – কোন এই ইরানের জেনারেলের ঘোষণা এখনই করা হল. যেমন কিছু ব্যক্তি মনে করেছেন যে, তা করা হয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের ইজরায়েল সফরের জন্যেই বিশে, করে, যেখানে ইরানের বিষয় ছিল আলোচনার একটি মুখ্য বিষয়.

এটা ছিল এক রকমের রাশিয়ার রাষ্ট্রপতিকে ও তাঁর ইজরায়েলের আলোচনার সহকর্মীকে আলতো করে মনে করিয়ে দেওয়া যে, তেহরানে এই পরিস্থিতিকে কি ভাবে নেওয়া হচ্ছে. আর নির্দিষ্ট করে: ইরান শক্তিশালী ও তাদের মনোবল সামরিক আঘাতের ভয় দেখিয়ে ভেঙে দেওয়া যাবে না. আর আরও – ইরান ছাড়া আঞ্চলিক বিষয়ে সমাধান করা যাবে না.

এই সমস্ত লক্ষ্যের জন্য শুধু কথা বললেই হবে না, বরং প্রয়োজন বাস্তবিক ভাবে ইরানের পক্ষ থেকে শক্তি প্রদর্শন. আর এই প্রদর্শনী হবেও. জেনারেল আহমাদ পুরদস্তানার কথা অনুযায়ী এই বছরের মধ্যেই ইরান এই এলাকায় আরও এক সারি সামরিক মহড়া দেবে দেশের সেনা বাহিনী ও ঐস্লামিক বিপ্লব প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে. তার ওপরে এই প্রসঙ্গে জেনারেল মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সিরিয়া ও রাশিয়ার বাহিনীর একত্রিত ভাবে মহড়াও হতে পারে. কিন্তু এটা, যেমন সামরিক বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, একেবারে সায়েন্স ফিকশন থেকে নেওয়া – অথবা বিশেষ ধরনের প্রচারের একেবারে ক্ল্যাসিক উদাহরণ, যা করা হয়ে থাকে বিরোধী পক্ষের মধ্যে একেবারে দিগভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য.