আরব লিগের সাধারন সম্পাদকের ডেপুটি আহমেদ বেন হেল্লি ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের ৩০শে জুন জেনেভায় হতে যাওয়া সিরিয়া সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বৈঠকের অংশীদার হওয়া উচিত্. এই দৃষ্টিকোণ কি আরব লিগের সরকারি দৃষ্টিভঙ্গীর সঙ্গে মেলে – তা সম্পূর্ণ ভাবে স্পষ্ট নয়. রাশিয়াতে এরই মধ্যে মনে করা হয়েছে যে সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নেতৃত্বেরই যোগ দেওয়া উচিত্, আর তার মধ্যে ইরানও রয়েছে. এই প্রসঙ্গে আমাদের সমীক্ষক ভ্লাদিমির সাঝিন মন্তব্য করেছেন.

আজ একেবারেই পরিষ্কার যে, কাগজে কলমে ভাল কোফি আন্নানের পরিকল্পনা তার বিফল হওয়ার একেবারে সামনে. সিরিয়ার বিরোধের পরস্পর বিরোধী শক্তি হয় চায় না, অথবা নিজে থেকে রক্তপাত বন্ধ করতে সক্ষম নয়. এটা বুঝে, শ্রী আন্নান এক নতুন ধারণা নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন যে, সিরিয়া নিয়ে যোগাযোগের গোষ্ঠী তৈরী করতে হবে. রাশিয়া রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রাক্তন মহাসচিবের পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছে. রুশ পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ যেমন বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, এই উদ্যোগ রাশিয়ার সেই ধারণার সঙ্গেই একই ধারায় রয়েছে যেখানে বলা হয়েছিল সিরিয়া নিয়ে আলোচনা করা উচিত্ সমস্ত আগ্রহী পক্ষকেই নিয়ে, যারা এই দেশের বিরোধে প্রভাব ফেলেছে.

অর্থাত্ যোগাযোগের গোষ্ঠী তৈরী করা ও বৈঠকের আয়োজন করাকে সিরিয়াতে শান্তি স্থাপনের জন্য আশা ব্যঞ্জক ও একে অপরের পরিপূরক বিষয় বলে মনে করা যেতে পারে. মনে হয়েছিল যে, সমস্ত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকেই এই অনুষ্ঠানকে সমর্থন করা হয়েছে. কিন্তু পরে বিষয়টা আটকে গিয়েছে, বিশেষজ্ঞরা যেমন উল্লেখ করেছেন যে, - এটা হয়েছে কিছু আরব রাজতন্ত্র ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে ইরানের সঙ্গে একই আলোচনার টেবিলে বসতে আপত্তি করা হয়েছে. এই ধরনের অবস্থান কি গঠন মূলক? ইরানের শিয়া ধর্মাবলম্বী প্রশাসনের প্রতি যে রকমের সম্পর্কই থাকুক না কেন, এটা বাদ দেওয়া যায় না যে, ইরান – একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তি, যারা মধ্য ও নিকট প্রাচ্যে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে প্রভাব বিস্তার করে থাকে ও কিছু নির্দিষ্ট উত্তপ্ত বিন্দু যেমন, সেটা ইজরায়েল – প্যালেস্টাইন বিরোধই হোক, আফগানিস্তানের সমস্যাই হোক, ইরাকের পরিস্থিতিই হোক বা ককেশাসে উত্তেজনা থেকে যাওয়া হোক, ইত্যাদি বিষয়ে.

সিরিয়া খুবই স্বাভাবিক যে, কোন রকমের ব্যতিক্রম নয়. তার ওপরে, তেহরান বলা যেতে পারে প্রধান কার্যকরী চরিত্র ভূমিকায় নিরত দের একটি, যারা সিরিয়াতে বর্তমানে হওয়া নাটকীয় পরিবর্তনে অংশ নিয়েছে.

তাহলে ইরানকে সিরিয়ার সম্বন্ধে আলোচনার সময়ে বাদ দেওয়া কি ঠিক হবে, তার মধ্যে – জেনেভায় যে বৈঠকের আয়োজন করা হতে চলেছে সেখানে? এই প্রসঙ্গে আরব সমস্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আলেকজান্ডার ভাভিলভ বলেছেন:

“ইরানের এই বৈঠকে অংশগ্রহণ খুবই সময়মতো ও ফলপ্রসূ হতে পারে, কারণ সিরিয়ার প্রশ্ন তেহরানকে ছাড়া সমাধান করা হবে খুবই কঠিন. যদি তেহরানকে আলোচনার গোষ্ঠী থেকে বাদ দেওয়া হয়, তবে সেখানে যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, তা বাস্তবে কাজে রূপান্তরিত করা সম্ভবপর হবে না”.

ইরানের প্রতিনিধিরা খুবই সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা রাখেন এই এলাকার রাজনৈতিক- কূটনৈতিক কাজকর্মের. তাঁরা তাজিকিস্তানে ও আফগানিস্তানে আর ইরাকে ও ককেশাসে নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে আলোচনার সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন. এটা কোনও গোপন কথা নয় যে, ইরানের আলোচনা করার লোকরা নানা রকমের আলোচনার মঞ্চে গোপনীয় এবং অনেক সময়েই তাঁদের আমেরিকার সহকর্মীদের সঙ্গে প্রসারিত ভাবে প্রচার না করা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন. তেহরানকে সিরিয়ার প্রশ্নে মীমাংসার কাজ থেকে বাদ দেওয়াটা একটা প্যারাডক্স হয়ে যাবে.

0আহমেদ বেন হেল্লি যেমন উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানের প্রধান কাজ হল প্রথম সাক্ষাত্কারের আলোচ্য তালিকা নিয়ে সহমতে পৌঁছনো, তারপরে ঠিক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে যে, কারা এই সম্মেলনে অংশ নেবে. ইরানের এখানে অংশ নেওয়া আগের মতই আলোচনার পর্যায়ে রয়ে গিয়েছে. বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয় যে, শুভ বুদ্ধি, যা বাস্তব বোধ ও একেবারেই প্রাথমিক যুক্তির উপরে নির্ভর করে রয়েছে, তা রাজনীতি নিয়ে খেলার ঊর্ধ্বে উঠবে, আর ইরান সিরিয়ার উত্তেজনার আগুনে জল ঢালার বিষয়ে নিজেদের অবদান রাখবে.