ইউনেস্কোর সারাবিশ্বের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের তালিকা দীর্ঘতর হবে. সেন্ট-পিটার্সবার্গে ২৪শে জুন থেকে ৬ই জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ইউনেস্কোর ৩৬তম অধিবেশনে, যা রাশিয়ায় এই প্রথমবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, সেখানে সাধারন নাগরিকরাও ইন্টারনেট-সম্প্রচারে যোগ দিতে পারে.

ইউনেস্কোয় রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি এলিয়ানোরা মিত্রফানোভার মতে অধিবেশন আয়োজনের জায়গা সঙ্কেতজনক.

এটা খুব ভালো, যে সেন্ট-পিটার্সবার্গে ইউনেস্কোর অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে. পিটার্সবার্গ নিজেই ইউনেস্কোর উত্তরাধিকারের তালিকার অন্তর্ভুক্ত. আমাদের শহর সাতটা ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দিতা করবে. তাই আমার সহকর্মীরা খুব খুশি. আমাদের দেশের পক্ষে অধিবেশনের আয়োজন করা খুবই মর্যাদাজনক. উচ্চপর্যায়ে যখন ১৯০টি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দেবে, তার ফরম্যাট বিশাল.

অধিবেশনে যোগদানকারীরা সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তীব্র সব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবে. আর সবচেয়ে গুরূত্বপূর্ণ হল সারা বিশ্বের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের তালিকা দীর্ঘতর হবে. সবমিলিয়ে ৩৬টি প্রার্থী. তাদের মধ্যে আছে ফ্রান্সে গুহাচিত্র, বেলজিয়ামের ভাল্লোনিতে খনি, ভারতে পাহাড়ী দুর্গ. এই বছরে সর্বপ্রথম আফ্রিকার দেশগুলি, কাতার ও প্যালেস্টাইন প্রার্থী হতে পারে – বলছেন এলিওনোরা মিত্রফানোভা.

কমিটি এই সব প্রশ্নে ব্যাপক ফরম্যাটে দৃষ্টি দেয়. শুধুমাত্র প্রযুক্তিগতভাবেই নয়, যেমন ধরা যাক, কোনো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ, নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করা. যেমন, এ বছরে অধিবেশনে অন্যতম মুখ্য আলোচ্য বিষয় হবে – বিশ্বের উত্তরাধিকার ও আদিবাসীরা. এটা অত্যন্ত গুরূত্বপূর্ণ বিষয়, যাতে স্থানীয় জনসাধারন সাংস্কৃতিক দ্রষ্টব্যস্থানগুলি রক্ষা করে.

রাশিয়ার বিশ্ব জনসমাজের সাথে ভাগ করে নেওয়ার মতো সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক উত্তরাধিকার আছে. সবশুদ্ধ ২৪টি. এ বছর এই তালিকা আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে, প্রর্থীদের মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার কয়েকটি ক্রেমলিন. ক্রেমলিন নামে অভিহিত করা হয় রাশিয়ার বিভিন্ন শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত মজবুত দূর্গ, যেগুলো রাজতন্ত্রের যুগে নির্মাণ করা হয়েছিল. এখনো পর্যন্ত গোটা দশেক এরকম দূর্গ টিঁকে আছে. প্রচীনকালে প্রায় সব রুশী শহরেই এরকম ক্রেমলিন ছিল. আর প্রাকৃতিক ম্পদের মধ্যে ইউনেস্কোর তালিকায় সংযোজিত হতে পারে তথাকথিত লেনার স্তম্ভ – পূর্ব সাইবেরিয়ায় লেনা নদীর পাড় ধরে বহু কিলোমিটার ব্যাপী পাথরের স্তম্ভ.

আজকের দিনে ইউনেস্কোর তালিকায় সবশুদ্ধ ৯৩৬টি সংরক্ষিত দ্রষ্টব্যস্থান আছে, যার মধ্যে ৩০টি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মুখে.