বিশ্বের নেতারা আলোচনা করছেন “সবুজ অর্থনীতি” নিয়ে. ব্রাজিলের রিও-দে-জেনেইরো শহরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরিবেশ ও স্থিতিশীল উন্নয়ন “রিও+২০” শিখর সম্মেলন ২০ থেকে ২২শে জুন হবে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ অংশ নেবেন এখানে.

একশ জনেরও বেশী বিশ্বের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি রিও-দে-জেনেইরো শহরে এসেছেন, যাতে তাঁদের জাতীয় স্ট্র্যাটেজি আবার করে আরও বেশী পরিবেশ বান্ধব বা তথাকথিত সবুজ অর্থনীতি রূপায়নের জন্য সকলের সঙ্গে সমঝোতা করে তৈরী করা যায়. এই খবর দিয়ে আমাদের ব্রাজিলের সাংবাদিক প্রতিনিধি আলেকজান্ডার ক্রাসনভ বলেছেন:

“রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্থিতিশীল উন্নয়নের “রিও+২০” সম্মেলন এই দিন গুলিতে রিও-দে-জেনেইরো শহরে হচ্ছে. এটি বৃহত্তম আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান, যা পরিবেশ সংরক্ষণের প্রশ্নে সভ্যতার বিকাশের পরিপ্রেক্ষিতে করা হচ্ছে. ঠিক কুড়ি বছর আগে এই শহরে প্রথম পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত সম্মেলন “রিও৯২” করা হয়েছিল. সেটা ছিল আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের স্তরে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীল বিকাশ ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য এক প্রথম প্রচেষ্টা.

কুড়ি বছর পরে বলা যেতে পারে যে, নির্দিষ্ট সাফল্য পাওয়া সম্ভব হয়েছে এই লক্ষ্যে. কিন্তু সেই উন্নতির গতি এত দ্রুত হয় নি, যা চাওয়া হয়েছিল, এই কথা উল্লেখ করে বিশ্ব বন্য প্রকৃতি তহবিলের প্রকৃতি সংরক্ষণ নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে ডিরেক্টর ইভগেনি শোয়ার্ত্স বলেছেন:

“২০ বছর আগে রিও শিখর সম্মেলনের পরে অনেক কিছুই, যা তখন উল্লেখ করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত করা হয়েছে. জৈব বিভিন্নতা নিয়ে এক কনভেনশন গৃহীত হয়েছে, যা খারাপ বা ভাল, যাই হোক না কেন, তাও কাজ করতে শুরু করেছে. আবহাওয়া সংক্রান্ত নীতির কাঠামো নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কনভেনশন স্বাক্ষরিত হয়েছিল, আর নেওয়া হয়েছিল কিয়োটো প্রোটোকল. তার দশ বছর পরে যোহানেসবার্গে হাজার বছরের স্থিতিশীল উন্নয়নের লক্ষ্য গৃহীত হয়েছিল, যেখানে নির্দিষ্ট ভাবে সংখ্যা হিসাবে ও গুণগত ভাবে দিক চিহ্ন ঠিক করা হয়েছিল, যার দিকে এখন আমরা যাচ্ছি. বর্তমানে “সবুজ অর্থনীতি” নিয়ে ধারণা উদয় হয়েছে, যা বহু কারণের জন্যই এখনও কার্যকরী হতে পারে নি”.

“সবুজ অর্থনীতি” নিয়ে ধারণা হল কম কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নির্গম ও প্রাকৃতিক রসদের ফলপ্রসূ ব্যবহারের সঙ্গে একেবারেই নতুন ধরনের উত্পাদনের শৃঙ্খল. উত্পাদন ব্যবস্থার নতুন করে দিক নির্দেশ করার জন্য দেশ গুলির প্রয়োজন অনেক আর্থিক বিনিয়োগ করার. তা নিজেদের জন্য সম্ভাব্য করতে পারে খুব কমই উন্নতিশীল দেশ. এমনকি উন্নত দেশ গুলিও অর্থনীতির জন্য নতুন ধারণাকে গ্রহণ করার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না – বিশেষ করে ২০০৮ সালের সঙ্কট এখনও নিজের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে.

তার মধ্যে আবার “সবুজ অর্থনীতির” কোনও একক মডেল সমস্ত দেশের জন্যই হতে পারে না. আর যখন প্রশ্ন ওঠে জাতীয় বিশেষত্বের, তখন প্রত্যেক দেশই নিজেদের জন্য আলাদা করে লড়াই করে.

বিগত রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্থিতিশীল উন্নয়ন নিয়ে কার্যকরী কমিটির পক্ষ থেকে এই সম্মেলনের জন্য ফলাফল সংক্রান্ত ঘোষণা দলিল, যা গত ছুটির দিন গুলিতে হয়েছে, তাতে এই শিখর সম্মেলনের পরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে তৈরী করার প্রয়াস সফল হয় নি. তাই প্রশ্ন: বিশ্বের নেতারা নিজেদের স্বাক্ষর ২২শে জুন এই দলিলের নীচে করবেন কিনা, তা এখনও জবাব বিহীণ রয়ে গিয়েছে. ঘোষণা পত্র ছাড়াও, আশা করা হয়েছে যে, এখানে বেশ কয়েকটি দলিল স্বাক্ষরিত হবে, যা বিশ্বের আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে, জৈব প্রকৃতির বিভিন্নতা নিয়ে ও মরুভূমির বিস্তারের মোকাবিলার জন্য নেওয়া হতে চলেছে.