সেই সব সমস্যা, যা জি ২০ গোষ্ঠীর শীর্ষ সম্মেলনে লক্ষ্য করা হয়েছে, তা নিয়ে রাশিয়ার সভাপতিত্বে “বড় কুড়ি” দেশের গোষ্ঠীতেও আলোচনা করা হবে. আমরা এই সম্মেলনের কাজের পরম্পরা বজায় রাখতে চাই, সেই সমস্ত প্রশ্নের বিষয়েই মনোযোগ দিতে চাই, যেগুলির সমাধানের জন্য এই “কুড়িটি দেশের” গোষ্ঠী বানানো হয়েছিল, এই কথা বলেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন, মেক্সিকোর লস- কাবোস শহরে অনানুষ্ঠানিক এই বৃহত্ অর্থনীতি সম্পন্ন কুড়িটি দেশের গোষ্ঠীর সম্মেলনের পরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে.

রাশিয়ার নেতা উল্লেখ করেছেন যে, দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীরা বিশ্ব অর্থনীতিকে উদ্দীপিত করার জন্য ও পুনর্স্থাপন করার জন্য প্রশ্ন গুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন, আর তারই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থ- বিনিয়োগ ইনস্টিটিউট গুলিকে সংশোধন ও মজবুত করার ব্যবস্থা করেছেন. এই আলোচনায় উন্নত দেশ গুলির ঋণ কমানোর কথা বলা হয়েছে. সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের জমার পরিমান বৃদ্ধি করা হবে, এই প্রসঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন:

“এই বৈঠকের প্রধান ফলাফল গুলির মধ্যে উল্লেখ করব আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের যোগানের পরিমান ৪৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সমান করার সিদ্ধান্ত. এটার প্রয়োজন বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার জন্য ও বিনিয়োগের বাজারে ঝুঁকি কমানোর জন্য. রাশিয়া তৈরী আছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের আওতায় এক হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত রাশিয়ার জাতীয় ব্যাঙ্কের আন্তর্জাতিক সঞ্চয় থেকে উপস্থিত করতে. এই প্রসঙ্গে আমি দৃঢ় বিশ্বাস করি যে, এই তহবিলের সম্পদের পরিমান বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই এর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাতেও সংশোধন করা উচিত্ হবে. যার লক্ষ্য গুলির মধ্যে একটি হবে, দ্রুত গতিতে উন্নতিশীল দেশ গুলির ভূমিকা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে বৃদ্ধি করা”.

একই সঙ্গে, পুতিনের কথামতো, রাশিয়ার সভাপতিত্বের সময়ে ২০১৩ সালে “বড় কুড়ি” গোষ্ঠীতে জ্বালানী শক্তি, বিশ্বের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিকাশের জন্যও বিষয় গুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে. আগামী শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্য বিষয় নিয়ে পুতিন ঘোষণা করেছেন যে, পরবর্তী জি- ২০ শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্য বিষয়, যা ২০১৩ সালের হেমন্তে সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত হবে, তা তৈরী করা হবে বিশ্বের অর্থনীতি কি ভাবে বিকাশ হচ্ছে, তার উপরে ভিত্তি করে ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতির পরিস্থিতি দেখেই. এর আগে “বড় কুড়ি” দেশের শীর্ষ সম্মেলনে নেওয়া সমস্ত সিদ্ধান্ত গুলির বাস্তবায়নের সম্বন্ধে মূল্যায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার নেতা বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, “বড় কুড়ি” দেশ শুধু নিজেদের অবস্থান ও স্বার্থের কথা চিন্তা করেই যেন নীতি নির্ধারণ না করে. এখানে প্রয়োজন হবে সবচেয়ে বড় আলোচনার মঞ্চ, যেখানে নিজেদের দৃষ্টিকোণ সম্বন্ধে সেই সমস্ত দেশও বলতে পারে, যারা জি ২০র মধ্যে নেই.

রাষ্ট্রপতি বলেছেন যে, রাশিয়া নির্দিষ্ট ফলের দিকেই লক্ষ্য করেছে, যা বিশ্বের অর্থনীতিকে বিকাশের জন্য গতি এনে দিতে পারে ও নাগরিকদের সমৃদ্ধি সাধন করতে পারে. পুতিন যোগ করেছেন যে, এই শীর্ষ সম্মেলন খুবই ভাল সুযোগ করে দিয়েছে অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার ও তাঁদের সঙ্গে মুখ্য বিষয় গুলিতে নিজেদের অবস্থান যাচাই করে দেখে নেওয়ার.