জাপানের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র “ফুকুসিমা” বিপর্যয়ের পরে হতাশা বাদী লোকদের পূর্বাভাস মেলে নি. বিশ্বে পারমানবিক শক্তি থেকে নিরত হওয়ার ঘটনা ঘটে নি. বরং উল্টো হয়েছে, অনেক দেশের সংখ্যা বেড়েছে, যেখানে নতুন করে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গড়তে চাওয়া হয়েছে. এই ধরনের এক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন পিটার্সবার্গের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা, আজ একটি প্যানেলে এই প্রসঙ্গে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল: “পারমানবিক শক্তি: “ফুকুসিমার” এক বছর পরে”, নাম দিয়ে.

জাপানের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে বিপর্যয় সারা বিশ্বের সমস্ত দেশের জন্যই একটা শিক্ষা হয়েছে, আর তা শুধু সেই সব দেশের জন্যেই নয়, যেখানে পারমানবিক শক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকে. আর এখন, একেবারেই আগে কখনও যা হয় নি, আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে মনোযোগ দিচ্ছেন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্বন্ধে ও খুবই খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখছেন সমস্ত পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রই, কোন দেশ বা কত সালে তা তৈরী হয়েছে, সেটা লক্ষ্য না করেই. আন্তর্জাতিক এই সংস্থার ডেপুটি ডিরেক্টর ডেনিস ফ্লোরি সেই অভিজ্ঞতার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন, যা জাপানের দুর্ঘটনার সময়ে অর্জন করা সম্ভব হয়েছে, তিনি এই সূত্রে বলেছেন:

“আমি বিশ্বাস করি যে, এখন অবধি নেওয়া ব্যবস্থাপনার ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গুলি এখনই অনেক বেশী নিরাপদ হয়েছে. আর এই ক্ষেত্রে আরও উন্নতি করা হতেই থাকবে. কিন্তু আমরা কোন দিনই আমাদের সাফল্যে থেমে থাকতে পারবো না. আমাদের দুর্ঘটনার সম্ভাব্য পরিনাম নিয়ে মনে রাখতে হবে, কিন্তু এই প্রসঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ বা উন্নতি বন্ধ করলে চলবে না, যাতে এই সম্ভাবনাকে সবচেয়ে কম করা সম্ভব হয়”.

“ফুকুসিমা” ট্র্যাজেডির পরে শুধু জনগনের শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তির উপরেই আস্থা কম হয়ে যায় নি. বহু বিশেষজ্ঞই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, যদি একেবারে ধ্বংস না হয়েও যায়, তবুও তৈরী হতে যাওয়া ও নতুন করে প্রকল্প হতে যাওয়া পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের সংখ্যা অন্তত অর্ধেক হয়ে যাবে. কিন্তু এক বছর পার হওয়ার পরেও এই ভবিষ্যদ্বাণী মেলে নি, এই কথাই বলেছেন সের্গেই কিরিয়েঙ্কো:

“সেই সব দেশ আছে, যারা সত্যই নিজেদের প্রকল্প কম করার. প্রসঙ্গতঃ জার্মানী, সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিজেদের প্রকল্প শুধু অর্ধেকই নয়, একেবারেই একশ ভাগ বন্ধ করে দিতে. আরও দেশ রয়েছে, যেখানে “ফুকুসিমার” পরে শুধু তাদের আগের প্রকল্পই রাখা হয় নি, বরং আরও নতুন প্রকল্প তৈরী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা “ফুকুসিমার” আগে তাদের ছিল না, অথবা এতটা গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনার প্রসারণ আগে তারা করে নি. এই ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে, সেই ধনের দেশের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও ধরা যেতে পারে, যেখানে বহু বছরের মধ্যে প্রথম নতুন করে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র বানানোর জন্য”.

বর্তমানে কি পথ রয়েছে বিকল্প শক্তির উত্স তৈরী করার জন্য? এই প্রশ্নেও সেন্ট পিটার্সবার্গে মনোযোগের কেন্দ্রে ছিল. সের্গেই কিরিয়েঙ্কো মনে করেন যে, সে গুলিও বাস্তবায়ন হওয়ার অধিকার রাখে, কিন্তু আপাততঃ পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের জায়গা নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই, তাই তিনি যোগ করেছেন:

“পুনর্ব্যবহারের যোগ্য শক্তির উত্স প্রসারিত করার মতো ক্ষমতা আজকের দিনে শুধু খুবই ধনী দেশ নিজেদের জন্য পারে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাস্তবায়িত করা শেল গ্যাস প্রকল্প গ্যাসের দাম কমিয়ে দিয়েছে, কিন্তু প্রত্যেক দেশের এই গ্যাসের উত্স নেই. প্রত্যেক দেশেই যথেষ্ট জায়গাও নেই যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণের দাবী মেনে শেল গ্যাস ব্যবহার করা যেতে পারে, যাতে জল ও জলের উত্স নষ্ট না হয়ে যায় দূষণের ফলে”.

রসঅ্যাটমের প্রধানের কথামতো, পারমানবিক শক্তির উন্নতি সব মিলিয়ে বজায় রয়েছে, কিন্তু খুবই বিভিন্ন হয়েছে দেশ অনুযায়ী. বিশ্বে পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্প নির্মাণের প্রকল্প সেই সমস্ত দেশের দিকেই সরে যাবে, যারা খুবই দ্রুত গতিতে বাড়ছে ও যাদের বিদ্যুত শক্তির বিষয়ে খামতি রয়েছে.