ভারতীয় দূরদর্শন ‘ব্যাটেল ফর রোয়েরিখ’ নামক একটা ডকুমেন্টারি ফিল্ম প্রদর্শন করেছে. দিল্লীর বেসরকারী টেলিকোম্পানীটি আজ থেকে কয়েকবছর ধরে বিশ্বের দূরদর্শন চ্যানেলগুলোর জন্যে নিয়মিত কি ঘটছে, সেই সম্পর্কে অবহিত রাখে. অতএব দূরদর্শন সংবাদদাতার মনোযোগ কি আকৃষ্ট করলো এবার গত শতাব্দীতে ভারতে আসা চিত্রকর রোয়েরিখের, যিনি পরিবার নিয়ে কুলু উপত্যকার নাহার গঞ্জে বাসা বেধেঁছিলেন. বর্তমানে রোয়েরিখের নামাঙ্কিত ট্রাস্ট তার সম্পত্তির দেখভাল করে সেখানে. ‘ব্যাটেল ফর রোয়েরিখ’ কৌতুহলদ্দীপক ও চিন্তাজনক. কেন ফিল্মটির অরকম নাম দেওয়া হয়েছে, আসুন বিক্রম বহলের কাছ থেকে শোনা যাক.

বিক্রম বহল বলছেন, যে সংবাদ মাধ্যমে রোয়েরিখের নামাঙ্কিত ট্রাস্টের সদস্যদের মধ্যে গোলোযোগের অনেক খবর পাওয়া যাচ্ছে. রোয়েরিখ ও তার সৃজন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরূত্বপূর্ণ. নিকোলাই রোয়েরিখ ভারতবর্ষকেই তার ও পরিবারের বাসভূমি হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন. এখানে তিনি বহু ছবি এঁকেছেন, অনেক বই লিখেছেন. রোয়েরিখের সাথে আলাপ করার জন্য জওহরলাল নেহেরু তাঁর কন্যা ইন্দিরাকে নিয়ে নাহারে গেছিলেন. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে তাঁর নিয়মিত পত্রবিনিময়ও সুবিদিত. রোয়েরিখের সাথে সম্পর্কিত সবকিছু ভারতীয়দের জন্য আগ্রহোদ্দীপক. আমি চেষ্টা করেছি, ট্রাস্টের সমস্যার সমীক্ষা করতে, সেই জন্যই নাহারে গেছিলাম.

কুলু উপত্যকার চারপাশে বরফে ঢাকা হিমালয়, যার ছবি এঁকেছেন নিকোলাই রোয়েরিখ, ঐ দৃশ্য মুগ্ধ করে. নাহারে রোয়েরিখদের নিজস্ব বাংলোয় ‘উরুস্বতী’ নামক হিমালয় গবেষণার ইনস্টিটিউট খোলা হয়েছে. নিকোলাই রোরেরিখ অঙ্কিত ৭ হাজার ছবির মধ্যে সাতশো তিনি এঁকেছিলেন কুলুতে. বহু ছবিই তাদের বাংলোয় সংরক্ষিত আছে. তাছাড়াও তার সাহিত্যিক রচনাবলী, তার দার্শনিক সব প্রবন্ধ, বিশ্ববিখ্যাত রোয়েরিখের চুক্তির বয়ানও, যেখানে যুদ্ধের সময় ও শান্তিপূর্ণ সময়েও সংস্কৃতির সব স্মৃতিস্তম্ভ রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে সংরক্ষিত আছে. আরও সেখানে আছে তার স্ত্রী ইলেনার রচনাবলীর পান্ডুলিপি, তার দুই পুত্র ইউরি ও স্ভেতোস্লাভের আঁকা ছবি ও গবেষণামুলক কাজকর্ম. পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছরে প্রায় ১ লক্ষ পর্যটক আসে. উক্ত ফিল্মে আমরা তাদের কারো কারো মতামত ও ইম্প্রেশন সম্পর্কে জানতে পারবো. তাছাড়াও রুশী সংগঠক আলিওনা আদামকোভা সংগঠিত নাহারের আশেপাশের এলাকার বাচ্চাদের ছবি আঁকা শেখার কোর্সের সাথেও পরিচিত হবো.

বিগত ১০ বছর ধরে আদামকোভা স্থানীয় জনসাধারনের সহায়তায় রোয়েরিখদের উইল পূরণ করার চেষ্টা করছেন, যাতে ওখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষাকেন্দ্র ও গবেষণাগার খোলা যায়. কিন্তু হিমাচল প্রদেশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম কুমার জুমালের আদেশ অনুযায়ী, যিনি ঐ ট্রাস্টের অধ্যক্ষ, আদামকোভার সাথে কন্ট্রাক্টের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি. ফিল্মটির পরিচালক বিক্রম বহল তার নিজস্ব মতামত জানিয়েছেন ট্রাস্টের বর্তমান ও ভবিষ্যত সম্পর্কে. আমরা ভারতে রুশী রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দর কাদাকিনের সাথেও পরিচিত হবো, যিনি স্ভেতোস্লাভ রোয়েরিখের উইল অনুযায়ী আজীবন ট্রাস্টের তত্ত্বাবধায়ক থাকবেন এবং যারা রুশীদের ঐ ট্রাস্ট থেকে সরাতে চায়, তাদের সম্পর্কেও জানতে পারবো.

বিক্রম বহল বলে চলেছেন, কে ঠিক আর কে বেঠিক, আমি তার বিচার করতে চাই না. আমার মনে হয় সব পক্ষই ট্রাস্টের বিকাশ ঘটাতে চায়, কিন্তু বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে তার মূল্যায়ণ করে.

তবুও আমাদের জন্য আগ্রহোদ্দীপক বিক্রম বহলের ব্যক্তিগত মতামত, ট্রাস্টের কাজে রুশীদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে.

বিক্রম বহল বলছেন, যে রোয়েরিখরা রাশিয়ার জাতীয় নায়ক. আর তাই আন্তর্জাতিক রোয়েরিখ ট্রাস্টের কর্মকান্ডে যোগদান করা উচিত সেই সব রুশীদের, যারা রোয়েরিখ পরিবার সম্পর্কে গবেষণা করে, অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের. নিজস্ব সৃজন ও কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিকোলাই রোয়েরিখ সারা বিশ্বের জন্য রেখে গেছেন শিল্পের বিশাল উত্তরাধিকার, যা সংরক্ষণ করা ও তার বিকাশ ঘটানোর জন্য রোয়েরিখ সংকলিত চুক্তিও গুরূত্বপূর্ণ. তাদের উত্তরাধিকার সযত্নে রক্ষা করা দরকার, যাতে সারা বিশ্ববাসীর কাছে সে সব দ্রষ্টব্য হতে পারে.

রোয়েরিখ পরিবারের উত্তরাধিকার রক্ষা করার জন্য লড়াই সমানে চলছে. ‘রেডিও রাশিয়া’ তার বেতার সম্প্রচারনে ও ওয়েব-সাইটে ১০ মিনিটের একটা ফিল্ম বসিয়েছে, ঐ ফিল্মটা, যেটা তুলেছেন বিক্রম বহল.