কেমেরোভা এলাকার দক্ষিণে নতুন করে তুষার মানবের টাটকা পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছে. ইয়েতি খোঁজার জন্য পাহাড়ী শোর এলাকায় এক ইতালীয় অতিমানব বিশেষজ্ঞের দল রওয়ানা হয়েছেন. তাঁরা সেই সব লোকদের সঙ্গে দেখা করবেন, যাঁরা এই ধরনের রহস্যময় জীব দেখেছেন, আর সেই সব জায়গাতে যাবেন, যেখানে নিয়মিত ভাবেই এই ধরনের জীবের আসা যাওয়ার চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়.

পাহাড়ী শোর এলাকায় বিশাল সব পায়ের ছাপ – প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার অবধি লম্বা – প্রায়ই দেখতে পাওয়া যায়. ইয়েতি বহু দিন আগেই এই অঞ্চলের পর্যটনের একটা প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে. গত বছর থেকে এমনকি এখানে একটা উত্সবও পালন করা হচ্ছে – তুষার মানব দিবস, যা দিয়ে পাহাড়ে স্কি করার ঋতুর উদ্বোধন করা হয়েছে, আর তার আঁকা ছবি নিয়ে নানা রকমের স্যুভেনির গুলি সব জায়গায় বিক্রী হচ্ছে.

গত বছরের অক্টোবর মাসে আজাস্সক গুহা, যাকে স্থানীয় শিকারিরা বহু দিন আগে থেকেই তাগ এজি – তাইগার আত্মার সঙ্গে যুক্ত করেছে, সেখানে এক আন্তর্জাতিক অভিযাত্রী দল গিয়েছিল. ইয়েতি বিজ্ঞানীরা, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সুইডেন, এস্তোনিয়া থেকে এসে রাশিয়ার বিজ্ঞানীদের সঙ্গে দলে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা কেউই দেখতে পান নি, কিন্তু এই কথা সত্য যে, তাঁরা একটা বিরাট ছাপ দেখতে পেয়েছিলেন, যে ছাপের সঙ্গে লোম আটকে ছিল. সেই লোম গুলি কাদার সঙ্গে একসাথে এক লোমশ পায়ের গোড়ালি থেকে ছিঁড়ে আটকে গিয়েছিল, আর তা ছিল এক অজানা জীবের, যার লোমের দৈর্ঘ্য ৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত এবং তা পুরোটাই ধূসর রঙের, শুধু গোড়ার দিকে কালো.

সেন্ট পিটার্সবার্গে এই পাওয়া লোম নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর জীব বিদ্যা ইনস্টিটিউটে ও তা করা হয়েছে একটা স্ক্যান করার উপযুক্ত ইলেকট্রনিক মাইক্রোস্কোপ দিয়ে. বিশ্লেষণ প্রমাণ করেছে যে, কুজবাস অঞ্চলের ইয়েতি – কোন রূপকথা নয়. তার লোম সেই ধরনের তুষার মানবের লোমের মতই, যা বেশ কয়েক দশক আগে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়াতে পাওয়া গিয়েছিল, আর একই রকমের যা পাওয়া গিয়েছিল লেনিনগ্রাদ এলাকায় ও উরাল পর্বতমালার কাছে, এই কথা ব্যাখ্যা করে এই অভিযানের অংশগ্রহণকারী ও পেত্রোভস্কি ও নিউইয়র্কের বিজ্ঞান একাডেমীর একাডেমিশিয়ান ভালেন্তিন সাপুনোভ বলেছেন:

“সেগুলি ইয়েতির লোমের মত, যা বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় পাওয়া গিয়েছে. বোঝাই যাচ্ছে যে, সেখানেও সব কিছুই গুলিয়ে ফেলা সম্ভব ছিল, কিন্তু সবাই একই দিকে গুলিয়েছেন ও গবেষণার সমস্ত ফল হয়েছে একই রকমের – এটা স্রেফ বাস্তব হতে পারে না”.

চারটি নমুনাই, যা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে লোম গুলির মধ্যে উত্পত্তি গত মিল রয়েছে – বিশ্বের বিভিন্ন কোনের ইয়েতি একই ধরনের জীব বলে প্রমাণিত হয়েছে, বলেছেন এই জীব বিদ্যায় ডক্টরেট করা বিশেষজ্ঞ. ইয়েতির ডিএনএ পাওয়া সম্ভব হলে, তবেই বলা যাবে যে, তুষার মানবের সঙ্গে মানুষের আত্মীয়তা আছে কি না. রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর জীব বিদ্যা ইনস্টিটিউটের অণু ব্যবস্থাপনা দলের বিজ্ঞানীরা এখন চেষ্টা করছেন কুজবাস এলাকার তাগ – এজি অথবা তাইগার আত্মার লোম থেকে ডিএনএ অণু বের করার. একই সময়ে, যখন পিটার্সবার্গের উপকণ্ঠে ইয়েতির লোম ও উরাল এলাকায় ইয়েতির লোম পাওয়া গিয়েছিল, তখন যন্ত্রপাতি ভাল নয় বলে ডিএনএ বের করা সম্ভব হয় নি. আর সেই আমেরিকার বিশেষজ্ঞরা, যারা ক্যালিফোর্নিয়াতে বড় পা নামের অজানা জীবের ডিএনএ বের করেছিলেন, তখন বিশ্বের বিজ্ঞানী মহল সেই কথায় স্রেফ বিশ্বাস করে নি. কারণ তারা ঘোষণা করেছিল যে, ইয়েতি ও মানুষের ডিএনএ কোন ভাবেই আলাদা নয়.

কিন্তু এখন, বাস্তবে, পরিস্থিতির বদল হচ্ছে. বিখ্যাত এক জীন বিশেষজ্ঞ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উলফসন- কলেজের প্রফেসর ব্রায়ান সাক্স ঠিক করেছেন তিনি একটি বাস্তব নির্ভর সিদ্ধান্ত নেবেন, যে, ইয়েতি আছে নাকি নেই. সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তিনি নিজের সমস্ত সিদ্ধান্ত শুধু বাস্তবে পাওয়া তথ্যের উপরে ভিত্তি করে তৈরী করছেন. জাদুঘরের সাইটেও বিজ্ঞানী একটি ঘোষণা প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি সমস্ত ইচ্ছুক ব্যক্তিকে বিশ্লেষণের জন্য তাঁর কাছে নিজেদের কাছে রাখা বিশ্বের বহু রহস্যময় জায়গার নানা রকমের অজানা জীবের দেহাবশেষ পাঠাতে আহ্বান করেছেন. রাশিয়ার ইয়েতি বিশেষজ্ঞরা তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দেবেন কি না, তা এখনও অজানা. নিজের গবেষণার ফলাফল বিশ্বের কাছে প্রকাশ করার জন্য ব্রায়ান সাক্স তৈরী হয়েছেন এই বছরের ডিসেম্বর মাসেই.