রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন মুহাম্মেদ মুর্সিকে ইজিপ্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন. রাশিয়ার নেতা তাঁর পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইজিপ্টের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে গঠন মূলক সহযোগিতা করা সম্ভব হবে.

ইজিপ্টের নতুন রাষ্ট্রপতি যে মুসলমান ভাইদের দলের প্রতিনিধি মুহাম্মেদ মুর্সি হয়েছেন, এই খবর গত কাল সন্ধ্যায় ইজিপ্টের নির্বাচনী কমিশনের সভাপতি ঘোষণা করেছেন. ইজিপ্টের নাগরিকরা এই খবর পেয়ে গণ সমাবেশ করে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছেন. মুর্সির পক্ষের লোকরা খুবই উল্লাসের সঙ্গে নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করেছেন, আর যারা তাঁর বিপক্ষের প্রার্থী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শাফিকের জন্য ভোট দিয়েছিলেন, তারা নিজেদের হতাশা গোপন করেন নি. ভোটের ফল প্রকাশের আগে ইজিপ্টের প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্ত করেছিল, কারণ ভয় পেয়েছিল যে, ফল প্রকাশের পরে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে.

প্রত্যেক প্রার্থীই জনগনের মধ্যে যথেষ্ট সমর্থক পেয়েছিলেন, এই কথা উল্লেখ করে প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস দোলগভ বলেছেন:

“ইজিপ্টের সমাজ বর্তমানে বিভক্ত. এক দল রয়েছেন, যারা সংখ্যায় অনেক ও মুহাম্মেদ মুর্সিকে সমর্থন করেন. তাঁরা বেশীর ভাগই ইজিপ্টের সেই সমস্ত রাজ্যের লোক, যেখানে পরিকাঠামো যথেষ্ট উন্নত ভাবে বিকশিত হয় নি, যেখানে জনগনের গড় শিক্ষার মান বেশী উঁচু নয়. আর শাফিক সমর্থন পেয়েছিলেন সেই জনতার, যাঁরা ইজিপ্টের ধর্ম নিরপেক্ষ উন্নতির পক্ষে রয়েছেন”.

বিশেষজ্ঞরা সেই নির্বাচনের আগেই বলেছিলেন যে, প্রার্থীদের শক্তি প্রায় বাস্তবে সমান. তাই হয়েছে দেখা গেল. মুর্সি নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী সমর্থন পেয়েছেন সমস্ত ভোট দাতাদের মধ্যে শতকরা ৫১, ৭ শতাংশের. তাঁর বিপক্ষের প্রার্থী পেয়েছেন ৪৮, ৩ শতাংশ ভোট.

পেশায় ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মেদ মুর্সি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছেন. তাঁর পার্লামেন্টে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তিনি বেশ কয়েকবার হোসনি মুবারকের সময়েই নির্দল প্রার্থী হিসাবে দেশের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জিতে সদস্য হয়েছিলেন. নিজের নতুন পদে মুর্সি প্রশাসনের দুর্নীতি গ্রস্ত ইনস্টিটিউট গুলিকে সংশোধনে আশ্বাস দিয়েছেন, শরিয়তের আইন প্রসারিত ভাবে ব্যবহারের প্রচেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন. তারই সঙ্গে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি পরিকল্পনা করেছেন ইরানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করার. ১৯৮০ সালে তেহরান ও কায়রোর মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল ইজিপ্ট ও ইজরায়েলের শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরে. ইজিপ্ট ও ইরানের সম্পর্ক পুনর্স্থাপন করা, আমার একটি প্রাথমিক কাজ – ঘোষণা করেছেন মুর্সি ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে, যা আজ প্রকাশিত হয়েছে.

তারই মধ্যে আপাততঃ সম্পূর্ণ ভাবে বুঝতে পারা যাচ্ছে না নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতি কতখানি স্বাধীন থাকতে পারবেন. দেশের নতুন সংবিধানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সংক্রান্ত আইন নির্দিষ্ট করে এখনও নেওয়া হয় নি. আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা হওয়ার সামান্য আগে দেশের আদালতের সিদ্ধান্তে ইজিপ্টের পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে অধিকাংশই ছিলেন ঐস্লামিক লোকরা. এখন মুর্সির পক্ষের লোকরা খুবই শোরগোল করে তাদের জয় পালন করছে. কিন্তু খুব শীঘ্রই তারা বুঝতে পারবে যে, বিশেষ করে আনন্দ করার কিছু নেই, এই কথা মনে করেই বরিস দোলগভ বলেছেন:

“সামরিক বাহিনীর উচ্চ সভা নিজেদের হাতে আইন প্রণয়নের দায়িত্ব নিয়ে রেখেছে ও অনেকটাই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে. মুর্সি ইজিপ্টের সত্যিকারের কর্তা হতে পারবেন না. সত্যিকারের ক্ষমতা হয়ে থাকছে সামরিক বাহিনীর উচ্চ সভা. আর যখন তারা, যারা মুর্সিকে সমর্থন করেছিল, দেখতে পাবে যে, তাঁর কাছে সত্যিকারের ক্ষমতা নেই, তখন সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশ করা হতে পারে.”

যদি শুধু মুর্সির পক্ষের লোকদের কথাই বলতে না হয়, বরং সমস্ত ইজিপ্টের লোকদের কথাই বলা হয়, তবে তাদের আরও অনেক কারণ রয়েছে অসন্তোষের. বিপ্লবের পরে শুধু বেকারত্ব বেড়ে গিয়েছে, জীবন যাত্রার দামই খালি বাড়ছে. আর নতুন রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন পড়বে খুবই অসাধারণ কেরামতির, যাতে নিজের প্রাক্ নির্বাচনী প্রভূত আশ্বাসকে রাষ্ট্রের সত্যিকারের সম্ভাবনার সঙ্গে এক জায়গায় করা সম্ভব হয়.