সেন্ট পিটার্সবার্গে ষোড়শ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্মেলনের কাঠামোর মধ্যে এক নিরপেক্ষ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হয়েছিল নাম বিশ্বজোড়া শক্তি. এই পুরস্কারকে মনে করা হয় একটি সবচেয়ে মর্যাদাময় আন্তর্জাতিক পুরস্কার. এই পুরস্কারকে এমনকি শক্তি ক্ষেত্রে নোবেল প্রাইজও বলা হয়ে থাকে. ঐতিহ্য মেনেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে শক্তি ক্ষেত্রে খুবই অসাধারণ বৈজ্ঞানিক সাফল্যের জন্য, যা সমস্ত মানব সমাজের জন্য উপকারী হয়েছে. এই বছরে তা প্রথমবার মহাকাশের স্তরে পৌঁছেছে: এক গবেষণার উল্লেখ করা হয়েছে, যা মহাকাশে পাঠানোর জন্য রকেটের জ্বালানীর সঙ্গে জড়িত.

২০১২ সালের বিজেতারা – তিনজন বিশ্ব বিখ্যাত বিজ্ঞানী. এই পুরস্কারের একজন প্রাপক হলেন রাশিয়ার বিখ্যাত ইলেকট্রোফিজিক্স ও ইলেকট্রোএনার্জি বিশেষজ্ঞ ও রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর একাডেমিশিয়ান বরিস কাতরগিন. আন্তর্জাতিক পরিষদ তাঁর গবেষণা ও অনুসন্ধান, যা তিনি খুবই উচ্চ মানের সাফল্য অর্জন কারী রকেটের তরল জ্বালানী নিয়ে করেছেন, তাকে উল্লেখ করেছে. অন্য পুরস্কার প্রাপকরা হলেন গ্রেট ব্রিটেনের প্রফেসর, রাসায়নিক প্রযুক্তির ইঞ্জিনিয়ার রডনি জন অ্যাল্লাম ও রাশিয়ার একাডেমিশিয়ান ভালেরি কস্তিউক. তাঁদের গ্যাস সংক্রান্ত ও ক্রায়োজেনিক তরল সংক্রান্ত গবেষণার জন্য.

পুরস্কার প্রাপকদের সাফল্য ইতিমধ্যেই বহু দেশে কাজ করছে. রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বরিস কাতরগিন উল্লেখ করেছেন যে, এখন রাশিয়ার ইঞ্জিন দিয়ে শুধু রাশিয়ারই নয়, বরং আমেরিকার মহাকাশ যানও উড়ছে. এর সব কিছুর কারণই হল অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক হওয়া, এই কথা ব্যাখ্যা করে বরিস কাতরগিন বলেছেন:

“রকেটের তরল জ্বালানীর একটি বিশেষত্ব হল- তথাকথিত আপেক্ষিক তাত্ক্ষণিক শক্তি. এটা হল রকেটের ওড়ার বেগের সঙ্গে জ্বালানী খরচের প্রতি সেকেন্ডে হার. আমাদের ইঞ্জিন ব্যবহার করলে এই সূচক আমেরিকার ইঞ্জিনের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেশী, যা আগের রকেট গুলিতে থাকত. আর যদি ধরা হয় যে, এর প্রতি শতাংশই খুবই দামী, তাই ফল হিসাবে দেখা গিয়েছে যে, আমাদের ইঞ্জিন অনেকটাই বেশী ফলপ্রসূ”.

এই বছরে নিরপেক্ষ পুরস্কার বিশ্বজোড়া শক্তি তার দশম বর্ষ উদযাপন করছে. এই কয়েক বছরে ২৭জন লোককে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে – গ্রেট ব্রিটেন, জার্মানী, আইসল্যান্ড, কানাডা, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, ফ্রান্স ও জাপান থেকে.