২০১২ সালের অলিম্পিক শুরু হতে আর বেশি দেরী নেই. লন্ডন হবে প্রথম নগর, যেখানে তৃতীয়বার অলিম্পিক ক্রীড়া অনুষ্ঠিত হতে চলেছেঃ ইতিপূর্বে ১৯০৮ ও ১৯৪৮ সালে সেখানে অলিম্পিক ক্রীড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল. ২৭শে জুলাই থেকে ১২ই আগস্ট পর্যন্ত লন্ডন সত্যিকারের ‘ব্যাবিলনে’ পরিণত হবে, কারণ দুশোরও বেশি দেশের ক্রীড়াবিদরা সেখানে যাবে ও বিশালসংখ্যক সমর্থকরা. এর চেয়ে বিভিন্ন চেহারার ও বিভিন্নভাষী জনতার কথা কল্পনা করা শক্ত.

আগামী অলিম্পিকে কোন দেশের কতখানি আশা ও সম্ভাবনা, সে বিষয়ে ‘রেডিও রাশিয়া’ বহুদেশের অলিম্পিক কমিটির কাছ থেকে সাক্ষাত্কার নিয়েছে. আর আজ আমরা আপনাদের শোনাবো সেই সবদেশের অলিম্পিক কমিটির মুখপাত্রদের বক্তব্য, যাদের প্রথম সারিতে থাকার কথা.

ইংরেজরা কিভাবে ক্রীড়াবিদ ও অতিথিদের আপ্যায়ন করবে, সে বিষয়ে বলছেন বৃটিশ অলিম্পিক সংস্থার তথ্যবিভাগের প্রধান মিরিয়াম উইলকেন্স.

 

আমরা তাদের উষ্ণ আলিঙ্গন করে স্বাগত জানাবো. আমার ধারনা, যে যেমন আমাদের স্বদেশী ক্রীড়াপ্রেমী, তেমনই বিদেশ থেকে আসা সমর্থকদের অভাব হবে না. আমরা আমাদের জাতীয় দলের সামনে যত বেশিসংখ্যক সম্ভব পদক জয় করার লক্ষ্য স্থাপণ করেছি. লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে না, কারণ ২০১২ সালের অলিম্পিকে রেকর্ডসংখ্যক দেশ যোগ দেবে.

রাশিয়া বরাবর অলিম্পিকের আগে উচ্চাকাঙ্খী লক্ষ্য স্থাপণ করে. ২০১২ সালে অলিম্পিকে লক্ষ্য সম্পর্কে বলছেন রুশী অলিম্পিক কমিটির সভাপতি আলেক্সান্দর ঝুকোভ.

আমি মনে করি, যে আমাদের প্রথম তিন দেশের মধ্যে ঢোকবার পুরো সম্ভাবনা আছে. সেজন্য ২৩-২৫টি স্বর্ণপদক জেতার প্রয়োজন হবে. বেইজিংয়ে আমরা ২৩টি স্বর্ণপদক জিতেছিলাম ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলাম. বেসরকারী প্রথম স্থান অধিকার করার জন্য অবশ্যই লড়াই করবে চীন ও আমেরিকা. আমার ধারনা, যে সংগঠক ইংরেজরাও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করবে. মনে হয় জার্মানী ও ফ্রান্সও কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দী হতে পারে. অবশ্যই অলিম্পিক হচ্ছে বিশেষ টুর্ণামেন্ট, যেখানে অপ্রত্যাশিত যে কোনোকিছু ঘটতে পারে.

অন্যদিকে চীনের পদক জেতার কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই. অন্তত্ঃ সেই কথা বলছেন সে দেশের অলিম্পিক কমিটির প্রধান ল্যু পেন.

আমরা কক্ষনো নির্দিষ্টসংখ্যক পদক জেতার লক্ষ্য রাখি না, এমনকি বেইজিং অলিম্পিকেও রেখেছিলাম না. ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সেই কারণেই আগ্রহদ্দীপক, কারণ পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়. আমরা আমাদের ক্রীড়াবিদদের পুরস্কার দিই অনুপ্রেরণা যোগানোর জন্য, লন্ডনে তারা যাতে যথাসাধ্য দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারে ও ফলাফল দেখাতে পারে, সে জন্য আমরা তাদের উদ্বুদ্ধ করছি.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লন্ডনে অন্যতম বৃহত্তম জাতীয় দল পাঠাচ্ছে. বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুসারে, তাদের প্রথম তিনটি দেশের মধ্যে থাকার কথা. মার্কিনী অলিম্পিক কমিটির তথ্যসচিব মার্ক জোনস পূর্বাভাষ দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাননি, তবে উত্কর্ষমানের ফলাফল প্রদর্শনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন.

জাপান পদকপ্রাপ্তির তালিকায় লন্ডনে প্রথম ৫টি দেশের অন্তর্ভুক্ত হতে চায়. আমাদের সংবাদদাতাকে এই সম্পর্কে জানিয়েছেন জাপানের অলিম্পিক কমিটির প্রধান টাকেডা সুনেকাজু, যিনি নিজেই অলিম্পিকে ক্রীড়াবিদ হিসাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন ম্যিউনিখে ১৯৭২ সালে ও মন্ট্রিয়লে ১৯৭৬ সালে. তাই তার বার্তা অলিম্পিয়ানদের জন্য গুরূত্বপূর্ণ.

অলিম্পিক ক্রীড়া, যা শুরু হয়েছিল খ্রীষ্টপূর্ব অষ্টম শতকে, বরাবর সারাবিশ্বের উত্সব. অলিম্পিক চলাকালীন সংঘর্ষরত সবপক্ষ যুদ্ধ থেকে বিরত হতো. একবিংশ শতাব্দীতে কি মানুষ পারবে না ঐ ঐতিহ্য বজায় রাখতে ও অন্ততঃ কয়েকদিনের জন্য রাজনীতি ভুলে গিয়ে স্পোর্টসের সুন্দর ও সাংঘাতিক জগতে কানমাথা শুদ্ধ নিমজ্জিত হতে?