ব্রিকস দেশ গুলির মধ্যে জাতীয় মুদ্রা পাল্টে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা তৈরী হলেই তা এক অতিরিক্ত আর্থিক ব্যবস্থার সৃষ্টি করবে. এই রকমই মূল্যায়ণ করেছেন বিশেষজ্ঞদের “রেডিও রাশিয়ার” তরফ থেকে তাদের মন্তব্য করতে বলা হলে, প্রসঙ্গ হয়েছিল সদ্য স্বাক্ষরিত ব্রাজিল ও চিনের মধ্যে জাতীয় মুদ্রা পাল্টানোর বিষয়ে সমঝোতা – যা দুই দেশের পক্ষ থেকেই নির্দিষ্ট দরে জাতীয় মুদ্রার বিনিময় সংক্রান্ত. এই সমঝোতার মূল্য ২০ হাজার কোটি চিনের ইউয়ান মুদ্রা অথবা যা অর্থ মূল্যে প্রায় ৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সমান. বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ একই সঙ্গে ইউয়ানের একটি নেতৃস্থানীয় আন্তর্জাতিক মুদ্রায় রূপান্তরিত হওয়ার পথে খুবই গুরুত্বপূর্ণ.

ব্রিকস দেশ গুলির নেতারা মেক্সিকোতে জি -২০ দেশের শীর্ষ সম্মেলনে সমঝোতা করেছেন একে অপরের সঙ্গে মুদ্রা পাল্টানোর পথ তৈরী করা নিয়ে. এই পাল্টানোর সমঝোতা চুক্তি ব্যবস্থা করে নির্দিষ্ট পরিমানে জাতীয় মুদ্রা একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করা, যা পরে অবশ্যম্ভাবী ভাবেই বিক্রীর মাধ্যমে ফেরত যোগ্য. এই ধরনের পাল্টানোর চুক্তি থাকলে, তা দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে বীমার কাজ করতে পারে. আশা করা হয়েছে যে, ব্রিকস দেশ গুলির মধ্যে এই পাল্টে নেওয়ার পথ খোলা হলে ২০০৮ সালের পরিস্থিতিকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, যখন ডলার কম থাকায় বিশ্বের বাজারে বাণিজ্যের পরিমান খুবই কমে গিয়েছিল. একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এই পদক্ষেপ প্রাথমিক ভাবে বেজিংয়ের পক্ষেই লাভজনক, আন্দ্রেই লুসনিকভ এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“চিনের জন্য পাল্টানোর ব্যবস্থা, আর তারা এই ধরনের চুক্তি করেছে বহু দেশের সাথেই, - এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যাতে ডলারের উপরে নির্ভর না করেই পারস্পরিক বাণিজ্য করা সম্ভব হয়. এখানে বলা উচিত্ হবে যে, এটা খুব শীঘ্রই বিশ্বের বিনিময় মুদ্রা বাজারে কাঠামো পাল্টে দেবে. কিন্তু ভবিষ্যতে ইউয়ান আন্তর্জাতিক বিনিময়ের জন্য একটি মুদ্রা হতেই পারে”.

ব্রিকস গোষ্ঠীর মধ্যে এর মধ্যেই বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জাতীয় মুদ্রার ভূমিকা বৃদ্ধির জন্য. এটা বিনিয়োগের জন্য ব্যবস্থা করা, আর সরাসরি ব্রিকস দেশ গুলির জাতীয় মুদ্রা ব্যবহার করে বাণিজ্যের. যেমন, রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বিনিময় মুদ্রার শেয়ার বাজারে ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে বিশ্বে প্রথম ইউয়ান – রুবল ব্যবসা শুরু করা হয়েছিল. উল্লেখ করব যে, রাশিয়া ও চিনের মধ্যে এখনই পাল্টানোর চুক্তি রয়েছে. যদি এই ব্যবস্থা ব্রিকস দেশ গুলির মধ্যে উন্নতি করতে পারে, তবে ভবিষ্যতে বলা যেতে পারবে যে, বিশ্বের সমগ্র বিনিময় মুদ্রা বাজারেরই পরিবর্তন হয়েছে, এই রকম মনে করে অর্থনীতিবিদ সের্গেই খেস্তানভ বলেছেন:

“আপাততঃ এই সমঝোতার সংজ্ঞা অনেকটাই পূর্ব ঘটনা হয়ে রয়েছে. কিন্তু যেই এই চুক্তি অনেক গুলি দেশের ভিতরে হয়ে যাবে, সেই মুহূর্ত থেকেই তার গুরুত্ব অনেক বেড়ে যাবে. অর্থাত্ যদি এই প্রবণতা চলতেই থাকে, তবে এটাকে মনে করা যেতে পারে এক রকমের ব্যতিক্রমী বিনিয়োগ ব্যবস্থার তৈরী হওয়া শুরু বলেই”.

গণ প্রজাতন্ত্রী চিন ইতি মধ্যেই প্রায় ২০টি বিনিময় মুদ্রা সংক্রান্ত পাল্টানোর চুক্তি করেছে আসিয়ান সংস্থার দেশ গুলির সঙ্গে. তারা তথাকথিত চিয়াংমাঈ উদ্যোগ নামক ব্যবস্থার কাঠামোর মধ্যে রয়েছে – যা ২০১০ সালে আঞ্চলিক সমঝোতা হিসাবে করা হয়েছিল. ব্রিকস দেশ গুলির মধ্যে বিনিময় মুদ্রা সংক্রান্ত সমঝোতা তৈরী অবস্থায় পেশ করা হতে চলেছে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস গোষ্ঠীর ২০১৩ সালের মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে.