সমস্ত রকমের লক্ষণ অনুযায়ী তুরস্কের বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান “আর এফ- ৪ই ফ্যান্টম” সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ধ্বংস করার ঘটনা বাস্তবেই গুপ্তচর বৃত্তি দিয়ে শুরু হয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে. এই কথা উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ স্তানিস্লাভ তারাসভ বলেছেন:

“এটা একেবারেই স্পষ্ট হয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু যখন সেই দেশের টেলিভিশন চ্যানেলে এই প্রসঙ্গে বলেছেন, তার পরে. তিনি এই কথা স্বীকার করেছেন যে, এই বিমান গুপ্তচর বৃত্তির জন্যই ছিল ও তাতে কোনও অস্ত্র ছিল না, তবু বিশেষ ধরনের যন্ত্রপাতি ছিল, যা নাকি তাঁদের নিজেদের দেশের রেডিও নির্ণয় ব্যবস্থার পরীক্ষার জন্য লাগে. একই সঙ্গে, তাঁর কথামতো, “এই বিমানটিকে ধ্বংস করার ১৫ মিনিট আগে সেটি স্বল্প সময়ের জন্য সিরিয়ার আকাশ সীমা লঙ্ঘণ করেছিল”. আর বিশেষজ্ঞরা জানেন যে, এই সময় টুকুই যথেষ্ট যাতে সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ছবি তুলে ফেলা সম্ভব হয়, তার ওপরে, সিরিয়ার পক্ষ যেমন জের গলায় বলেছে যে, তুরস্কের যুদ্ধবিমান কোন রকমের চেনা যাওয়ার উপযুক্ত চিহ্ন ছাড়াই উড়েছিল. তাহলে সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেন পরীক্ষা করার দরকার ছিল ও সেটা কাদের দরকার”?

বিশ্ব সমাজের আরও বেশী করে বিশ্বাস জমা হচ্ছে যে, পশ্চিম সিরিয়াতে লিবিয়ার ঘটনা পরম্পরা করাতে চাইছে. কিন্তু তা অন্য কোনও পথে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে সিরিয়া নিয়ে বিশেষ আন্তর্জাতিক সর্ব পক্ষের সম্মেলনের প্রস্তাবকে অগ্রাহ্য করে. আর এই ঘটনা পরম্পরাতে সিরিয়াকে দেওয়া হয়েছে এক বিশেষ সক্রিয় ভূমিকা.

কয়েকদিন আগে আমেরিকার সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল যে, আমেরিকার পরামর্শ দাতাদের নিয়ন্ত্রণে তুরস্কের এলাকা থেকে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে, আর সিরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় তথাকথিত স্বাধীন সিরিয়ার বাহিনী জমায়েত হয়েছে, যেখান থেকে তারা প্রায়ই সিরিয়ার জমিতে আক্রমণ করে আসছে.

কিন্তু সিরিয়ার প্রশাসন দেখা গেল এতটা দুর্বল নয়, যা তাদের বিরোধীরা ভেবেছিল. দামাস্কাস এই সব ঘটনার বিরুদ্ধে যথেষ্ট শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা রাখে. তারা সাফল্যের সঙ্গে হামা শহরে পরীক্ষা পাশ করেছে, যেখানে পরিকল্পনা করা হয়েছিল বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিদের দিয়ে সিরিয়ার বেনগাজী তৈরী করার. পশ্চিম হিসাব করেছিল যে, এই রকমের করা হলে রাশিয়া ও চিন বাধ্য হবে “ঘটনা ও বাস্তব পরিস্থিতি মেনে নিতে”, তা আর হল না.

সিরিয়ার সামরিক বাহিনী দেখা গিয়েছে যে, বিরোধী পক্ষের সশস্ত্র পদাতিক বিরোধকে দমন করার ক্ষমতা রাখে. খুব সম্ভবতঃ, ঠিক এই কারণেই পশ্চিম ঠিক করেছে কৌশল বদলের, কিন্তু তার আগে সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরীক্ষা করে দেখে নিয়ে, যার জন্যই দরকার পড়েছিল তুরস্কের গুপ্তচর বিমানের. ফল সবাই জানে. আর তা, মনে হয়েছে যে, তারা নিজেদের মনোযোগের মধ্যে আনবে, যারা সিরিয়ার সমস্যার সমাধান করতে চাইছে শক্তি প্রয়োগ করে. অন্তত সিরিয়াতে “উড়ান বিহীণ এলাকা” লিবিয়ার মতো করে তৈরী করতে যাওয়া সহজ কাজ হবে না.

ব্যাপারটা হল যে, রাশিয়া এই বিষয় নিয়ে কোনও রকমের গোপনীয়তা রাখে নি যে, সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরী করাতে সাহায্য করেছে. রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যমের পাতায় জানানো হয়েছিল যে, আগে করা চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে কিনেছিল ৩৬টি রকেট বিমান প্রতিরোধক ব্যবস্থা “পান্তসির – সি ১”, যা আকাশ পথে হামলা করার যে কোন ব্যবস্থাকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে ও ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতায় ধ্বংস করে দিতে পারে. তাছাড়া মস্কোর সামরিক কূটনৈতিক উত্স থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, রাশিয়া সিরিয়াকে তাদের সমুদ্র সীমা প্রতিরক্ষা করার জন্য সমুদ্র সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “বাস্তিয়োন” পাঠিয়েছে, যা ২০০৭ সালে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে. আর ২০০৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া সিরিয়াতে রপ্তানী করেছে “স্ত্রেলেত্স” নামের রকেট ব্যবস্থা. প্রসঙ্গতঃ এই সমস্ত সরবরাহ করা হয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের কথামতো কোন রকমের আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ না করেই. অন্য ব্যাপার হল যে, আগে অনেক চুক্তিই সম্পাদন করা হয়েছিল সিরিয়া ইজরায়েল বিরোধের কথা চিন্তা করে. এখন পরিস্থিতি পাল্টে গিয়েছে. কিন্তু সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাল্টায় নি.

বর্তমানের এই ঘটনা কি পশ্চিমের পরবর্তী কাজ কারবারের উপরে কোনও প্রভাব ফেলবে, তা একমাত্র সময়ই বলে দেবে. এখন শুধু একটাই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, সিরিয়ার বিরোধীরা, যাদের উপরে পশ্চিমের অভিভাবকরা বাজী ধরেছে, তারা কোন রকমেই দেশের লোকের স্বার্থের প্রতিনিধি নয়, আর যদি এই দেশে প্রশাসনের কোনও বদল হয়, তবে তা হবে দেশের সংবিধান মেনেই. আর সেই সত্যটা যত দ্রুত পশ্চিমে বুঝতে পারবে, ততই ভাল হবে নিকট প্রাচ্যের জনগনের ও একই সঙ্গে পশ্চিমের লোকদেরও.