চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে পণ্যআবর্তন দ্বিগুণ বেড়েছে. এই সংখ্যা দিয়েছেন রাশিয়ার অন্যতম উপ-প্রধানমন্ত্রী দমিত্রি রগোজিন সেন্ট-পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক ফোরামে আয়োজিত ভারত-রাশিয়া গোল টেবিল বৈঠকে.

দমিত্রি রগোজিন অন্য উত্কর্ষমান সহযোগিতার স্বপক্ষে মতপ্রকাশ করেছেন. বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়ন দরকার যৌথ শিল্পসংস্থা ও হাইটেকনোলজির বিকাশের মাধ্যমে.

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য হচ্ছে ইনফরমেশন টেকনোলজি, টেলিকমিউনিকেশন, বিদ্যুতশিল্প, বায়োটেকনোলজি, ভারীশিল্প ও পরিকাঠামোগত বড় বড় প্রকল্প – বলছেন রগোজিন.

ভারত ও রাশিয়া প্রথাগতভাবে সাফল্যের সাথে কাজ করে বিদ্যুতশিল্পে, যার মধ্যে পারমানবিক বিদ্যুতও আছে, গ্যাস-পেট্রোল সেক্টরে প্রচুর কাজ করে, টেলিকমিউনিকেশন, গাড়ি বানানোর শিল্পেও সহযোগিতা করে. শরিক হিসাবে বিশ্বব্যাপী নেভিগেশন নেটওয়ার্ক গ্লোনাস নিয়েও সম্মিলিতভাবে কাজ করছে. রুশীপক্ষের মতে, প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও অনেক বেশি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে. তাই দমিত্রি রগোজিন আগস্ট মাসে নিঝনি তাগিল শহরে অনুষ্ঠিতব্য সামরিক প্রদর্শনীতে ভারতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যেখানে নাকি বহু নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হবে. বিমান নির্মাণ শিল্পেও অগাধ সম্ভাবনা. রাশিয়া বিশ্বে অদ্বিতীয় বেরিয়েভ-২০০ মার্কা রি-এ্যাকটিভ বিমান বানায়, আর ভারত, যার দীর্ঘ সামুদ্রিক উপকূল, সমুদ্রে প্রহরা দেওয়া, উদ্ধারকাজে ও আগুন নির্বাপনের জন্য ঐ বিমান কেনার ব্যপারে আগ্রহ প্রকাশ করছে.

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন ফার্মাসেপটিকালে, কারণ ভারত থেকে রাশিয়ায় আমদানী করা পণ্যদ্রব্যের ২৫% ওষুধপত্র. রাশিয়া একান্তভাবে চায় নতুন নতুন ওষুধ নিয়ে গবেষণা ও নতুন নতুন ওষুধের উদ্ভাবন. ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী আনন্দ শর্মা বলছেন, যে ভারত এই ক্ষেত্রে রাশিয়ার সাথে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত.

ভারত পৃথিবীতে জেনারিক উত্পাদনের ক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে. বিশ্বে উত্পাদিত জেনারিকের ৩০ শতাংশই ভারতীয়রা বানায়. আমাদের আকাঙ্খা ক্যান্সার, এইডসের উপসম করা উত্কর্ষমান ও মোটামুটি সস্তা ওষুধপত্রের উদ্ভাবন করা. এবং এই ক্ষেত্রে আমরা চাইছি রুশী কোম্পানীগুলির সাথে সহযোগিতা.

দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতার বিকাশ এখনো মার খাচ্ছে, কারণ একে অপরের বাজার সম্পর্কে তেমন ওয়াকিবহাল নয় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খুব কম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে অংশ নেয়. ভারতীয় শিল্প কনফেডারেশনের প্রধান আদি গোদরেজ রাশিয়ার চেম্বার অফ কমার্সের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তার কনফেডারেশন আয়োজিত প্রদর্শনীগুলিতে আরও সক্রিয়ভাবে রুশী কোম্পানীগুলির অংশগ্রহণের ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য. আর রাশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত অজয় মালহোত্রা বলেছেন, যে দুই দেশের বাণিজ্যিক সমাজের প্রতিনিধিদের আরও ঘন ঘন সাক্ষাত করা উচিত, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ফোরামেই নয়.