সম্প্রতি নিকোলাই নিকিফোরোভকে রাশিয়ার তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর পদে নিযুক্ত করা দেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে এক গুরূত্বপূর্ণ ঘটনা. ক্যাবিনেট মন্ত্রীসভার সদস্য হয়েছে এমন একজন যুবক, যার বয়স ত্রিশও ছাড়ায়নি.

রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে নিকিফোরোভ বলেছেন, যে বিশ্বের সংবাদ মাধ্যগুলি ক্রমাগত বদলাচ্ছে বিভিন্ন কারণে, কিন্তু সবারই সুযোগ আছে. তিনি সেইসাথেই উল্লেখ করেছেন, যে বাজারের আইনই ঠিক করবে কোন প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য পেতে সুবিধা হবে ভবিষ্যতে এক বা অন্য অঞ্চলে.

নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা যথেষ্ট পরিমানে বদলে দিচ্ছে. যুব-ইন্টারনেট প্রজন্ম সোস্যাল নেটওয়ার্ক থেকেই সংবাদ সংগ্রহ করতে পছন্দ করে. কিন্তু তার মানে এই নয়, যে সব সংবাদপত্র, বেতার ও দূরদর্শনের জমানা শেষ হয়ে যাচ্ছে. তবে রাশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রীর মতে এদের বিকাশ নির্ভর করবে তার উপর, কোন প্রযুক্তি তারা ব্যবহার করবে.

ঐতিহ্যগত সংবাদ মাধ্যমগুলি বেঁচে থাকবে, কিন্তু তাদের প্রচারের অনুপাতে রদবদল হতে পারে. আর প্রথাগত সংবাদ মাধ্যমগুলির তুলনায় এখন ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তা বেশি – এটা পুরোপুরি ঠিক নয়. বিভিন্ন মানুষের বিভিন্নরকম সংবাদ মাধ্যম পছন্দ. আর রাজধানীতে ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তা কোনো বিরল অধ্যুষিত দূরের গ্রামগঞ্জের সাথে তুলনা করা যায় না. দূরদর্শন সারা দেশব্যাপী সম্প্রচার করে, আর নতুন সংবাদ মাধ্যম ইন্টারনেট কিন্তু শুধু দেশের বড় বড় শহরেই সীমাবদ্ধ. তবে আমরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারি যখন সংবাদপত্রের দাম বড় বেশি হবে. অতএব বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলবে, কারা কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করবে – তার উপর.

তবে তা সত্ত্বেও সংবাদপত্র শুধুমাত্র সীমাবদ্ধ পাঠকদের সংবাদ মাধ্যমে পরিবর্তিত হবে না. নিকোলাই নিকিফোরোভ বিশেষ করে উল্লেখ করছেন, যে বাজারের আইনই ঠিক করবে, যে কিসের মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহ সুবিধাজনক এবং রেডিওকেও লোকে ভুলে যাবে না.

আমি ভুলে যাওয়ার কোনো কারণ দেখি না. প্রত্যেক গাড়ীতে প্রত্যেকে বিভিন্ন বেতারতরঙ্গ শোনে, যারাও নিয়মিত বদলাচ্ছে. অনেকেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে অফিসে বা বাড়িতে রেডিও শোনে. ডিজিট্যাল ফরম্যাটের দৌলতে আমরা বেতার সম্প্রচারনের ওপর নির্ভরতা থেকে ক্রমশঃ মুক্তি পাচ্ছি. বর্তমানে এটা স্বাভাবিক পথ. সবশেষে ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে নবনিযুক্ত মন্ত্রী নিকোলাই নিকিফোরভ বলছেন, যে ২০-৩০ বছর পরে কি পরিস্থিতি তৈরি হবে এই ক্ষেত্রে সেটা আজকে কেউ বলতে পারবে না, তবে সব সংবাদ মাধ্যমই কোনো না কোনো রূপে টিঁকে থাকবে.