১৯শে জুন রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান রবার্ট মুডের রিপোর্ট শুনবে, তার পরে এই দেশে কাজ কর্মের জন্য পরবর্তী পরিকল্পনা স্থির করবে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের মিশন প্রথমবার নিজেদের কাজকর্ম নিয়ে এপ্রিল মাসের শেষে সিরিয়াতে তাদের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে বিবরণ দেবে.

গত শনিবারে রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে পাঠানো পর্যবেক্ষকরা ঘোষণা করেছেন সিরিয়াতে হিংসার বৃদ্ধি হওয়ার কারণে নিজেদের কাজকর্ম বন্ধ হওয়ার কথা. এই প্রসঙ্গে রবার্ট মুড ঘোষণা করেছেন যে, সিরিয়ার বিরোধের দুই পক্ষই এই সঙ্কটের যুদ্ধ দিয়ে সমাধানের দিকে প্রবণতা দেখাচ্ছে, শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নয়.

এই বৈঠকের আগে মস্কো আবারও সিরিয়াতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মিশনের কাজ দ্রুত পুনরারম্ভ করার জন্য বলেছে. এই প্রসঙ্গে খুবই জোর দিয়ে সিরিয়ার প্রশাসন ও সশস্ত্র বিরোধী পক্ষকে বিনা বাধায় ও নিরাপদ ভাবে মিশনের কর্মীদের সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতে যেতে দিতে বলেছে. আর তার মধ্যে রয়েছে অগ্নি সম্বরণ করা ও সেই সব জায়গায় শান্তি পূর্ণ আলোচনার বন্দোবস্ত করা.

সব দেখে শুনে মনে হয়েছে, এই অবস্থান রাশিয়ার প্রতিনিধিরা নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকেও সমর্থন করবেন. আশা আরও করা হয়েছে যে, মস্কো রাষ্ট্রসঙ্ঘের মঞ্চকে ব্যবহার করবে সিরিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আহ্বান করার জন্য. তার মূল লক্ষ্য ঘোষিত হয়েছে – রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থিত কোফি আন্নানের শান্তি পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করার জন্য বিরোধের উভয় পক্ষের উপরেই সিরিয়াতে চাপ সৃষ্টি করা.

স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“এমন একটা পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে, যখন পশ্চিম সিরিয়ার প্রশাসনের সঙ্গে একটা এসপার ওসপার করতে চায়, কিন্তু তা পেরে উঠছে না নির্দিষ্ট ভূ- রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেই. আর এখানে এই প্রশ্নে চিন ও রাশিয়ার অবস্থানের প্রশংসা করতেই হবে. কারণ তাদের জন্যই নিকট প্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ও শেষ অবধি মাত্সান্যায়ে পরিণত হওয়া থেকে রেহাই পেয়েছে”.

সিরিয়ার বিরোধ বাড়ার পরিস্থিতিতে তাদের বন্দরের দিকে যেতে তৈরী হয়েছে রাশিয়ার যুদ্ধ জাহাজের দল. এই প্রসঙ্গে সোমবারে রাশিয়ার নৌবাহিনীর প্রধান দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে. আর ব্যাখ্যা করা হয়েছে – ভূমধ্য সাগরে পরিকল্পনা ছাড়াই বিশেষ কাজ করতে রাশিয়ার যুদ্ধ জাহাজের দল চলেছে তার্তুস বন্দরের দিকে. সেখানে রাশিয়ার নৌবাহিনীর রসদ ও প্রযুক্তি সরবরাহের জন্য ঘাঁটি রয়েছে. এই সূত্র থেকে জানানো হয়েছে যে, এই খানে যাওয়ার জন্য দুটি বড় নৌবাহিনীর পদাতিক সেনা সহ জাহাজ ও ত্রাণের জন্য গাধাবোট পাঠানো হচ্ছে. এই যুদ্ধ জাহাজ গুলিতে প্রচুর পরিমানে সামুদ্রিক সৈন্য থাকবেন. তাঁরা প্রয়োজনে সিরিয়াতে রাশিয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষা করবেন ও এই রসদ ও প্রযুক্তি সরবরাহের কেন্দ্রের সম্পত্তির কিছু অংশ ফেরত নিয়ে আসবেন.

এর আগে জানানো হয়েছিল যে, মে মাসে সিরিয়ার উপকূল অঞ্চলে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য রকেট বাহী ক্রুইজার জাহাজ “মস্কো” ভূমধ্য সাগরে টহল দিতে পাঠানো হয় নি.