যদি ইউরোপ ও চীন অতিমাত্রায় অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পরে তাহলে এর মোকাবিলায় রুশ সরকার একসারি প্রকল্প গ্রহণ করবে. গত ২১ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ফোরামে এ তথ্য জানানো হয়. ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এবারের ১৬তম ফোরামে বিশ্বের ৩০টি দেশের রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন.

প্রায় ৪০ ঘন্টা যাবত চলা বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক বৈঠকে বিশ্বের স্বনামধৈন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩০টিরও অধিক চুক্তিপত্র সই হয় এবং এর অর্থ পরিমান প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও অধিক. ৩ দিনব্যাপী এ ফোরামের চুড়ান্ত হিসবেই এই হচ্ছে ফলাফল. ‘কার্যকরী নেতৃত্ব’ এই শিরোনামে অনুষ্ঠিত সেশনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা, চুক্তিপত্র সই, প্রদর্শনী ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়.

ফোরাম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের দেওয়া বক্তব্যে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, আজকের এ শতাব্দীতে বৈশ্বিক অর্থনীতি এমনই শংকার যে এক অঞ্চলের অর্থনৈতিক মন্দা প্রতিটি দেশকে প্রভাবিত করে. সেই কারণেই অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতা আজ বৈশ্বিক চরিত্রে রুপ পেয়েছে. পুতিন বলেছেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে আজকের যে চরিত্র যেখানে একটি বিষয় অন্যটির সাথে জড়িত. তাছাড়া বৈশ্বিক চরিত্রে আজ দায়বদ্ধতা থাকা উচিত বিশেষকরে বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাবশালী দেশের জন্য. মূলত সেই সব দেশ যারা মজুদ মুদ্রা সরবরাহ করে থাকে’.

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তির দেশগুলো মন্দা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বর্তমানে নানা কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে. যদিও যে কোন প্রচেষ্টা কার্যকরী হবে যখন বিশ্ব মুদ্রা কাঠামোর আধুনিকায়ন করা হবে. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ এ ধরণের সব প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন করা প্রয়োজন. বেশ কিছু সময়ের আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে নিয়ন্ত্রণ করত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় অর্থনীতির শীর্ষ দেশগুলো. যদিও এ সংস্থায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখত উন্নয়নশীল দেশগুলো. এ অবস্থার পরিবর্তনের সময় এসেছে এবং এর সাথে একমত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের জেনারেল ডিরেক্টর ডেবিড লিপটন. তিনি বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, ক্ষুদ্র ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পরিচালনার পুনর্গঠন খুবই গুরুত্বপূর্ণ. যেহেতু নতুন বাজার সৃষ্টি হচ্ছে এবং তা বিশ্ব অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখছে. কাজেই, তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলেও একই সাথে অবদান রাখছে. এ তালিকায় সব উন্নয়নশীল দেশই রয়েছে’.

দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি আজ মূল্যায়ন করা খুব কঠিন হয়ে পরেছে. রুশ রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন এমন একটি প্রভাবশালী সংস্থা হচ্ছে ব্রিকস. পুতিন জানিয়েছেন, ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা শুধুই মন্দা মোকাবিলা করার জন্যই প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি বরং আরও বাড়তি দায়িত্ব নিয়েছে. ব্রিকস আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে তৈরী আছে.

সেন্ট পিটার্সবার্গে মিলিত হওয়া ব্যাবসায়ী সমাজ তাদের সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছেন. এবারের ফোরামে চুক্তি সই হওয়ার অর্থের পরিমান ছিল বিগত বছরগুলোর থেকে দেড় গুন বেশী এবং তা ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও অধিক.