আমেরিকার নর্থরপ গ্রুম্যান কোম্পানী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর জন্য প্রথম সামুদ্রিক পাইলট বিহীণ বিমান এম কিউ- ৪ সি ট্রিটন তৈরী করেছে. এই ড্রোন তৈরী করা হয়েছে মহা সমুদ্রের উপরে উড়ে কাজ করার জন্য, যা আবারও প্রশ্নের উদ্রেক করেছে এই ধরনের গুপ্তচর বৃত্তি ও আঘাত হানার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের আইন সঙ্গত অবস্থানের বিষয়ে, যা তৈরী করা হয়েছে লক্ষ্য নির্দিষ্ট করা ও তা অগ্নি বর্ষণে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য, এই সম্বন্ধে আমাদের সমীক্ষক ভ্লাদিমির ইভাশিন লিখেছেন এক প্রবন্ধে.

পাইলট বিহীণ বিমান বর্তমানে বহু দেশের সামরিক বাহিনীতেই রয়েছে. তাদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. সামরিক ড্রোন উত্পাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বে নেতৃস্থানীয় দেশ ইজরায়েল – যারা খুবই সক্রিয় ভাবে নিকট প্রাচ্যে ড্রোন ব্যবহার করছে. এই ধরনের ড্রোন বিমান রয়েছে আরও গ্রেট ব্রিটেন, জার্মানী, ফ্রান্স, রাশিয়া, ভারত ও চিনেরও. বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০১৮ সালে বিশ্বে উদয় হবে প্রায় তিরিশ হাজার ড্রোন বিমান. কিন্তু এই ধরনের বিমান ব্যবহার এখনই নির্দিষ্ট সমস্যার সঙ্গে জড়িত, - এই রকম মনে করে পাইলট বিহীণ ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষজ্ঞ দেনিস ফেদুকিনভ বলেছেন

যেহেতু এই ধরনের উড়ান করা হয়ে থাকে সকলের ওড়ার মতো এলাকায়, তাই প্রয়োজন পড়েছে এই ধরনের উড়ানের বিষয়ে নিয়ম তৈরী করার, যাতে অন্য সামরিক ও ব্যবসায়িক বিমানের সঙ্গে ধাক্কা লাগার বিপদ না হয়.

ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের নির্দিষ্ট নিয়ম না থাকার জন্য, যেমন পর্যবেক্ষণ, তেমনই সামরিক ক্ষেত্রে, সেই সমস্ত দেশ, যারা এই ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করে, তারা প্রাথমিক ভাবে নিজেদের দেশের নিয়ম শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী করে থাকে, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র.

সেই জর্জ বুশ জুনিয়রের রাষ্ট্রপতিত্বের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রীম কোর্ট একটি ধারণা তৈরী করেছিল আন্তর্জাতিক নয় এমন সামরিক বিরোধ নামে. আন্তর্জাতিক ও আন্তর্রাষ্ট্রীয় বিরোধের সঙ্গে এর তফাত হল যে, এটা- একটি রাষ্ট্র ও আর একটি রাষ্ট্র নয় এমন প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ, যার সঙ্গে কোনও দেশের সীমানা বা সার্বভৌম এলাকার উপর কোনও ভাবেই নির্ভর করে না. এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদী অথবা চরমপন্থী দলের সঙ্গে মোকাবিলার নামে আক্রমণ কারী ড্রোন বিমানের ব্যবহারকে বিশ্বের যে কোনও দেশেই স্বীকৃতী দিতে পারে. আর তাই তারা করছে.

২০০১ সালে আফগানিস্তানে অনুপ্রবেশের পরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুবই সক্রিয় ভাবে সামরিক প্ল্যাটফর্ম যেমন এই দেশে, তেমনই পার্শ্ববর্তী পাকিস্তানে ব্যবহার করতে শুরু করেছিল. তার উপরে আবার শুধু ইসলামাবাদের কাছ থেকে এই সম্বন্ধে কোন রকমের অনুমতি আদায় না করেই নয়, এমনকি কোন ভাবে পাকিস্তানের প্রশাসনকে আগাম জানান না দিয়েও. ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে আমেরিকার ড্রোন ভুল করে পাক- আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক চৌকির উপরে হামলা করেছিল. ফলে ২৪ জন পাকিস্তানী সেনা নিহত হয়েছিল. ইসলামাবাদ এই ঘটনাকে ও এই ধরনের আক্রমণকে তাদের দেশের সার্বভৌমত্বের খুবই গুরুতর রকমের হানি বলে মনে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন কেন্দ্র ওয়াশিংটনের কাছে এই ঘটনার চিরকালের জন্যই পুনরাবৃত্তি হওয়ার দাবী জানিয়েছে. কিন্তু ড্রোন ব্যবহার পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিমে তালিবদের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য চালানোই হচ্ছে.

উল্লেখযোগ্য হল যে, ওয়াশিংটনে আমেরিকার ড্রোন বিমানের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিরক্ষাকে ধরা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরে আক্রমণ বলে. কারণ, পাকিস্তানের ব্লক পোস্টের উপরে ড্রোন হামলার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে অস্বীকার করার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিজেদের অবস্থান নিয়ে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, পাকিস্তানের সেনারা নাকি প্রথমে নিজেরাই এই ড্রোনের উপরে গুলি চালনা করেছিল.

দেশ গুলির পক্ষ থেকে নিজেদের খুশী মতো গুপ্তচর বৃত্তি ও আঘাত হানার জন্য বিমান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার পরিণতি যে জটিল হবেই তা বলা বাহুল্য. ড্রোন বিমানের ব্যবহার মহা সমুদ্রের উপরে বাড়ানো হওয়ার পরে এক আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত ফাঁকা জায়গা থাকায় নতুন করে বিরোধ সৃষ্টির সম্ভাবনা বহুলাংশে বেড়ে গেল. বিশেষ করে দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়াতে, যেখানে উত্তেজনা এমনিতেই অনেক বেশী অনেক গুলি এলাকা সংক্রান্ত বিরোধের জন্যই. আর বহু দ্বীপ পূঞ্জের এলাকা, যেখানে সামুদ্রিক ভাবে কোন শিল্প তৈরী করা যেতে পারে, তা কোন দেশের এলাকা, এই নিয়ে বিরোধ বেশীর ভাগ সময়েই শক্তি প্রয়োগ করে বিরোধে পরিণত হয়ে থাকে.