ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য নতুন বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজ “বিক্রমাদিত্য” – প্রাক্তন সোভিয়েত বিমান বাহী ক্রুইজার জাহাজ “অ্যাডমিরাল গর্শকভ” – বর্তমানে সাফল্যের সঙ্গে সমুদ্রে পরীক্ষা করা হচ্ছে. এই বছরের শেষের আগেই তা ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়া হবে. ভারতীয় নৌবাহিনীর মধ্যে এই বিমান বাহী জাহাজ হবে খুবই শক্তিশালী এক সামরিক- সামুদ্রিক আধিপত্য বিস্তারের যন্ত্র হবে.

ভারী ক্রুইজার “অ্যাডমিরাল গর্শকভ” ১৯৭৯ সালে জলে নেমেছিল. সোভিয়েত দেশের পতন এই জাহাজটি আধুনিক করার পরিকল্পনা ভঙ্গ করে দিয়েছিল, যা হলে এটির উপরে তখনকার সবচেয়ে আধুনিক সরাসরি ওঠা নামা করার যোগ্য ইয়াক – ১৪১ যুদ্ধ বিমান দেওয়া হতে পারত. ১৯৯২ সালে “গর্শকভ” মেরামত করার জন্য ডকে উপস্থিত হয়েছিল, যেখান থেকে আর কখনও বের হয় নি. ভারতকে এই জাহাজ বিক্রী করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা শুরু হয়েছিল নব্বইয়ের দশকের শেষেই. তখন পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল এই জাহাজকে ক্ল্যাসিক বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজে পরিণত করার ও তার উপরে ২০ – ২৫ টি “মিগ- ২৯” বিমান রাখার বন্দোবস্ত করার কথা হয়েছিল. ২০০৪ সালে এই যুদ্ধ জাহাজ বিক্রী করার চুক্তি করা হয়েছিল. সেই মর্মে রাশিয়া রাজী হয়েছিল এই জাহাজ ও এক গুচ্ছ “মিগ – ২৯” বিমান, যেগুলি জাহাজের উপরে ওঠা নামা করতে পারে, তা দেওয়াতে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা একাডেমীর উপ সভাপতি অ্যাডমিরাল কনস্তানতিন সিভকভ বলেছেন:

“এই বিমানগুলি বিরোধী পক্ষের আক্রমণ কারী জাহাজের দলকে ধ্বংস করার কাজ করতে পারে, জমিতে যে কোন জায়গার উপরে আঘাত হানতে পারে ও নিজেদের জাহাজ দলের উপরে বিপক্ষের বিমান বাহিনীর আঘাতকে প্রতিহত করতে পারে”.

এই প্রকল্পের উপরে আগ্রহ, যা এমনিতেই অনেক ছিল, তা আরও বেড়ে গিয়েছিল ২০০৭ সালে, যখন ঘোষণা করা হয়েছিল যে, এই চুক্তি ভঙ্গ হতে চলেছে, যেখানে প্রাথমিক ভাবে জাহাজটি ভারতীয় সেনা বাহিনীকে দেওয়ার কথা ছিল ২০০৮ সালে ও প্রয়োজন পড়েছিল এই চুক্তির উপরে আধুনিকীকরণের কাজের মেয়াদ ২০১০ পর্যন্ত বাড়ানোর. এই চুক্তি ভঙ্গ হওয়ার কারণ সম্বন্ধে জানানো হয়েছিল যে, কাজের পরিমান ঠিক করে মূল্যায়ন করা হয় নি বেশ কিছু জাহাজের উপরের ব্যবস্থার জন্য ও এর আধুনিকীকরণের মূল্য কমিয়ে ধরা হয়েছিল বলে. বাড়তি কৌতুহল এই পরিস্থিতিতে সৃষ্টি হয়েছিল ২০০৮ সালের বসন্তে আলোচনায় বিতর্ক সৃষ্টি হওয়াতে, যা শেষ অবধি আরও বেশী হয়েছিল সেই কথা ওঠার পরে যে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এই জাহাজ ও বিমান গুলি নিজেরাই কিনে নেবে রাশিয়ার নৌ বাহিনীতেই ব্যবহার করার জন্য.

২০০৮ সালের মার্চ মাসের শুরুতে রাশিয়া ও ভারত এই জাহাজের আধুনিকীকরণ নিয়ে আলোচনা শেষ করেছিল. জাহাজ হস্তান্তরের শেষ সময় সীমা বাঁধা হয়েছিল ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাস. ভারতীয় নৌবাহিনীতে এই জাহাজ বিমান বাহী জাহাজ “বিরাট” - প্রাক্তন ১৯৫৯ সালে তৈরী হওয়া ও ১৯৮৫ সালে ভারতের পক্ষ থেকে কিনে নেওয়া গ্রেট ব্রিটেনের জাহাজ “গেরমেসের” জায়গা নেবে.

“বিক্রমাদিত্য” যুদ্ধ জাহাজ সাংবাদিকদের চটুল হাতে এর মধ্যেই ভারতীয় নৌবাহিনীর “ট্রাম্প কার্ড” নাম পেয়েছে. এই বিমান বাহী জাহাজ “মিগ – ২৯” বিমান বহর সমেত ভারতের পক্ষ থেকে তাদের প্রতিবেশীদের উপরে আধিপত্য বিস্তারের যন্ত্র হয়ে দাঁড়াবে, তার মধ্যে প্রাথমিক ভাবে পাকিস্তান রয়েছে, এই কথাই উল্লেখ করে অ্যাডমিরাল কনস্তানতিন সিভকভ বলেছেন:

“নিজের কাজের জায়গায় খুব সম্ভবতঃ এই বিমান বাহী জাহাজ ভারতীয় নৌবাহিনীর পতাকা বাহক জাহাজই হবে. তার কাজ করার জায়গা হবে পুরো ভারত মহাসাগর ও তা ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান আঘাত হানার শক্তি হবে. এই জাহাজের কাজ করার সময়কাল ভারতীয় নৌবাহিনীর ক্ষেত্রে আগামী ৩০ বছর বা তার চেয়েও বেশী হতে পারে”.

বিশ্লেষকদের মতে, “গর্শকভ” “মিগ – ২৯” বিমান সহ ভারতীয় নৌবাহিনীকে যে কোনও প্রতিবেশী দেশের চেয়ে বেশী সুবিধা করে দেবে. এখানে চিনের নৌবাহিনীর ক্ষমতা সম্বন্ধেও সন্দেহের অবকাশ রয়েছে – প্রাথমিক ভাবে এই জন্য যে, চিনের বিমান নির্মাণ শিল্প কতখানি সম্পূর্ণ ক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজের উপর থেকে ওঠা নামা করার মতো যুদ্ধ বিমান তৈরী করতে পারে, তার ওপরে, য়া তারা তৈরী করার চেষ্টা করেছে ইউক্রেন থেকে প্রোটোটাইপ হিসাবে কিনে নিয়ে যাওয়া “এস ইউ – ৩৩” নামের একটি সোভিয়েত বিমান থেকে নকল করে. ফলে এই এলাকার একমাত্র নৌবাহিনী হল ভারতীয় নৌবাহিনী, যার উপরে বেশী রকমের প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা রাখে একমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী রইল.