রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন যে, নিজের প্রধান কাজ হিসাবে তিনি রাশিয়াতে প্রসারিত ভাবে পুনর্গঠনকেই মনে করেন. সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন যে, রাশিয়ার মন্ত্রীসভা দেশে সুদূর প্রসারিত ভাবে পুনর্গঠনের জন্য একটি সম্পূর্ণ মাপের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে. এই পরিকল্পনা দেশে সামাজিক ভাবে সমর্থন পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন. রুশ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীণ এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নকেই ভ্লাদিমির পুতিন মনে করেছেন নিজের প্রধান কাজ বলে.

নিজের লক্ষ্য হিসাবে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন ইতিমধ্যেই রাশিয়ার পক্ষ থেকে অর্জিত প্রতিযোগিতায় স্বাভাবিক সুবিধা গুলিকে বজায় রাখা ও বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা গুলিকে বিকশিত করা. প্রাথমিক কাজ গুলির মধ্যে – দেশের স্থিতিশীল ভাবে উন্নয়ন, মানুষের ও সমাজের পরিষেবার জন্য ফলপ্রসূ প্রশাসন তৈরী করা. তাছাড়া, প্রয়োজন রয়েছে শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিচার ব্যবস্থা সৃষ্টি করা, যা দেশের জনগনের নিঃশর্ত সমর্থনের উপরে ভরসা করতে পারে বলে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন. রাশিয়ার জন্য প্রাথমিক কাজ হিসাবে – দেশে বৃহত্ পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে. একই সঙ্গে, বড় কুড়ি দেশের শীর্ষ সম্মেলনের ফল নিয়ে মূল্যায়ন করে পুতিন ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্ব অর্থনীতিতে পরিস্থিতি খুবই আশঙ্কা জনক, তিনি বলেছেন:

“বিশ্বের সমাজের যেটা নেই তা হল বিশ্বের অর্থনৈতিক সঙ্কটের সমাধানের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে তা সম্পূর্ণ ভাবে কার্যকর করা, আর অর্ধেক ব্যবস্থা শুধু পরিস্থিতিকেই আরও জটিল করছে. রাশিয়া বিশ্বের স্তরে সেই সমস্ত ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছে, যা সঙ্কট হতে দেবে না, যা ইউরো এলাকাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে”.

রুশ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি অন্যান্য দেশের নেতাদের কাছে আহ্বান করেছেন “বাস্তববাদী কাজকর্ম করার জন্য, যা ভরসার উদ্রেক করতে পারে”. এই ধরনের পদক্ষেপের মধ্যে তিনি নাম করেছেন ভারসাম্য বজায় রেখে বাজেট নীতি নেওয়া, রাষ্ট্রের ঋণের উপরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, আর্থিক নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলা. পুতিন একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, ন্যায্য হবে এই প্রশ্নের উত্থাপন করা হলে, যে বিশ্বে উন্নতিশীল অর্থনীতি গুলির ভূমিকা বাড়ানো উচিত্, আর তার মধ্যে ব্রিকস গোষ্ঠীর দেশ গুলির. উচিত হবে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পুনর্গঠন করা ও অন্যান্য অর্থনৈতিক ইনস্টিটিউট গুলির পুনর্গঠন করা.

সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন বছরের একটি প্রধান অর্থনৈতিক ঘটনা. বিশ্বের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ব্যবসা- বাণিজ্যের উচ্চ স্তরের প্রতিনিধিরা উত্তরের এই রাজধানীতে প্রতি বছরে আসেন, যাতে বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বাস্তব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করাতে অংশ নেওয়া যায়.