অনেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাক- মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে এক রকমের উচাটন অবস্থার কথা বলছেন, আর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলের কিছু লোক সরাসরিই বলছেন যে, তাঁরা “এবারে একেবারেই সেই পরিস্থিতির কাছে পৌঁছে গিয়েছেন, যাতে পাকিস্তানে বোমা হামলা করা হয়”. এই স্বীকারোক্তি প্রকাশ করা হয়েছে আমেরিকার খুবই প্রভাবশালী জার্নাল পররাষ্ট্র নীতি (ফরেন পলিসি)তে. প্রখ্যাত পাকিস্তান বিশেষজ্ঞ ও ওয়াশিংটনের জর্জ টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রফেসর ক্যারল ক্রিস্টিন ফেয়ার তাঁর “পাকিস্তানকে নিয়ে কি করা উচিত্?” প্রবন্ধে খুবই বিশদ করে সমস্ত ক্ষেত্রে বর্তমানের পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন, তারই সঙ্গে পাকিস্তানের তাদের প্রতিবেশী দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও লিখেছেন. লেখিকা একই সঙ্গে এক সারি পরামর্শ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে দিয়েছেন, যা পাকিস্তানের সঙ্গে পরবর্তী কালে কাজ করার ক্ষেত্রে লাগতে পারে.

এই প্রবন্ধের সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় হল সেই অংশ, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের জন্য পরামর্শ রয়েছে, যা পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবহারের নীতি নিয়ে করা হয়েছে বলে মনে করে রুশ বিশেষজ্ঞ ও স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মী বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“সি আই এ সংস্থার কর্মীর হাতে পাকিস্তানের দুই জন নাগরিকের মৃত্যু (শ্রীমতী ফেয়ারের প্রবন্ধে তাদের বলা হয়েছে পাকিস্তানের আন্তর্বিভাগীয় গুপ্তচর সংস্থার “ভাড়াটে খুনী” বলে), সেই বছরেরই মে মাসে আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর হাতে ওসামা বেন লাদেনের মৃত্যু, নভেম্বরে আমেরিকার ড্রোন বিমানের পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকীতে হানা ও ২৪ জন পাক সামরিক কর্মীর মৃত্যু – এই সবই (এবং আরও অনেক কিছু) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কানা গলিতে নিয়ে ফেলেছে, যার থেকে বেরিয়ে আসার পথ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না.

প্রবন্ধের লেখিকা বাস্তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান করছেন বর্তমানের পাকিস্তানের সমস্ত সমস্যা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের থেকেই বেরিয়ে আসতে ও তাদের কোন রকমের বিষয়েই সাহায্য না করতে: পাকিস্তানের অর্থনীতি বরং নিজে থেকেই ধ্বসে পড়ুক. আরও অন্য অনেক বিষয়ে লেখিকা প্রস্তাব করেছেন পাকিস্তানকে আমেরিকার সাহায্য করা বন্ধ করতে ও বাস্তবে নিজেদের হাতে পাকিস্তানের পারমানবিক পরিকল্পনা ও অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে”.

এই ধরনের ব্যবস্থা পাকিস্তানের একটি সার্বভৌম দেশ হিসাবে অস্তিত্ব বজায় রাখাকেই অসম্ভব করে দেবে মনে করে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, পাকিস্তানের প্রতি রাজনীতির বদল (পুরনো জোট থেকে বেরিয়ে এসে খোলাখুলি বিরোধ করা) ওয়াশিংটনে এর মধ্যেই ঠিক করা হয়ে গিয়েছে. কিন্তু কোনও একটা কারণে – তাদের মধ্যে যেটা মূল বিষয় – বোধহয় আফগানিস্তানে অপারেশন শেষ না হওয়ার কারণে, - পররাষ্ট্র দপ্তর ও পেন্টাগন সবাইকে জানান দিয়ে এখনই সেটা প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে পারছে না”.

এই দিক থেকে দেখলে আমেরিকার সমাজ বিজ্ঞানীর প্রবন্ধ, যা এক বিখ্যাত জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে, তা একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে: তা এই জন্যেই করা হয়েছে যাতে আমেরিকা ও অন্যান্য দেশের সামাজিক মতামত তার জন্যই তৈরী করতে, যে যা এখনও গোপন রয়েছে, তা পরে স্পষ্ট হবে. এই প্রবন্ধ থেকেই স্পষ্ট হয়ে দাঁড়াচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় এই এলাকার স্থিতিশীলতার ব্যবস্থা করার কোনও প্রচেষ্টা নেই. আজ সবচেয়ে কাছের বলি হতে চলেছে পাকিস্তান, আগামী কাল অন্য যে কোনও প্রতিবেশী দেশই তা হতে পারে.